জগন্নাথপুরে বেপরোয়া গতিতে চলছে মোটরসাইকেল, বাড়ছে হতাহতের ঘটনা
জগন্নাথপুরে বেপরোয়া গতিতে চলছে মোটরসাইকেল, বাড়ছে হতাহতের ঘটনা
সুনামগঞ্জের পাগলা জগন্নাথপুর আউশকান্দি ঢাকা আঞ্চলিক মহাসড়কসহ জগন্নাথপুর উপজেলার বিভিন্ন সড়কে মোটর সাইকেল চালকেরা বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর ফলে বাড়ছে দুর্ঘটনা।
এই সব দুর্ঘটনায় বেশিরভাগ প্রাণ হারাচ্ছেন উঠতি বয়সের ছেলেরা। দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারে শোকের মাতম আর আহতদের পরিবারগুলো উদ্বেগ উৎকন্ঠায় কাটাচ্ছেন দিনরাত। অনেক পরিবার চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে অর্থনৈতিকভাবে নি:শ্ব হয়ে পড়ছেন। দুর্ঘটনায় আহত অনেকেই পঙ্গুত্ব বরণ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গত কয়েক বছরে নিবন্ধিত মোটরসাইকেল এর পাশাপাশি অনিবন্ধিত মোটর সাইকেলের সংখ্যা কয়েকগণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এসব অনিবন্ধিত মোটরসাইকেলর সংখ্যা বৃদ্ধি পায় বলে স্থানীয়রাজানান।
অভিজ্ঞরা মনে করেন, সরকারের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে আঞ্চলিক মহাসড়কে অনিবন্ধিত মোটর সাইকেল অবাধে চলাচল, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থা, আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, অপ্রাপ্তবয়স্ক ও অদক্ষ চালক, অন্য যানকে পিছে ফেলার চেষ্টা, চলন্ত অবস্থায় ফোনে আলাপ, যথাযথ হেলমেট ব্যবহার না করার কারণে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি বাড়ছে।
বর্তমানে সড়কে যত হতাহতের ঘটনা ঘটছে, তার ৪০ শতাংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় হচ্ছে। জগন্নাথপুরে ট্রাফিক পুলিশের কমকর্তারা জানান, বাইক চালকদের অধিকাংশের বয়স ১৪-১৮ বছরের মধ্যে। শখ পূরণে অনেক অভিভাবকই কম বয়সী সন্তানদের হাতে আধুনিক মডেলের উচ্চগতির মোটরসাইকেল তুলে দিচ্ছেন।
কিশোরদের অনেকেই কোনো নিয়ম না মেনে বেপরোয়াভাবে মোটরসাইকেল চালিয়ে এসব দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। এতে একদিকে তারা নিজেরা যেমন হতাহত হচ্ছে, অন্যদিকে তাদের কারণে দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন সাধারণ পথচারীরাও। এদিকে ট্রাফিক পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতায় থাকা মোটরসাইকেল চালকরাও তাদের খেয়াল খুশী মতে মোটরসাইকেল যোগে যাতায়াত করছেন।
অনুসন্ধানে জানাযায়, গত ৬ জানুয়ারী পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহা সড়কের সিচনী এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় রাজিন আহমদ (২৬), আমিরুল ইসলাম (৫০) নিহত হন।
৩ জুন দূর্গাপাশা এলাকায় বেপরোয়া বাসের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী ২ যুবক নিহত হয়। ২৩ জুলাই বন্ধুদের সাথে ঘুরতে গিয়ে পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহা সড়কের জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের সুবিদপুর এলাকায় খাইরুল ইসলাম (২২) নিহত ও তার অপর দুই বন্ধু রাজন মিয়া (২১), হৃদয় আহমদ (২২) গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
২৮ জুলাই আঞ্চলিক মহাসড়কের জগন্নাথপুর পৌর এলাকায় দুই মোটর সাইকেলের সংঘর্ষে অনিক দাস (৩০) ও কৌশল গোস্মামী (৩৫) গুরুতর আহত হন। এছাড়াও প্রতিনিয়ত পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহা সড়কে মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে। জগন্নাথপুর পৌর বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক তকবুর মিয়া জানান, আবদার পূরণে অভিভাবকরা কিশোর-তরুণদের হাতে মোটরসাইকেল তুলে দিচ্ছেন।
তরুণদের অনেকে দক্ষতা অর্জন না করে এবং নিয়ম না জেনেই মোটরসাইকেল নিয়ে মহাসড়কে যাতায়াত করছে। মহাসড়কে গিয়ে আবার সেটিকে তারা রেসিং বানিয়ে রেসিংয়ের ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করা হচ্ছে।
এসব ভিডিও দেখে প্রভাবিত হচ্ছেন আরও অনেকে। এতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বাড়ছে। সুনামগঞ্জ- পাগলা-জগন্নাথপুর-আউশকান্দি আঞ্চলিক মহা সড়ক চালু হওয়ার পর থেকে এ মহাসড়কে প্রায়ই ভয়াবহ মোটর সাইকেল দুর্ঘটনা ঘটছে। জগন্নাথপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূইয়া জানান, ইদানিং জগন্নাথপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়ে প্রাণহানীর ঘটনা ঘটছে, যা অত্যান্ত দু:খজনক। অচিরেই অবৈধ মোটর সাইকেল এবং অদক্ষ চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে। ###
















