০৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বর্ষার আগেই আবার রাস্তা কাটবে ওয়াসা বরাদ্দ বাড়ল আরও ১ কোটি টাকা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

চট্টগ্রাম নগরীতে বছরজুড়েই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত চট্টগ্রাম ওয়াসা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এর মধ্যেই আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাইপলাইন স্থাপন ও রাস্তা খননের জন্য আগামী অর্থবছরে আরও ১ কোটি টাকার প্রাক্কলিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরেই একই খাতে ২ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াসার এক বোর্ড সভায় আগের অর্থবছরের বরাদ্দ ও ব্যয় এবং চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট নিয়ে আলোচনা শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কলিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির জন্য ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অপরদিকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এ খাতে প্রাক্কলিক বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওয়াসার রাস্তা খনন ও সংস্কার বাবদ ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে এ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এদিকে রাস্তা কাটার পর সময়মতো সংস্কার ব্যয় পরিশোধের বিষয়ে ওয়াসার দাবি থাকলেও ভিন্ন কথা বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমতি ছাড়া রাস্তা কেটে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে সিটি কর্পোরেশন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। ওয়াসার সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়িতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নষ্ট হচ্ছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। কোন সড়ক টেন্ডারের আওতায় আছে বা নতুন করে নির্মাণ হবে, তার তালিকা ওয়াসাকে দেওয়া হবে। ওই সড়কগুলোতে কোনোভাবেই কাটাকাটি করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সড়ক খননের পর সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের আগে ওয়াসাকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে—কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং সংস্কারে প্রকৃত খরচ কত। অন্যথায় একতরফাভাবে দায়ভার নেবে না সিটি কর্পোরেশন।

মেয়র অভিযোগ করে বলেন, ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কারণে নগরীতে ব্যাপক জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ওয়াসার দাবি অনুযায়ী তারা ৯৩ কিলোমিটার সড়ক কেটেছে এবং এর মধ্যে ৪৮ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ জন্য ৮২ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বাস্তবে সড়ক সংস্কারে এর দুই থেকে তিন গুণ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নতুন রাস্তা শেষ করার পরই ওয়াসা আবার সেখানে খনন শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করেই রাস্তা কাটি এবং সংস্কার ব্যয় সময়মতো পরিশোধ করি। সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী বাজেটে বর্ষা শুরুর আগেই পাইপলাইন স্থাপন ও রাস্তা কাটার কাজ শুরু করবে ওয়াসা।’

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

বর্ষার আগেই আবার রাস্তা কাটবে ওয়াসা বরাদ্দ বাড়ল আরও ১ কোটি টাকা

আপডেট: ১২:১১:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

চট্টগ্রাম নগরীতে বছরজুড়েই রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িতে ব্যস্ত চট্টগ্রাম ওয়াসা। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ নগরবাসী। এর মধ্যেই আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে পাইপলাইন স্থাপন ও রাস্তা খননের জন্য আগামী অর্থবছরে আরও ১ কোটি টাকার প্রাক্কলিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরেই একই খাতে ২ কোটির বেশি টাকা ব্যয় করা হয়েছে।

সম্প্রতি ওয়াসার এক বোর্ড সভায় আগের অর্থবছরের বরাদ্দ ও ব্যয় এবং চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট নিয়ে আলোচনা শেষে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কলিক বাজেট নির্ধারণ করা হয়।

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির জন্য ২ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। অপরদিকে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য এ খাতে প্রাক্কলিক বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১ কোটি টাকা।

এর আগে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ওয়াসার রাস্তা খনন ও সংস্কার বাবদ ব্যয় হয়েছে ৮২ লাখ ১৮ হাজার টাকা। এছাড়া ২০২৫ সালের শেষ ছয় মাসে এ খাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৩ লাখ ১৫ হাজার টাকা।

এদিকে রাস্তা কাটার পর সময়মতো সংস্কার ব্যয় পরিশোধের বিষয়ে ওয়াসার দাবি থাকলেও ভিন্ন কথা বলেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি অনুমতি ছাড়া রাস্তা কাটলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর এক সভায় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অনুমতি ছাড়া রাস্তা কেটে জনভোগান্তি সৃষ্টি করলে সিটি কর্পোরেশন আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে। ওয়াসার সমন্বয়হীন খোঁড়াখুঁড়িতে কোটি কোটি টাকার উন্নয়ন কাজ নষ্ট হচ্ছে এবং নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়ছে। কোন সড়ক টেন্ডারের আওতায় আছে বা নতুন করে নির্মাণ হবে, তার তালিকা ওয়াসাকে দেওয়া হবে। ওই সড়কগুলোতে কোনোভাবেই কাটাকাটি করা যাবে না।

তিনি আরও বলেন, সড়ক খননের পর সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তরের আগে ওয়াসাকে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দিতে হবে—কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে এবং সংস্কারে প্রকৃত খরচ কত। অন্যথায় একতরফাভাবে দায়ভার নেবে না সিটি কর্পোরেশন।

মেয়র অভিযোগ করে বলেন, ওয়াসার স্যুয়ারেজ প্রকল্পের কারণে নগরীতে ব্যাপক জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে। ওয়াসার দাবি অনুযায়ী তারা ৯৩ কিলোমিটার সড়ক কেটেছে এবং এর মধ্যে ৪৮ কিলোমিটার সংস্কারের জন্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ জন্য ৮২ কোটি টাকা দেওয়া হলেও বাস্তবে সড়ক সংস্কারে এর দুই থেকে তিন গুণ ব্যয় করতে হচ্ছে। অনেক জায়গায় নতুন রাস্তা শেষ করার পরই ওয়াসা আবার সেখানে খনন শুরু করেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা সিটি কর্পোরেশনকে অবহিত করেই রাস্তা কাটি এবং সংস্কার ব্যয় সময়মতো পরিশোধ করি। সমন্বয়ের কোনো ঘাটতি নেই। আগামী বাজেটে বর্ষা শুরুর আগেই পাইপলাইন স্থাপন ও রাস্তা কাটার কাজ শুরু করবে ওয়াসা।’