০৮:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র বিক্রিসহ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

★ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডির মূল্য ৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।

★ চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন তিনজন।

★ মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৮ দিন এবং প্রচারণার জন্য ২০ দিন সময় নির্ধারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়। ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি, ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডির মূল্য নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী শনিবার গনমাধ্যম কর্মিদের জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতির বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে ঢাকা থেকে মনোনয়ন ফরম আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র নির্ধারণ, বুথ প্রস্তুতি এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের যাবতীয় কাজ গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুথ ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর।

মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এবার মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৮ দিন এবং প্রচারণার জন্য ২০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন জানান, শুক্রবার ও শনিবার এখনো কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তিনি বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রার্থীরা সাধারণত শেষের দিকে এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এবারও তাই হতে পারে। তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”

জামানত ৫০ হাজার টাকাঃ

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের আগে প্রার্থীদের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আসনভিত্তিক ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি সংগ্রহ করতে হবে।

একই সঙ্গে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হবে। এর আগে জামানতের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার টাকা।

ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডির মূল্যঃ

চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) ১৭ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) ১৮ হাজার, চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) ১২ হাজার, চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড) ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী ও চসিক ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) ১৩ হাজার, চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) ১১ হাজার ৫০০, চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) ১২ হাজার, চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর চান্দগাঁও-বায়েজিদ আংশিক) ১১ হাজার ৫০০ টাকা।

চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) ৭ হাজার, চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী-পাঁচলাইশ) ৪ হাজার, চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট) ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) ১৩ হাজার, চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) ৮ হাজার, চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) ১৬ হাজার, চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) ১৪ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনের সিডির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা।

তিনজন রিটার্নিং অফিসারঃ

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে তিনজন রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। চট্টগ্রাম–৪, ৫, ৮, ৯ ও ১০ আসনে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম–১, ২, ৩, ৬, ৭, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ আসনে জেলা প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম–১১ আসনে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।

২৫ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসারঃ

১৬টি আসনে মোট ২৫ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় এই দায়িত্ব পালন করবেন।

সাতকানিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি চট্টগ্রাম–১৪ এবং অপর ছয়টি চট্টগ্রাম–১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় আসনেই সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০২:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫
২৬

চট্টগ্রামে মনোনয়নপত্র বিক্রিসহ নির্বাচনের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন

আপডেট: ০২:২৫:৪১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৫

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

★ আসনভিত্তিক ভোটার তালিকার সিডির মূল্য ৪ হাজার থেকে ১৮ হাজার টাকা।

★ চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন তিনজন।

★ মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৮ দিন এবং প্রচারণার জন্য ২০ দিন সময় নির্ধারণ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বিক্রি ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়। ইতোমধ্যে গণবিজ্ঞপ্তি জারি, ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডির মূল্য নির্ধারণসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রামের আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন চৌধুরী শনিবার গনমাধ্যম কর্মিদের জানান, নির্বাচন সংক্রান্ত প্রস্তুতির বড় অংশ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। জেলা নির্বাচন কার্যালয়গুলোতে ঢাকা থেকে মনোনয়ন ফরম আসতে শুরু করেছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ কেন্দ্র নির্ধারণ, বুথ প্রস্তুতি এবং ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, “ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের যাবতীয় কাজ গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। বুথ ও ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের তালিকা প্রণয়নের কাজ চলছে।”

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ ও গণভোটের তফসিল ঘোষণা করেন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ২৯ ডিসেম্বর।

মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি এবং ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে।

এবার মনোনয়নপত্র জমার জন্য ১৮ দিন এবং প্রচারণার জন্য ২০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াত হোসাইন জানান, শুক্রবার ও শনিবার এখনো কেউ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেননি। তিনি বলেন, “অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, প্রার্থীরা সাধারণত শেষের দিকে এসে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এবারও তাই হতে পারে। তবে আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।”

জামানত ৫০ হাজার টাকাঃ

নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের আগে প্রার্থীদের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে আসনভিত্তিক ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি সংগ্রহ করতে হবে।

একই সঙ্গে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে ৫০ হাজার টাকা জামানত জমা দিতে হবে। এর আগে জামানতের পরিমাণ ছিল ২০ হাজার টাকা।

ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডির মূল্যঃ

চট্টগ্রাম–১ (মীরসরাই) ১৭ হাজার টাকা, চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) ১৮ হাজার, চট্টগ্রাম–৩ (সন্দ্বীপ) ১২ হাজার, চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চসিক ৯ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ড) ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম–৫ (হাটহাজারী ও চসিক ১ ও ২ নম্বর ওয়ার্ড) ১৩ হাজার, চট্টগ্রাম–৬ (রাউজান) ১১ হাজার ৫০০, চট্টগ্রাম–৭ (রাঙ্গুনিয়া) ১২ হাজার, চট্টগ্রাম–৮ (বোয়ালখালী ও নগরীর চান্দগাঁও-বায়েজিদ আংশিক) ১১ হাজার ৫০০ টাকা।

চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) ৭ হাজার, চট্টগ্রাম–১০ (পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী-পাঁচলাইশ) ৪ হাজার, চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর-পতেঙ্গা-সদরঘাট) ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম–১২ (পটিয়া) ১৩ হাজার, চট্টগ্রাম–১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) ৮ হাজার, চট্টগ্রাম–১৪ (চন্দনাইশ ও সাতকানিয়া আংশিক) ১৬ হাজার, চট্টগ্রাম–১৫ (লোহাগাড়া ও সাতকানিয়া আংশিক) ১৪ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম–১৬ (বাঁশখালী) আসনের সিডির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১১ হাজার ৫০০ টাকা।

তিনজন রিটার্নিং অফিসারঃ

চট্টগ্রামের ১৬টি সংসদীয় আসনে তিনজন রিটার্নিং অফিসার দায়িত্ব পালন করবেন। চট্টগ্রাম–৪, ৫, ৮, ৯ ও ১০ আসনে বিভাগীয় কমিশনার, চট্টগ্রাম–১, ২, ৩, ৬, ৭, ১২, ১৩, ১৪ ও ১৫ আসনে জেলা প্রশাসক এবং চট্টগ্রাম–১১ আসনে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।

২৫ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসারঃ

১৬টি আসনে মোট ২৫ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট থানা নির্বাচন কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় এই দায়িত্ব পালন করবেন।

সাতকানিয়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ছয়টি চট্টগ্রাম–১৪ এবং অপর ছয়টি চট্টগ্রাম–১৫ আসনের অন্তর্ভুক্ত।

সাতকানিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উভয় আসনেই সহকারী রিটার্নিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করবেন।