১২:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে হার্ডলাইনে সরকার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

★ আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল।
★ শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের ডাক স্বত্তেও বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে রোববার দুপুর থেকে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যাবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বন্দরকে জিম্মি করার যে চেষ্টা চলছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। কয়েকদিন পরই রমজান মাস। বহির্নোঙরে ছোলা, ডাল ও তেলবোঝাই জাহাজ পড়ে আছে। ১৮ কোটি মানুষকে তারা জিম্মি করছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, বন্দরের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।”

তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি পক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোনো অবস্থায় নির্বাচন বিঘ্নিত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বন্দর চেয়ারম্যান।

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর ফলে জেটি ও বহির্নোঙরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের পরিচালকের (প্রশাসন) সই করা এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ তাদের বরাদ্দকৃত বাসা বাতিল করা হয়েছে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ১৫ জন কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছিল। বদলির পরও তারা কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাদের বরাদ্দকৃত বাসা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন— সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, শামসু মিয়া, লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও রাব্বানী।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দর সচিবের সই করা এক চিঠিতে এই ১৫ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের পাশাপাশি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আন্দোলন দমাতে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদের দুইজন নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

রমজান সামনে রেখে যেকোনো মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা হবে বলে সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে রোববার দুপুর থেকে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখতে হার্ডলাইনে সরকার

আপডেট: ১২:৫৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকে:

★ আন্দোলনে জড়িত ১৫ কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল।
★ শ্রমিকদের লাগাতার আন্দোলনের ডাক স্বত্তেও বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে রোববার দুপুর থেকে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

চট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘট চলতে দেওয়া যাবে না বলে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বন্দরকে জিম্মি করার যে চেষ্টা চলছে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “কতিপয় লোক পুরো বন্দরকে জিম্মি করার চেষ্টা করছে। কয়েকদিন পরই রমজান মাস। বহির্নোঙরে ছোলা, ডাল ও তেলবোঝাই জাহাজ পড়ে আছে। ১৮ কোটি মানুষকে তারা জিম্মি করছে। এটা চলতে দেওয়া যায় না। সরকার কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে।”তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং যারা বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে চট্টগ্রাম বন্দরের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম মনিরুজ্জামান দাবি করেছেন, বন্দরের পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। রোববার দুপুরে বন্দর ভবনের সামনে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ বিশৃঙ্খলা করলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে।”

তিনি জানান, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। একটি পক্ষ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য বন্দরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। কোনো অবস্থায় নির্বাচন বিঘ্নিত করা যাবে না বলেও মন্তব্য করেন বন্দর চেয়ারম্যান।

এনসিটি পরিচালনার দায়িত্ব আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চার দফা দাবিতে রোববার সকাল ৮টা থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট শুরু করে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ। এর ফলে জেটি ও বহির্নোঙরের কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে পড়ে।
এরই মধ্যে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৫ কর্মচারীর বাসা বরাদ্দ বাতিল করেছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) বন্দরের পরিচালকের (প্রশাসন) সই করা এক আদেশে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চিফ পারসোনেল কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আজ তাদের বরাদ্দকৃত বাসা বাতিল করা হয়েছে।”
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই ১৫ জন কর্মচারীকে গত ২ ফেব্রুয়ারি জনস্বার্থে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয়েছিল। বদলির পরও তারা কর্মস্থলে যোগদান না করায় তাদের বরাদ্দকৃত বাসা বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এই ১৫ জনের মধ্যে রয়েছেন— সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ ফরিদুর রহমান, মোহাম্মদ শফি উদ্দিন, রাশিদুল ইসলাম, আবদুল্লাহ আল মামুন, জহিরুল ইসলাম, খন্দকার মাসুদুজ্জামান, হুমায়ুন কবীর (এসএস পেইন্টার), শাকিল রায়হান, মানিক মিঝি, শামসু মিয়া, লিয়াকত আলী, আমিনুর রসুল বুলবুল ও রাব্বানী।

এর আগে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বন্দর সচিবের সই করা এক চিঠিতে এই ১৫ জনের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের পাশাপাশি দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অনুরোধ জানানো হয়।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আন্দোলন দমাতে বন্দর ও আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং তাদের দুইজন নেতাকে তুলে নেওয়া হয়েছে।

রমজান সামনে রেখে যেকোনো মূল্যে চট্টগ্রাম বন্দর সচল রাখা হবে বলে সরকার পুনর্ব্যক্ত করেছে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে রোববার দুপুর থেকে অনেক শ্রমিক কাজে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।