০৩:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের শীতবস্ত্র বিতরণ

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে শ্রমিক, ভাসমান ও প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী অসহায় মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছরের মতো এবারও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংগঠন চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় নগরীর মাঝিরঘাটস্থ বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং বি-২১৪৩) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সংগঠনের উদ্যোগে ৫০০ জন শ্রমিক, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসিএ)-এর আহ্বায়ক হাজী শফি আহমেদ। তিনি বলেন, শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শীতবস্ত্র বিতরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ। শীতের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার মাস্টার। তিনি বলেন, কনকনে শীতের মধ্যেও শ্রমিকরা নৌ-শিল্পসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অথচ এখনো শ্রমিকদের গেজেট অনুযায়ী বেতন ও ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এ থেকে উত্তরণে শ্রমিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, এমভি আল বাকেরা জাহাজসহ বিভিন্ন ঘটনায় সংঘটিত শ্রমিক হত্যার বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে নৌ-পথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ড্রাইভারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আকতার জামাল মাস্টারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো.শাহ আলম, নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাবুল ইসলাম হিরু, পদ্মা ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুল ইসলাম মাস্টারসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা চট্টগ্রাম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ উল্লেখ করে গোপন চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগকে জাতীয় ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে লালদিয়ার চর মার্স্কের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সভা শেষে ৫০০ জন শ্রমিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ এবং দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাঝিরঘাট বিবি মসজিদের খতিব মাওলানা আজহাব উদ্দিন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১১:০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
১৭

চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের শীতবস্ত্র বিতরণ

আপডেট: ১১:০২:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

শীতের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে চট্টগ্রামে শ্রমিক, ভাসমান ও প্রান্তিক মানুষের দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। খোলা আকাশের নিচে বসবাসকারী অসহায় মানুষের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। এমন পরিস্থিতিতে প্রতি বছরের মতো এবারও শীতার্ত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে শ্রমিক সংগঠন চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়ন।

রোববার (৪ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় নগরীর মাঝিরঘাটস্থ বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন (রেজি নং বি-২১৪৩) চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে এক শ্রমিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে সংগঠনের উদ্যোগে ৫০০ জন শ্রমিক, অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট কো-অর্ডিনেশন সেল (বিডব্লিউটিসিসিএ)-এর আহ্বায়ক হাজী শফি আহমেদ। তিনি বলেন, শীতার্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে শীতবস্ত্র বিতরণ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মানবিক উদ্যোগ। শীতের এই কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ সিকদার মাস্টার। তিনি বলেন, কনকনে শীতের মধ্যেও শ্রমিকরা নৌ-শিল্পসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। অথচ এখনো শ্রমিকদের গেজেট অনুযায়ী বেতন ও ন্যায্য মজুরি বাস্তবায়ন হয়নি। শ্রমিকরা প্রতিনিয়ত লাঞ্ছনা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এ থেকে উত্তরণে শ্রমিকদের ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সভাপতি এম নুরুল হুদা চৌধুরী বলেন, এমভি আল বাকেরা জাহাজসহ বিভিন্ন ঘটনায় সংঘটিত শ্রমিক হত্যার বিচার, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিহত শ্রমিকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। একই সঙ্গে নৌ-পথে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন মজুরি কাঠামো বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

চট্টগ্রাম লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান ড্রাইভারের সভাপতিত্বে এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আকতার জামাল মাস্টারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন—চট্টগ্রাম জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সদস্যসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মো.শাহ আলম, নির্বাহী সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আফতাবুল ইসলাম হিরু, পদ্মা ট্রান্সপোর্টের স্বত্বাধিকারী মো. মিজানুর রহমান, বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ইউনিয়ন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার, কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মনিরুল ইসলাম মাস্টারসহ শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা চট্টগ্রাম নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনালকে দেশের অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সম্পদ উল্লেখ করে গোপন চুক্তির মাধ্যমে বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগকে জাতীয় ও শ্রমিক স্বার্থবিরোধী ষড়যন্ত্র বলে আখ্যায়িত করেন। একই সঙ্গে লালদিয়ার চর মার্স্কের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করা হয়।

সভা শেষে ৫০০ জন শ্রমিক, দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ এবং দোয়া-মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন মাঝিরঘাট বিবি মসজিদের খতিব মাওলানা আজহাব উদ্দিন।