০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়ায় চিংড়িতে পুশ বিরোধী মোবাইল কোর্ট: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, দোকান সীলগালা

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি:
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়ায় চিংড়িতে পুশ বিরোধী মোবাইল কোর্ট: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, দোকান সীলগালা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে চিংড়িতে জেলি ও পানি পুশ করে ওজন বাড়ানোর অপচেষ্টা রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় এক ডিপো মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, একটি দোকান সীলগালা এবং প্রায় ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

‘মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০’ অনুযায়ী পরিচালিত এ মোবাইল কোর্ট-অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চিংড়িতে জেলি পুশ করার সময় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক বালতি জেলি, পুশ করার সরঞ্জাম ও প্রায় ১৫ কেজি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া একই এলাকায় অপর একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ কেজি পুশকৃত চিংড়ি উদ্ধার করা হলেও ঘরের মালিক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঘরটি সীলগালা করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে জব্দকৃত সকল চিংড়ি উপজেলা চত্বরে এনে বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

অভিযানে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,

“পুশকৃত চিংড়ি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ আন্তরিক। ভোক্তাদের সুরক্ষা ও দেশের চিংড়ি শিল্পের সুনাম রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চিংড়ি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি বিশ্বস্ত রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত। তবে জেলি বা পানি পুশের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো শিল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ভোক্তাদের সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে চিংড়ি শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৩:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬
১৯

খুলনার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়ায় চিংড়িতে পুশ বিরোধী মোবাইল কোর্ট: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, দোকান সীলগালা

আপডেট: ০৩:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ার খর্ণিয়ায় চিংড়িতে পুশ বিরোধী মোবাইল কোর্ট: ব্যবসায়ীকে জরিমানা, দোকান সীলগালা

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার খর্ণিয়া বাজারে চিংড়িতে জেলি ও পানি পুশ করে ওজন বাড়ানোর অপচেষ্টা রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এ সময় এক ডিপো মালিককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা, একটি দোকান সীলগালা এবং প্রায় ৪০ কেজি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এই মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়।

‘মৎস্য ও মৎস্য পণ্য (পরিদর্শন ও মান নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০২০’ অনুযায়ী পরিচালিত এ মোবাইল কোর্ট-অভিযানে নেতৃত্ব দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) অমিত কুমার বিশ্বাস ও সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান।

গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে চিংড়িতে জেলি পুশ করার সময় আব্দুর রাজ্জাক নামের এক ব্যবসায়ীকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে এক বালতি জেলি, পুশ করার সরঞ্জাম ও প্রায় ১৫ কেজি পুশকৃত চিংড়ি জব্দ করা হয়। পরে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এছাড়া একই এলাকায় অপর একটি ঘরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ২৫ কেজি পুশকৃত চিংড়ি উদ্ধার করা হলেও ঘরের মালিক পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ঘরটি সীলগালা করে দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে জব্দকৃত সকল চিংড়ি উপজেলা চত্বরে এনে বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করে মাটি চাপা দেওয়া হয়।

অভিযানে উপজেলা মৎস্য দপ্তর ও উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। ডুমুরিয়া থানা পুলিশের একটি টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।

এ বিষয়ে ডুমুরিয়ার সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সোহেল মোঃ জিল্লুর রহমান রিগান বলেন,

“পুশকৃত চিংড়ি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ এবং এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। উপজেলা প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ এ বিষয়ে সম্পূর্ণ আন্তরিক। ভোক্তাদের সুরক্ষা ও দেশের চিংড়ি শিল্পের সুনাম রক্ষায় এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।”

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের চিংড়ি দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি বিশ্বস্ত রপ্তানি পণ্য হিসেবে পরিচিত। তবে জেলি বা পানি পুশের মতো অনৈতিক কর্মকাণ্ড পুরো শিল্পকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে উপকূলীয় অঞ্চলে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, রাজনৈতিক সদিচ্ছা, ভোক্তাদের সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠলে চিংড়ি শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।