১০:৫৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে: মোদি

ভারতের সম্মান, মর্যাদা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করে—এমন শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিজয়া দশমী বা দশেরার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে।

ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুমের চাদর গলায় এবং হলুদ রঙের কুর্তা পরা মোদি দিল্লির আইপি এক্সটেনশনের ডিডিএ উৎসব ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি রাবণের কুশপুত্তলিকা দহনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশ নেন। বিজয়া দশমী হলো এমন একটি উৎসব, যা অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।

মোদি বলেন, ‘যে শক্তিগুলো দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, যারা সমাজকে বিভক্ত করে এবং যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে—তারাই দেশের শত্রু। আজ বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমাদের সংকল্প আবারও দৃঢ় করতে হবে। মা ভারতীর শত্রুদের চিনতে হবে। তাদের পরাজিত করতে হবে।’

দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রাচীন ঋষিদের শিক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, ‘আমাদের প্রাচীন ঋষিরা শিখিয়েছেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল ও সব প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

উৎসবমুখর জনতার সামনে বক্তব্যের শুরুতে রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমি  শ্রীরাম, মা জানকী এবং বজরংবলীর চরণে প্রণাম জানাই। এই পবিত্র পরিবেশে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আমার সব দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’

তিনি বলেন, ভারতের প্রতিটি প্রান্ত আজ রামময়। দেশজুড়ে রামলীলার আয়োজন,  রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার ঐতিহ্য, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার ওপর সত্যের চিরন্তন বিজয়ের বিশ্বাস—এসবই ভারতের প্রাণশক্তি। মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে এগুলো কেবল উৎসব নয়; এগুলো ভারতের জীবনশক্তি।

দেশ পরিচালনায়  রামের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ‘রামরাজ্য’ এখনো ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে নাগরিকদের কল্যাণ সবার আগে।

মোদি বলেন, ‘রামরাজ্য বলতে এমন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কারও প্রতি বৈষম্য করা হয় না, সবাই ন্যায়বিচার পায় এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে। যেখানে ক্ষমতার উদ্দেশ্য শাসন করা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এটাই  শ্রীরামের আদর্শ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে জনার্দন হিসেবে বিবেচনা করার মন্ত্র নিয়ে আমাদের সব সময় এগিয়ে যেতে হবে—‘নাগরিক, আপনিই ঈশ্বর’। দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

রামের লঙ্কা যাত্রার উদাহরণ তুলে ধরে মোদি আত্মনির্ভরতা, দৃঢ় সংকল্প ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য, নানা বাধা ও সংকটের মুখেও দেশের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা থামানো যাবে না। নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সংকট যত বড়ই হোক, চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, অন্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের শক্তি চিনতে হবে। নিজেদের সম্পদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

মোদি বলেন,  শ্রীরাম শিখিয়েছেন, পথের বাধা কখনো যাত্রা থামিয়ে দিতে পারে না। সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে; কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট। রাম সম্মিলিত জনশক্তিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, মানুষের অংশগ্রহণকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এটাই সাফল্যের মূল মন্ত্র।

বক্তব্যের শেষ দিকে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, এই উৎসব মানুষকে বিশ্বাস করতে সাহস জোগায় যে চ্যালেঞ্জ যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও মানবতারই জয় হবে। তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমী হলো বিজয়ের উৎসব। এই উৎসব আমাদের বিশ্বাস করার সাহস দেয় যে শত্রু যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমরা যখন সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে। সূত্র: এনডিটিভি

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
০

দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে: মোদি

আপডেট: ১০:০০:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের সম্মান, মর্যাদা, সামাজিক সম্প্রীতি ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষুণ্ন করে—এমন শক্তির বিরুদ্ধে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিজয়া দশমী বা দশেরার অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, দেশের শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে এবং তাদের পরাজিত করতে হবে।

ঐতিহ্যবাহী হ্যান্ডলুমের চাদর গলায় এবং হলুদ রঙের কুর্তা পরা মোদি দিল্লির আইপি এক্সটেনশনের ডিডিএ উৎসব ময়দানে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এ সময় তিনি রাবণের কুশপুত্তলিকা দহনের ঐতিহ্যবাহী আয়োজনে অংশ নেন। বিজয়া দশমী হলো এমন একটি উৎসব, যা অশুভ শক্তির ওপর শুভ শক্তির বিজয়ের প্রতীক।

মোদি বলেন, ‘যে শক্তিগুলো দেশের সম্মান ক্ষুণ্ন করে, যারা সমাজকে বিভক্ত করে এবং যারা আমাদের সংস্কৃতিকে ঘৃণা করে—তারাই দেশের শত্রু। আজ বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমাদের সংকল্প আবারও দৃঢ় করতে হবে। মা ভারতীর শত্রুদের চিনতে হবে। তাদের পরাজিত করতে হবে।’

দেশের স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি প্রাচীন ঋষিদের শিক্ষার কথাও উল্লেখ করেন। মোদি বলেন, ‘আমাদের প্রাচীন ঋষিরা শিখিয়েছেন, শত্রুদের বিরুদ্ধে সব রাজনৈতিক দল ও সব প্রতিষ্ঠানকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’

উৎসবমুখর জনতার সামনে বক্তব্যের শুরুতে রামের প্রতি শ্রদ্ধা জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমীর এই পবিত্র দিনে আমি  শ্রীরাম, মা জানকী এবং বজরংবলীর চরণে প্রণাম জানাই। এই পবিত্র পরিবেশে বিজয়া দশমী উপলক্ষে আমার সব দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই।’

তিনি বলেন, ভারতের প্রতিটি প্রান্ত আজ রামময়। দেশজুড়ে রামলীলার আয়োজন,  রামের আদর্শকে বাঁচিয়ে রাখার ঐতিহ্য, অত্যাচার ও সন্ত্রাসের অবসানের ঘোষণা এবং মিথ্যার ওপর সত্যের চিরন্তন বিজয়ের বিশ্বাস—এসবই ভারতের প্রাণশক্তি। মোদি বলেন, ‘আমাদের কাছে এগুলো কেবল উৎসব নয়; এগুলো ভারতের জীবনশক্তি।

দেশ পরিচালনায়  রামের আদর্শের প্রাসঙ্গিকতার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। তার মতে, ‘রামরাজ্য’ এখনো ন্যায়সংগত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রশাসনের মানদণ্ড হিসেবে বিবেচিত হয়, যেখানে নাগরিকদের কল্যাণ সবার আগে।

মোদি বলেন, ‘রামরাজ্য বলতে এমন শাসনব্যবস্থাকে বোঝায়, যেখানে কারও প্রতি বৈষম্য করা হয় না, সবাই ন্যায়বিচার পায় এবং সবার জন্য সমান সুযোগ থাকে। যেখানে ক্ষমতার উদ্দেশ্য শাসন করা নয়, বরং মানুষের কল্যাণে কাজ করা। এটাই  শ্রীরামের আদর্শ।’

তিনি আরও বলেন, ‘জনগণকে জনার্দন হিসেবে বিবেচনা করার মন্ত্র নিয়ে আমাদের সব সময় এগিয়ে যেতে হবে—‘নাগরিক, আপনিই ঈশ্বর’। দরিদ্র ও বঞ্চিত মানুষের সেবাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

রামের লঙ্কা যাত্রার উদাহরণ তুলে ধরে মোদি আত্মনির্ভরতা, দৃঢ় সংকল্প ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। তার বক্তব্য, নানা বাধা ও সংকটের মুখেও দেশের লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা থামানো যাবে না। নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রেখে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সংকট যত বড়ই হোক, চ্যালেঞ্জ যত কঠিনই হোক, অন্যের ওপর নির্ভর করে বসে থাকলে চলবে না। নিজেদের শক্তি চিনতে হবে। নিজেদের সম্পদের ওপর আস্থা রাখতে হবে। সংকল্পকে শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে এবং নিজেদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।’

মোদি বলেন,  শ্রীরাম শিখিয়েছেন, পথের বাধা কখনো যাত্রা থামিয়ে দিতে পারে না। সামনে সমুদ্র ছিল, লঙ্কা ছিল অনেক দূরে; কিন্তু সংকল্প ছিল অটুট। রাম সম্মিলিত জনশক্তিকে জাগিয়ে তুলেছিলেন, মানুষের অংশগ্রহণকে শক্তি হিসেবে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং আপাতদৃষ্টিতে অসম্ভব লক্ষ্যকে বাস্তবে রূপ দিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, এটাই সাফল্যের মূল মন্ত্র।

বক্তব্যের শেষ দিকে বিজয়া দশমীর তাৎপর্য তুলে ধরে মোদি বলেন, এই উৎসব মানুষকে বিশ্বাস করতে সাহস জোগায় যে চ্যালেঞ্জ যত শক্তিশালীই হোক, শেষ পর্যন্ত সত্য ও মানবতারই জয় হবে। তিনি বলেন, ‘বিজয়া দশমী হলো বিজয়ের উৎসব। এই উৎসব আমাদের বিশ্বাস করার সাহস দেয় যে শত্রু যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আমরা যখন সত্য ও মানবতার পক্ষে দাঁড়াই, শেষ পর্যন্ত জয় আমাদেরই হবে। সূত্র: এনডিটিভি