গোপনে হেগসেথের ইসরাইল সফর, ইরানে হামলার দিনক্ষণ চূড়ান্ত
গোপনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের আকস্মিক ইসরায়েল সফর ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে। আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নির্বাচন। এর মাত্র আট দিন আগে এমন একটি সফর ঘিরে প্রশ্ন উঠছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কি দ্রুতই আবারও নতুন করে ইরানে হামলার ফন্দি আঁটছে?
মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসই প্রথম হেগসেথের এই গোপন সফরের খবর সামনে আনে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৯ অক্টোবর ইসরায়েলে গিয়ে নেতানিয়াহুর সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন হেগসেথ। দক্ষিণ ইসরায়েলের ওভদা বিমানঘাঁটিতে ওই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে বৈঠকে ঠিক কী বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
অ্যাক্সিওস বলছে, সফরটির সময় গুরুত্বপূর্ণ। এক সপ্তাহ বাদে হতে চলা নির্বাচনে নেতানিয়াহুর কট্টরপন্থি জোট সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে বলে বিভিন্ন জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিরোধী দলগুলোও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সমস্যায় পড়তে পারে। সব মিলিয়ে এই মুহূর্তে টালমাটাল ইসরাইলের রাজনীতি। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর এটিই ইসরায়েলের প্রথম জাতীয় নির্বাচন। ওই হামলার পরপরই গাজায় যুদ্ধ শুরু হয় এবং পরবর্তী সময়ে তা লেবানন ও ইরানেও সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।
এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে নেতানিয়াহুর পাশে দাঁড়িয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে, আসন নির্বাচনে তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে পূর্ণ সমর্থন দেওয়ার ঘোষণা দেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেতানিয়াহুর ভূমিকার প্রশংসা করে ট্রাম্প এমন ইঙ্গিতও দিয়েছেন, ইসরায়েলে অন্য নেতা ক্ষমতায় এলে ইরান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে একাই দায়িত্ব নিতে হতে পারে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, ইসরায়েলের নির্বাচনে কোনো প্রার্থীকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের এমন প্রকাশ্য সমর্থনের ঘটনা নজিরবিহীন।
নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের সমর্থনের পরপরই ইসরাইলে হেগসেথের সফর ঘিরে ইরানে হামলার জল্পনা ডালপালা মেলছে। এর আগে এক প্রতিবেদনে অ্যাক্সিওস জানায়, ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেছেন। তবে হেগসেথের সফরকালে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অন্যদিকে ট্রাম্পের অবস্থানের সঙ্গে একাত্ম হতে দেখা যায়নি মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইসরায়েলের নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে সমর্থন দেওয়ায় বিরত থেকে তিনি বলেন, তার মনোযোগ যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকে। তিনি ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জড়াতে চান না। তার এই অবস্থান ওয়াশিংটনের শীর্ষ নেতৃত্বের মতপার্থক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে।
সব মিলিয়ে একই সময়ে ইসরায়েলে হেগসেথের গোপন সফর, নেতানিয়াহুকে ট্রাম্পের প্রকাশ্য সমর্থন এবং ইরানে সম্ভাব্য নতুন হামলার আলোচনা সামনে এসেছে। এটি নেতানিয়াহুর জন্য নির্বাচনী লড়াইয়ে কৌশলগত সুবিধা তৈরি করে দিতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ। এরই মাঝে নেতানিয়াহু বলেছেন, মার্কিন সমর্থন না থাকলেও ইসরাইল একাই ইরানে হামলা চালাতে প্রস্তুত। তেহরান তার নীতি পরিবর্তন না করলে ওয়াশিংটন খুব শীঘ্রই কাজটি শেষ করে দিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্পও। সব মিলিয়ে যে কোনো দিন ইরানে ব্যাপক আকারে নতুন করে হামলা শুরু হতে পারে সেই শঙ্কা বাড়ছে।






















