১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

সৌদির রাজধানীতে বিস্ফোরণ, জরুরি সতর্কতা জারি

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরবের ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’ কর্তৃক নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর দেশটির রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এ সময় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেয়া রিয়াদ নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি পরে জানান, সৌদি বাহিনী রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হুতি মিলিশিয়ার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি আরব।’ একই সময়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। এর আগে দেশটির জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপৎসংকেত জারি করা হয়।

ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুতির মধ্যে চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত সানায় ইরানের বিমান অবতরণকে কেন্দ্র করে। বিমান অবতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হামলা চালালে জবাবে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হতাহত হয় বহু মানুষ। সংঘাতের বিস্তার রিয়াদসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন হুতি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতির দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ৫ অক্টোবর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে। এতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমানও অংশ নেয়।

জোটের দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে হুতির অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হুতি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সর্বশেষ ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণশিবিরে হুতির ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু হতাহতের ঘটনাও সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াই এখন সৌদি আরবের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
০

সৌদির রাজধানীতে বিস্ফোরণ, জরুরি সতর্কতা জারি

আপডেট: ০৯:৪৩:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতির সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে সৌদি আরবের ‘ন্যাশনাল আর্লি ওয়ার্নিং প্ল্যাটফর্ম’ কর্তৃক নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর দেশটির রাজধানী রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) টিআরটি ওয়ার্ল্ডের লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সৌদি আরবের বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানায়, রিয়াদে সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে। এ সময় বাসিন্দাদের নিরাপত্তাসংক্রান্ত নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়। এদিকে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সমর্থন দেয়া রিয়াদ নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালকি পরে জানান, সৌদি বাহিনী রাজধানী রিয়াদ লক্ষ্য করে হুতি গোষ্ঠীর ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে।

এক্সে দেয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘হুতি মিলিশিয়ার রিয়াদ লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করেছে সৌদি আরব।’ একই সময়ে বার্তা সংস্থা এএফপির সাংবাদিকেরা রিয়াদে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার কথা জানান। এর আগে দেশটির জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্ম থেকে বিপৎসংকেত জারি করা হয়।

ইয়েমেনকে ঘিরে সৌদি আরব ও হুতির মধ্যে চলমান উত্তেজনার সূত্রপাত সানায় ইরানের বিমান অবতরণকে কেন্দ্র করে। বিমান অবতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ইয়েমেনে হামলা চালালে জবাবে ইরান-সমর্থিত হুতিরা ইয়েমেনের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা দখলের পাশাপাশি সৌদি আরবের বিভিন্ন শহর ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হতাহত হয় বহু মানুষ। সংঘাতের বিস্তার রিয়াদসহ সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন হুতি লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয়। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার হুতির দখলে থাকা এলাকা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ৫ অক্টোবর ‘ডন অব ইয়েমেন’ অভিযান শুরু করে। এতে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের যুদ্ধবিমানও অংশ নেয়।

জোটের দাবি, অভিযানের অংশ হিসেবে হুতির অবস্থান ও সামরিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে ব্যাপক হামলা চালানো হয়েছে। অন্যদিকে, হুতি সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দর, তেল স্থাপনা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

সর্বশেষ ইয়েমেনের শাবওয়া প্রদেশে সরকারি বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণশিবিরে হুতির ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বহু হতাহতের ঘটনাও সংঘাতকে আরও তীব্র করেছে। ফলে ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ লড়াই এখন সৌদি আরবের নিরাপত্তা, আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে বৃহত্তর সংঘাতে রূপ নিয়েছে।