১০:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

হরমুজ প্রণালির তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি তার বক্তব্যে এ হুমকি দেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনের বরাতেসৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোহেব্বি। এ সময় তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগাযোগ ক্যাবল গেছে।’ তার দাবি, এসব ক্যাবলের মাধ্যমেই ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যের সব আদান-প্রদান হয়।

মোহেব্বি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু উন্মোচন করা হবে। নতুন অস্ত্রও উন্মোচন হবে।’ এ সময় তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্ট প্রভাবকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকারও করেন। এর আগে মার্চের শুরুতে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্লাউড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

টেলিযোগাযোগ তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে তথ্য পরিবহনের ৯০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা নির্ভর করে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের ওপর।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। ফলে এ অঞ্চলও তেহরানের জন্য চাপ প্রয়োগের আরেকটি কৌশলগত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে তেহরান।

উপসাগরীয় দেশগুলো যখন তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো গড়ে তুলতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, তখন এমন হুমকি সামনে এলো। সামরিক অভিযান চলা জলসীমায় সমুদ্রতলের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো মেরামত করাও কঠিন হতে পারে। কারণ, এ কাজে ব্যবহৃত বিশেষায়িত জাহাজগুলোকে নিরাপত্তাঝুঁকি ও চলাচলে বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হতে পারে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬
০

হরমুজ প্রণালির তলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকি ইরানের

আপডেট: ০৯:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে যাওয়া সমুদ্রতলদেশের ইন্টারনেট ক্যাবলগুলোতে হামলার হুমকি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (১৯ অক্টোবর) আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহেব্বি তার বক্তব্যে এ হুমকি দেন।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবির প্রতিবেদনের বরাতেসৌদি গ্যাজেট জানিয়েছে, তেহরানের স্যাক্রেড ডিফেন্স মিউজিয়ামে একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মোহেব্বি। এ সময় তিনি বলেন, ‘হরমুজ প্রণালির নিচ দিয়ে সাতটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যোগাযোগ ক্যাবল গেছে।’ তার দাবি, এসব ক্যাবলের মাধ্যমেই ইন্টারনেট ও বাণিজ্যিক তথ্যের সব আদান-প্রদান হয়।

মোহেব্বি আরও বলেন, ‘আমরা শুধু তাদের জানাতে চাই, নতুন লক্ষ্যবস্তু উন্মোচন করা হবে। নতুন অস্ত্রও উন্মোচন হবে।’ এ সময় তিনি ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার অবশিষ্ট প্রভাবকে বিতাড়িত করার অঙ্গীকারও করেন। এর আগে মার্চের শুরুতে ড্রোন হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনে অ্যামাজন ওয়েব সার্ভিসেসের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি, বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন এবং ক্লাউড সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটে।

টেলিযোগাযোগ তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান টেলিজিওগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে তথ্য পরিবহনের ৯০ শতাংশের বেশি সক্ষমতা নির্ভর করে লোহিত সাগরের তলদেশ দিয়ে যাওয়া সাবমেরিন ফাইবার-অপটিক ক্যাবলের ওপর।

লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির গুরুত্বপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা ও নৌপথ নিয়ন্ত্রণ করে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। ফলে এ অঞ্চলও তেহরানের জন্য চাপ প্রয়োগের আরেকটি কৌশলগত ক্ষেত্র হয়ে উঠেছে।

এর আগে চলতি মাসের শুরুতে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজাই রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভিকে বলেছিলেন, নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সমুদ্রতলের ইন্টারনেট ক্যাবল, তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাবিষয়ক স্থাপনায় হামলা চালাতে পারে তেহরান।

উপসাগরীয় দেশগুলো যখন তথ্যকেন্দ্র ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অবকাঠামো গড়ে তুলতে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করছে, তখন এমন হুমকি সামনে এলো। সামরিক অভিযান চলা জলসীমায় সমুদ্রতলের ক্যাবল ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো মেরামত করাও কঠিন হতে পারে। কারণ, এ কাজে ব্যবহৃত বিশেষায়িত জাহাজগুলোকে নিরাপত্তাঝুঁকি ও চলাচলে বিধিনিষেধের মুখে পড়তে হতে পারে।