যুদ্ধের উত্তাপেও ইউরোপের অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও ইউরোপের অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির ধারা ধরে রেখেছে। চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) আগের প্রান্তিকের তুলনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউরো মুদ্রা ব্যবহারকারী ২১টি দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) বেড়েছে ০.৪ শতাংশ।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) প্রকাশিত ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাটের তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে। অর্থনীতিবিদদের পূর্বাভাস ছিল, এ সময়ে প্রবৃদ্ধি হবে ০.২ শতাংশ। ফলে প্রত্যাশার চেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে ইউরোজোনের অর্থনীতি। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে এসব দেশের অর্থনীতি বেড়েছে ১.৩ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রভাব সত্ত্বেও অর্থনীতির এ প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের উপপ্রধান ইউরোজোন অর্থনীতিবিদ জ্যাক অ্যালেন-রেনল্ডস বলেন, যুদ্ধের কারণে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ব্যয় কমিয়ে দেয়নি—প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা সেটিই নির্দেশ করছে।
অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ পাওলো গ্রিগনানি বলেন, ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা ও অবনতিশীল মূল্যস্ফীতির পরিবেশের মধ্যেও ইউরোজোনের অর্থনীতি সামগ্রিকভাবে স্থিতিস্থাপকতা দেখাচ্ছে। তবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে জ্বালানি তেলের বাড়তি দামের প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার কিছু উদ্বেগজনক লক্ষণও দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, এ ধরনের প্রভাবকে ‘সেকেন্ড-রাউন্ড ইফেক্ট’ বলা হয়। অর্থাৎ তেলের দাম বাড়ার প্রভাব যখন অর্থনীতির অন্যান্য খাতে ছড়িয়ে পড়ে এবং মজুরি ও পণ্যের দাম বাড়াতে শুরু করে, তখন মূল্যস্ফীতির চাপ আরও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে সুদের হার বাড়ানোর পক্ষে যুক্তি তৈরি হতে পারে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ইসিবি)। বর্তমানে ইউরোজোনে মূল্যস্ফীতির হার ৩.৮ শতাংশ, যা ইসিবির নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নীতিনির্ধারণী বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে সংস্থাটি।
তবে আগামী ডিসেম্বরে অনুষ্ঠেয় পরবর্তী বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে পারে ইসিবি। এতে ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়বে, যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি যখন সীমিত এবং সদস্য দেশগুলোর মধ্যে অসমভাবে বণ্টিত, তখন এ ধরনের সিদ্ধান্তের প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
দেশভিত্তিক হিসাবে ইউরোজোনের বৃহত্তম অর্থনীতি জার্মানিতে তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.২ শতাংশ। উচ্চ জ্বালানি মূল্য এবং নদীর পানির স্তর কমে যাওয়ায় দেশটির বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে বিঘ্ন ঘটলেও এ প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে।
অন্যদিকে, বাজেট ঘাটতি মোকাবিলার উপায় নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ব্যবসায়ীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সে। ফলে দেশটির অর্থনীতি তৃতীয় প্রান্তিকে ০.১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। তবে ইউরোজোনের কয়েকটি দেশে তুলনামূলক বেশি প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে। স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও এস্তোনিয়ায় তৃতীয় প্রান্তিকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ০.৬ শতাংশ করে। খবর এএফপি






















