০৪:৫৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। এতে দেখা যায়, প্রকাশ্য রাস্তায় মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচটি গুলি ছোড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি। প্রথমে দুই রাউন্ড গুলি করার পর পিস্তলে আবার গুলি ভরে আরও তিনবার গুলি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ভিডিওটির বরাতে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তের নাম শুক্লা। ভিডিওতে তাকে গুলি ছোড়ার পর চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা আমাকে ইট দিয়ে মেরেছে, তাই আমি গুলি করেছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্ণৌর সাদাতগঞ্জ এলাকায় একটি খালি জায়গায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ৩০ বছর বয়সী শুক্লা গুলি চালান বলে পুলিশের অভিযোগ। এতে তিওয়ারি পরিবারের শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) ও সুয়াশ তিওয়ারি (৩০) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত শুক্লা একসময় বাণিজ্যিক জাহাজে নেভিগেশন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌর সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। লক্ষ্ণৌ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ কমিশনার তরুণ গৌবা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

নিহতদের একজন লক্ষ্ণৌতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল ছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বিজেপি ও আরএসএস-সংশ্লিষ্ট নেতারা। পরে ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৩:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
১

২২ সেকেন্ডে পাঁচ গুলি

আপডেট: ০৩:১৪:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

ভারতের উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌতে গাড়ি পার্কিং নিয়ে বিরোধের জেরে একই পরিবারের তিনজনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় নতুন ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। এতে দেখা যায়, প্রকাশ্য রাস্তায় মাত্র ২২ সেকেন্ডের মধ্যে পাঁচটি গুলি ছোড়েন অভিযুক্ত ব্যক্তি। প্রথমে দুই রাউন্ড গুলি করার পর পিস্তলে আবার গুলি ভরে আরও তিনবার গুলি করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ভিডিওটির বরাতে শুক্রবার এ তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

পুলিশের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্তের নাম শুক্লা। ভিডিওতে তাকে গুলি ছোড়ার পর চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘ওরা আমাকে ইট দিয়ে মেরেছে, তাই আমি গুলি করেছি।’

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তের কাছ থেকে হামলায় ব্যবহৃত পিস্তল এবং চারটি খালি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকেই তাকে আটক করে পরে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ২৬ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে লক্ষ্ণৌর সাদাতগঞ্জ এলাকায় একটি খালি জায়গায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে ৩০ বছর বয়সী শুক্লা গুলি চালান বলে পুলিশের অভিযোগ। এতে তিওয়ারি পরিবারের শিবাজি তিওয়ারি (৬২), শিবেন্দ্র তিওয়ারি (৫৫) ও সুয়াশ তিওয়ারি (৩০) গুলিবিদ্ধ হন। তাদের কিং জর্জ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রমা সেন্টারে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। অভিযুক্ত শুক্লা একসময় বাণিজ্যিক জাহাজে নেভিগেশন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

নিহত শিবেন্দ্র তিওয়ারির স্ত্রী রুচি তিওয়ারির অভিযোগের ভিত্তিতে এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। মামলায় আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে হত্যা ও দাঙ্গার অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঘটনার পর দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উত্তর প্রদেশের লক্ষ্ণৌর সাদাতগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সন্তোষ কুমার আর্য এবং কাশ্মীরি মহল্লা পুলিশ ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অজয় কুমার চৌরাসিয়াকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। লক্ষ্ণৌ পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ কমিশনার তরুণ গৌবা এ ব্যবস্থা নিয়েছেন।

নিহতদের একজন লক্ষ্ণৌতে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) জেলা পর্যায়ের দায়িত্বশীল ছিলেন বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা পিটিআই। এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন বিজেপি ও আরএসএস-সংশ্লিষ্ট নেতারা। পরে ন্যায়বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ করেন স্বজনেরা।