১২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

এআই দিয়ে পেশির রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা, স্টার্টআপ কিনল অ্যানথ্রপিক

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিরল পেশির রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা একটি স্টার্টআপ অধিগ্রহণ করেছে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ‘মিথ্রিল মেডিসিন’ নামের স্টার্টআপটি একাই পরিচালনা করতেন উদ্যোক্তা কোডি ট্রানবার্গার। গবেষণার বিভিন্ন কাজে তিনি অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লড ব্যবহার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে মিথ্রিল মেডিসিন অধিগ্রহণ করে অ্যানথ্রপিক। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘প্রফেসর ওক’ নামে পরিচিত অ্যাকাউন্টের মালিক হিসেবে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে ট্রানবার্গার জানান, স্টার্টআপটি অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক।
প্রায় ১৮ মাস আগে চিকিৎসা গবেষণার লক্ষ্য নিয়ে মিথ্রিল মেডিসিন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কর্মী ছিলেন শুধু ট্রানবার্গার। গবেষণার পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ, চুক্তি ও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের কাজ সমন্বয়ে ক্লডকে ব্যবহার করতেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পারিশ্রমিকভিত্তিক পরামর্শকও নিয়োগ করা হতো।
ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় মিলেছে সম্ভাবনাময় ফল
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মিথ্রিল মেডিসিনের গবেষণায় লামা২ (LAMA2) জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত এক ধরনের পেশির রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এ রোগের একটি ধরন হলো লামা২-সম্পর্কিত মাসকুলার ডিস্ট্রফি, যা পেশির দুর্বলতা সৃষ্টি করে।প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় ১৮ মাসেরও কম সময়ে ইঁদুরের ওপর প্রাথমিক ধারণার পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডিভিত্তিক চিকিৎসা প্রয়োগ করা সাতটি ইঁদুরের মুঠির শক্তি ও ট্রাইসেপস পেশির সর্বোচ্চ বল পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ দলের চারটি ইঁদুরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পাওয়া যায়।

তবে এ ফলকে মানুষের ক্ষেত্রে চিকিৎসার কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

পরীক্ষাগুলো একই সময়ে করা হয়নি, পরীক্ষায় ইঁদুর বাছাইয়ের প্রক্রিয়া দৈবচয়নভিত্তিক ছিল না এবং গবেষণার বিভিন্ন ধাপে ইঁদুরের দলও পরিবর্তিত হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণার কারিগরি প্রতিবেদনটি এখনো বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন বা পিয়ার রিভিউয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এআই দিয়ে ওষুধ গবেষণায় অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগ

মিথ্রিল মেডিসিন অধিগ্রহণের মাধ্যমে ওষুধ আবিষ্কার ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে চায় অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ট্রানবার্গারের গবেষণার ফল ইতিবাচক থাকলে ২০২৮ সালের শেষ দিকে মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর উপযোগী ওষুধপ্রার্থী তৈরি হতে পারে। এটি সম্ভাব্য সময়সীমা, নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নয়।

ট্রানবার্গারের মতে, অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে তিনি আরও বেশি সম্পদ ও সহায়তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবেন। এক ব্যক্তি, এআই মডেল ও খণ্ডকালীন পরামর্শকদের সমন্বয়ে কতটা বড় গবেষণা পরিচালনা করা যায়, তা যাচাই করতেই তাঁর এই উদ্যোগের শুরু।

ওষুধ আবিষ্কারের কাজ দ্রুত করতে এর আগে ক্লড ব্যবহার করে জিন সম্পাদনার একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল অ্যানথ্রপিক। মিথ্রিল মেডিসিন অধিগ্রহণটি জীবনবিজ্ঞান খাতে প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। –কালেরকণ্ঠ

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
৩

এআই দিয়ে পেশির রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা, স্টার্টআপ কিনল অ্যানথ্রপিক

আপডেট: ০৯:৪২:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিরল পেশির রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে গবেষণা করা একটি স্টার্টআপ অধিগ্রহণ করেছে এআই নির্মাতা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক। ‘মিথ্রিল মেডিসিন’ নামের স্টার্টআপটি একাই পরিচালনা করতেন উদ্যোক্তা কোডি ট্রানবার্গার। গবেষণার বিভিন্ন কাজে তিনি অ্যানথ্রপিকের এআই মডেল ক্লড ব্যবহার করেছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাইয়ে মিথ্রিল মেডিসিন অধিগ্রহণ করে অ্যানথ্রপিক। তবে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে সম্প্রতি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ‘প্রফেসর ওক’ নামে পরিচিত অ্যাকাউন্টের মালিক হিসেবে নিজের পরিচয় প্রকাশ করে ট্রানবার্গার জানান, স্টার্টআপটি অধিগ্রহণ করেছে অ্যানথ্রপিক।
প্রায় ১৮ মাস আগে চিকিৎসা গবেষণার লক্ষ্য নিয়ে মিথ্রিল মেডিসিন প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটির নিয়মিত কর্মী ছিলেন শুধু ট্রানবার্গার। গবেষণার পরিকল্পনা, তথ্য বিশ্লেষণ, চুক্তি ও বিভিন্ন পরীক্ষাগারের কাজ সমন্বয়ে ক্লডকে ব্যবহার করতেন তিনি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী পারিশ্রমিকভিত্তিক পরামর্শকও নিয়োগ করা হতো।
ইঁদুরের ওপর পরীক্ষায় মিলেছে সম্ভাবনাময় ফল
অ্যানথ্রপিকের ভাষ্য অনুযায়ী, মিথ্রিল মেডিসিনের গবেষণায় লামা২ (LAMA2) জিনের সঙ্গে সম্পর্কিত এক ধরনের পেশির রোগের সম্ভাব্য চিকিৎসা নিয়ে কাজ করা হয়েছে। এ রোগের একটি ধরন হলো লামা২-সম্পর্কিত মাসকুলার ডিস্ট্রফি, যা পেশির দুর্বলতা সৃষ্টি করে।প্রতিষ্ঠানটির গবেষণায় ১৮ মাসেরও কম সময়ে ইঁদুরের ওপর প্রাথমিক ধারণার পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেছে। একটি নির্দিষ্ট অ্যান্টিবডিভিত্তিক চিকিৎসা প্রয়োগ করা সাতটি ইঁদুরের মুঠির শক্তি ও ট্রাইসেপস পেশির সর্বোচ্চ বল পরীক্ষায় নিয়ন্ত্রণ দলের চারটি ইঁদুরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ পাওয়া যায়।

তবে এ ফলকে মানুষের ক্ষেত্রে চিকিৎসার কার্যকারিতার প্রমাণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

পরীক্ষাগুলো একই সময়ে করা হয়নি, পরীক্ষায় ইঁদুর বাছাইয়ের প্রক্রিয়া দৈবচয়নভিত্তিক ছিল না এবং গবেষণার বিভিন্ন ধাপে ইঁদুরের দলও পরিবর্তিত হয়েছে। এ ছাড়া গবেষণার কারিগরি প্রতিবেদনটি এখনো বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ন বা পিয়ার রিভিউয়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

এআই দিয়ে ওষুধ গবেষণায় অ্যানথ্রপিকের উদ্যোগ

মিথ্রিল মেডিসিন অধিগ্রহণের মাধ্যমে ওষুধ আবিষ্কার ও জীবনবিজ্ঞান গবেষণায় এআইয়ের ব্যবহার বাড়াতে চায় অ্যানথ্রপিক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ট্রানবার্গারের গবেষণার ফল ইতিবাচক থাকলে ২০২৮ সালের শেষ দিকে মানুষের ওপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরুর উপযোগী ওষুধপ্রার্থী তৈরি হতে পারে। এটি সম্ভাব্য সময়সীমা, নিশ্চিত কোনো ঘোষণা নয়।

ট্রানবার্গারের মতে, অ্যানথ্রপিকের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে তিনি আরও বেশি সম্পদ ও সহায়তা নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যেতে পারবেন। এক ব্যক্তি, এআই মডেল ও খণ্ডকালীন পরামর্শকদের সমন্বয়ে কতটা বড় গবেষণা পরিচালনা করা যায়, তা যাচাই করতেই তাঁর এই উদ্যোগের শুরু।

ওষুধ আবিষ্কারের কাজ দ্রুত করতে এর আগে ক্লড ব্যবহার করে জিন সম্পাদনার একটি নতুন ব্যবস্থার সন্ধান পাওয়ার কথাও জানিয়েছিল অ্যানথ্রপিক। মিথ্রিল মেডিসিন অধিগ্রহণটি জীবনবিজ্ঞান খাতে প্রতিষ্ঠানটির বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ। –কালেরকণ্ঠ