১২:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার হামলার শঙ্কা, বিশ্বজুড়ে বন্ধ একের পর এক ওয়েবসাইট

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে একের পর এক ওয়েবসাইট। ইন্টারনেটের বড় একটি অংশে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকে সিস্টেমে প্রবেশ করে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটি সংশোধনে বিশ্বজুড়ে নেয়া হচ্ছে জরুরি পদক্ষেপ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইন্টারনেটের প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থা ইতোমধ্যেই ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ত্রুটি সংশোধনের জন্য নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করা হয়। তবে সময়মতো এই আপডেট সম্পন্ন করতে না পারলে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে একাধিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা। এরই মধ্যে ফিনল্যান্ড সরকার, এডিনবরা সিটি কাউন্সিল ও বিবিসির কয়েকটি ওয়েবপেজও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবিসি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় ত্রুটি দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ বলেছে, এআইয়ের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলোর মধ্যে এগুলোই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর। প্রযুক্তিটি সাইবার নিরাপত্তার চিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

ফিনল্যান্ড সরকার সাময়িকভাবে তাদের সরকারি ওয়েবসেবাগুলো বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, একই ত্রুটির কারণে তারাও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাও (এনএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিজেদের সিস্টেম অফলাইনে নেয়া। এনএসএ লিখেছে, ‘এই ধরনের ত্রুটি প্রায়ই সার্ভারের ফাইল সিস্টেম বা ডেটাবেজে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।’

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ত্রুটি সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাগুলো শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগারগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও এক্সে দেয়া পোস্টে দেশটির মানুষকে নিজেদের সবার জন্য উন্মুক্ত ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি ব্যবহার করে পরিচালিত কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া পরিচালনাকারী উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সংশোধনের কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘নিরাপদে ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা আরও কয়েকটি সিস্টেম বন্ধ রেখেছি। এর ফলে বুধবার উইকিপিডিয়ার কিছু অংশে প্রবেশ করতে পারেননি ব্যবহারকারীরা।

এদিকে এডিনবরা সিটি কাউন্সিলের ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিবিসির কয়েকটি অনুষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ‘ডক্টর হু’ ও ‘দ্য ট্রেইটরস’ ওয়েবসাইটও রয়েছে। তবে এসব ওয়েবসাইটের সঙ্গে পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

শিল্পভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিভিয়্যান্টআর্টসহ আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি তারা।

বিবিসি বলছে, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা ত্রুটি দুটি শনাক্ত করেন। ক্যালিফ ও পিএইচপি ফাউন্ডেশন ওপেনএআইয়ের চালু করা ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ কর্মসূচির অংশ ছিল। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটি খুঁজে বের করা ও সংশোধনের জন্য ওপেনএআইয়ের উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

ওপেনএআই এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, প্রায় একই সময়ে তাদের নিজস্ব একজন গবেষকও ত্রুটিটি শনাক্ত করেছিলেন।

অবশ্য গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ত্রুটি দুটি শনাক্ত হয়নি। তবে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের গবেষণার পর আগস্টে সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।

উইজ এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, ‘এই প্রক্রিয়াকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে উন্নত এআই মডেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কার্যকর সাইবার হামলার কৌশল তৈরি ও পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ এই ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বিবিসি এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

পিএইচপি ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা ছিল, চলতি মাসের শেষ দিকে ত্রুটি শনাক্তের বিষয়টি প্রকাশ করার পাশাপাশি এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান বা ‘প্যাচ’ প্রকাশ করা। সফটওয়্যার নির্মাতারা সাধারণত নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের হালনাগাদকে এ নামেই অভিহিত করেন।

কিন্তু গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এর ফলে পিএইচপি ফাউন্ডেশনকে ত্রুটি এবং এর ব্যাপকতা সম্পর্কে আগেভাগেই ঘোষণা দিতে হয়।

এদিকে নেদারল্যান্ডস সরকারের সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্টও তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে। একইভাবে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ টুইডে কামারের ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও পিএইচপি ব্যবহারকারীদের দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এনসিএসসি এক নির্দেশনায় বলেছে, ‘তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সংশ্লিষ্ট সিস্টেম অফলাইনে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা।’

এছাড়া জাপানের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দপ্তর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১১:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
১

সাইবার হামলার শঙ্কা, বিশ্বজুড়ে বন্ধ একের পর এক ওয়েবসাইট

আপডেট: ১১:৪০:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

সাইবার হামলার আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে বন্ধ রাখা হচ্ছে একের পর এক ওয়েবসাইট। ইন্টারনেটের বড় একটি অংশে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে দুটি গুরুতর নিরাপত্তা ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর এ সতর্কতামূলক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এসব ত্রুটি কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা দূর থেকে সিস্টেমে প্রবেশ করে ক্ষতিকর কোড চালাতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সহায়তায় শনাক্ত হওয়া এই ত্রুটি সংশোধনে বিশ্বজুড়ে নেয়া হচ্ছে জরুরি পদক্ষেপ।

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, ইন্টারনেটের প্রোগ্রামিং ভাষা পিএইচপিতে শনাক্ত হওয়া গুরুতর সাইবার নিরাপত্তা ত্রুটি দ্রুত সংশোধনের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার ও সংস্থা ইতোমধ্যেই ওয়েবসাইট পরিচালনাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

এর আগে বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে ত্রুটি সংশোধনের জন্য নিরাপত্তা আপডেট প্রকাশ করা হয়। তবে সময়মতো এই আপডেট সম্পন্ন করতে না পারলে ওয়েবসাইট সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে একাধিক সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা। এরই মধ্যে ফিনল্যান্ড সরকার, এডিনবরা সিটি কাউন্সিল ও বিবিসির কয়েকটি ওয়েবপেজও বন্ধ রাখা হয়েছে।

বিবিসি বলছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় ত্রুটি দুটি শনাক্ত করা হয়েছে। সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান উইজ বলেছে, এআইয়ের মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া ত্রুটিগুলোর মধ্যে এগুলোই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুতর। প্রযুক্তিটি সাইবার নিরাপত্তার চিত্র দ্রুত বদলে দিচ্ছে।

ফিনল্যান্ড সরকার সাময়িকভাবে তাদের সরকারি ওয়েবসেবাগুলো বন্ধ রেখেছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডসের সাইবার নিরাপত্তা সংস্থা জানিয়েছে, একই ত্রুটির কারণে তারাও নিজেদের ওয়েবসাইট বন্ধ রাখছে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাও (এনএসএ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, নিরাপত্তা হালনাগাদ করতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত নিজেদের সিস্টেম অফলাইনে নেয়া। এনএসএ লিখেছে, ‘এই ধরনের ত্রুটি প্রায়ই সার্ভারের ফাইল সিস্টেম বা ডেটাবেজে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ তৈরি করে।’

এদিকে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ত্রুটি সংশোধনের কাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে কেন্দ্রীয় সরকারের সংস্থাগুলো শীর্ষস্থানীয় এআই গবেষণাগারগুলোর সঙ্গে কাজ করছে। এছাড়া জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও এক্সে দেয়া পোস্টে দেশটির মানুষকে নিজেদের সবার জন্য উন্মুক্ত ওয়েবসাইটগুলো পিএইচপি ব্যবহার করে পরিচালিত কি না, তা যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন।

অনলাইন বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়া পরিচালনাকারী উইকিমিডিয়া ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো সংশোধনের কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘নিরাপদে ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আমরা আরও কয়েকটি সিস্টেম বন্ধ রেখেছি। এর ফলে বুধবার উইকিপিডিয়ার কিছু অংশে প্রবেশ করতে পারেননি ব্যবহারকারীরা।

এদিকে এডিনবরা সিটি কাউন্সিলের ওয়েবসাইটও অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া বিবিসির কয়েকটি অনুষ্ঠানের ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করা যাচ্ছে না। এর মধ্যে ‘ডক্টর হু’ ও ‘দ্য ট্রেইটরস’ ওয়েবসাইটও রয়েছে। তবে এসব ওয়েবসাইটের সঙ্গে পিএইচপির নিরাপত্তা ত্রুটির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করা হয়নি।

শিল্পভিত্তিক অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিভিয়্যান্টআর্টসহ আরও কয়েকটি ওয়েবসাইট জানিয়েছে, রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সেগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। তবে বন্ধ থাকার কারণ সম্পর্কে নির্দিষ্ট করে কিছু জানায়নি তারা।

বিবিসি বলছে, সাইবার নিরাপত্তা গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্যালিফ ও উইজের গবেষকেরা ত্রুটি দুটি শনাক্ত করেন। ক্যালিফ ও পিএইচপি ফাউন্ডেশন ওপেনএআইয়ের চালু করা ‘প্যাচ দ্য প্ল্যানেট’ কর্মসূচির অংশ ছিল। এই কর্মসূচির আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে ওয়েব ডেভেলপমেন্টে ব্যবহৃত প্রোগ্রামিং ভাষার ত্রুটি খুঁজে বের করা ও সংশোধনের জন্য ওপেনএআইয়ের উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ দেয়া হয়েছিল।

ওপেনএআই এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, এই আবিষ্কার সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সাইবার নিরাপত্তা সমস্যাগুলোর একটি। প্রতিষ্ঠানটি আরও জানায়, প্রায় একই সময়ে তাদের নিজস্ব একজন গবেষকও ত্রুটিটি শনাক্ত করেছিলেন।

অবশ্য গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ত্রুটি দুটি শনাক্ত হয়নি। তবে উন্নত এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে কয়েক সপ্তাহের গবেষণার পর আগস্টে সেগুলো খুঁজে পাওয়া যায়।

উইজ এক ব্লগ পোস্টে বলেছে, ‘এই প্রক্রিয়াকে বাস্তবসম্মত করে তুলতে উন্নত এআই মডেলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মাধ্যমে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের জন্য কার্যকর সাইবার হামলার কৌশল তৈরি ও পরিবর্তন করা সম্ভব হয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটির ধারণা, ইন্টারনেটের প্রায় ৭০ শতাংশ এই ত্রুটির কারণে ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে বিবিসি এই পরিসংখ্যানের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।

পিএইচপি ফাউন্ডেশনের পরিকল্পনা ছিল, চলতি মাসের শেষ দিকে ত্রুটি শনাক্তের বিষয়টি প্রকাশ করার পাশাপাশি এর পূর্ণাঙ্গ সমাধান বা ‘প্যাচ’ প্রকাশ করা। সফটওয়্যার নির্মাতারা সাধারণত নিরাপত্তা ত্রুটি সংশোধনের হালনাগাদকে এ নামেই অভিহিত করেন।

কিন্তু গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্রুটির বিস্তারিত তথ্য ফাঁস হয়ে যায়। এর ফলে পিএইচপি ফাউন্ডেশনকে ত্রুটি এবং এর ব্যাপকতা সম্পর্কে আগেভাগেই ঘোষণা দিতে হয়।

এদিকে নেদারল্যান্ডস সরকারের সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর পাবলিক হেলথ অ্যান্ড দ্য এনভায়রনমেন্টও তাদের ওয়েবসাইট বন্ধ রেখেছে। একইভাবে দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষ টুইডে কামারের ওয়েবসাইটেও প্রবেশ করা যাচ্ছে না।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা কেন্দ্র (এনসিএসসি), ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও পিএইচপি ব্যবহারকারীদের দ্রুত নিরাপত্তা হালনাগাদ করার আহ্বান জানিয়েছে।

এনসিএসসি এক নির্দেশনায় বলেছে, ‘তাৎক্ষণিকভাবে ত্রুটি সংশোধন করা সম্ভব না হলে পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর উচিত সংশ্লিষ্ট সিস্টেম অফলাইনে রাখার বিষয়টি বিবেচনা করা।’

এছাড়া জাপানের জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা দপ্তর এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সাইবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারাও একই ধরনের সতর্কতা জারি করেছেন।