১২:২৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ভারতে ৫ নাবালিকাকে ধর্ষণ, সংবাদপত্রের মালিকের ১০ দফা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

পাঁচ নাবালিকাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে সংবাদপত্রের মালিককে ১০ দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পেয়ার মিয়াঁ নামে ৭৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহযোগী রাবিয়া বিবিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে।

নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মামলায় তার সহযোগী ও ব্যবস্থাপক ওবায়েসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরেক সহযোগী সুইটি বিশ্বকর্মার ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।ভুক্তভোগীদের গর্ভপাত করাতে সহায়তার অভিযোগে চিকিৎসক হেমন্ত মিত্তলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক কুমুদিনী সিং এ রায় দেন। পেয়ার মিয়াঁর আটটি দণ্ডে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারে থাকার নির্দেশ রয়েছে। বাকি দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে অসহায় পরিস্থিতিতে থাকা মেয়েদের লক্ষ্য করতেন পেয়ার মিয়াঁ। গৃহকর্মীর কাজ ও মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে টানা হতো। তার সহযোগী রাবিয়া বিবি শিশুদের পেয়ার মিয়াঁর কাছে নিয়ে যেতেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে তাদের যৌন নির্যাতন করা হতো বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পি এন সিং রাজপুত বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিবারের আস্থা অর্জনের জন্য পেয়ার মিয়াঁকে ‘আব্বু’ বা বাবা বলে ডাকতে বলতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে তাদের বাড়িতে যেতেন এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতেন।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নেয়া: মামলাটির সূত্রপাত ২০২০ সালের ১১ জুলাই। ওই দিন ভোপালের রাতিবাদ এলাকায় কয়েকজন মেয়েকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পায় পুলিশ। কাউন্সেলিংয়ের সময় তারা জানায়, জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা বলে তাদের দুই দিনের জন্য একটি ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে তাদের মদ পান করানো হয় এবং পরে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তারা। অভিযোগের পর ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদের বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের নয় দিন পর শ্রীনগর থেকে পেয়ার মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যৌন অপরাধের মামলার বাইরেও পেয়ার মিয়াঁ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ভোপালের আনসাল অ্যাপার্টমেন্টে মুঠোফোনের টাওয়ার স্থাপনের ব্যবস্থা করে ভাড়ার অর্থ নিজেদের হিসাবে সরিয়ে নিতে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি ভুয়া সমিতি গঠনের অভিযোগ ওঠে।

সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পরে স্থানীয় ভাষার একটি দৈনিক পত্রিকার মালিক হন পেয়ার মিয়াঁ। ভোপালের বুঢ়ওয়ারা এলাকার হাতিখানা অঞ্চলে তাকে সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
২

ভারতে ৫ নাবালিকাকে ধর্ষণ, সংবাদপত্রের মালিকের ১০ দফা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

আপডেট: ০৯:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

পাঁচ নাবালিকাকে ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের দায়ে সংবাদপত্রের মালিককে ১০ দফায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে পেয়ার মিয়াঁ নামে ৭৮ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে ৭৭ লাখ ৬৪ হাজার রুপি জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তার সহযোগী রাবিয়া বিবিকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের মধ্যপ্রদেশের ভোপালে।

নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকটি মামলায় তার সহযোগী ও ব্যবস্থাপক ওবায়েসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। আরেক সহযোগী সুইটি বিশ্বকর্মার ২০ বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।ভুক্তভোগীদের গর্ভপাত করাতে সহায়তার অভিযোগে চিকিৎসক হেমন্ত মিত্তলকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেয়া হয়।মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিশেষ পকসো আদালতের বিচারক কুমুদিনী সিং এ রায় দেন। পেয়ার মিয়াঁর আটটি দণ্ডে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত কারাগারে থাকার নির্দেশ রয়েছে। বাকি দুটি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। নাবালিকাদের যৌন নিপীড়নের একই ধরনের ঘটনায় এর আগে আরও চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পেয়েছিলেন তিনি।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে অসহায় পরিস্থিতিতে থাকা মেয়েদের লক্ষ্য করতেন পেয়ার মিয়াঁ। গৃহকর্মীর কাজ ও মাসে ১০ হাজার রুপি বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছে টানা হতো। তার সহযোগী রাবিয়া বিবি শিশুদের পেয়ার মিয়াঁর কাছে নিয়ে যেতেন। পরে বিভিন্ন সময়ে ও স্থানে তাদের যৌন নির্যাতন করা হতো বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী পি এন সিং রাজপুত বলেন, ভুক্তভোগীদের পরিবারের আস্থা অর্জনের জন্য পেয়ার মিয়াঁকে ‘আব্বু’ বা বাবা বলে ডাকতে বলতেন তিনি। পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়াতে তাদের বাড়িতে যেতেন এবং ধর্মীয় ও পারিবারিক অনুষ্ঠানেও অংশ নিতেন।

জন্মদিনের অনুষ্ঠানের কথা বলে ডেকে নেয়া: মামলাটির সূত্রপাত ২০২০ সালের ১১ জুলাই। ওই দিন ভোপালের রাতিবাদ এলাকায় কয়েকজন মেয়েকে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় পায় পুলিশ। কাউন্সেলিংয়ের সময় তারা জানায়, জন্মদিন উদ্‌যাপনের কথা বলে তাদের দুই দিনের জন্য একটি ফ্ল্যাটে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে তাদের মদ পান করানো হয় এবং পরে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তারা। অভিযোগের পর ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে মদের বোতলসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের নয় দিন পর শ্রীনগর থেকে পেয়ার মিয়াঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

যৌন অপরাধের মামলার বাইরেও পেয়ার মিয়াঁ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। ভোপালের আনসাল অ্যাপার্টমেন্টে মুঠোফোনের টাওয়ার স্থাপনের ব্যবস্থা করে ভাড়ার অর্থ নিজেদের হিসাবে সরিয়ে নিতে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে একটি ভুয়া সমিতি গঠনের অভিযোগ ওঠে।

সাংবাদিকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করে পরে স্থানীয় ভাষার একটি দৈনিক পত্রিকার মালিক হন পেয়ার মিয়াঁ। ভোপালের বুঢ়ওয়ারা এলাকার হাতিখানা অঞ্চলে তাকে সরকারি বাসভবন বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল। এ ছাড়া অন্য সম্পত্তি অবৈধভাবে দখলে রাখার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।