১২:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন মামলার প্রস্তুতি

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলা সরকারের হেফাজতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সে দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ গঠন করতে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের কৌঁসুলিরা। তদন্তের বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) মধ্যেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তদন্ত সম্পর্কে জানানো ব্যক্তিরা বলেছেন, মাদুরোর দমনপীড়নমূলক শাসনকালে ভেনিজুয়েলার কারাগারে এক ডজনেরও বেশি মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন এই অভিযোগগুলো মূলত সেই আমেরিকানদের ওপর চালানো নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া মার্কিনিদের নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে জামিনহীন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা নার্কো-টেররিজম (মাদক-সন্ত্রাসবাদ) ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার ফ্লোরেসের এক শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তার আইনজীবী বিচারের আগে তাকে গৃহবন্দি রাখার আবেদন জানাবেন। অন্যদিকে, মাদুরোর আইনজীবী গ্রেপ্তারের আইনি বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আইনি সুরক্ষা বা ‘ইমিউনিটি’ পাওয়ার যোগ্য। তবে কৌঁসুলি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনিজুয়েলার বর্তমান সরকার মাদুরোর পক্ষে এই ইমিউনিটি দাবি করছে না।

নির্যাতনের বিবরণ

মাদুরো সরকারের আমলে এক ডজনেরও বেশি আমেরিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের রাজনৈতিক স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

মুক্ত হওয়া বেশ কয়েকজন আমেরিকান বন্দি অবস্থায় তাদের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেছেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ম্যাথিউ হিথ এবং ওসমান খান এক মামলায় অভিযোগ করেন, তাদের ওপর ওয়াটারবোর্ডিং (মুখে পানি ঢেলে শ্বাসরোধের চেষ্টা), বৈদ্যুতিক শখ, যৌন নিপীড়নের হুমকি, মনস্তাত্ত্বিক ওষুধ প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে নির্জন কারাবাসের মতো নির্যাতন চালানো হয়েছিল। মার্কিন মেরিন কোরের সাবেক সদস্য হিথ বন্দি থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।

এছাড়া ২০১৭ সালে কৌশলে ভেনিজুয়েলায় ডেকে নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আটকে রাখা ‘সিটগো ৬’ নামে পরিচিত ছয় মার্কিন তেল কর্মকর্তার মধ্যে টমেউ ভাডেল, আলিরিও হোসে জামব্রানো এবং হোসে লুইস জামব্রানোও কারাবন্দি অবস্থায় বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।

তাদের সবাইকে কুখ্যাত সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিসিআইএম’-এর হেফাজতে রাখা হয়েছিল। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধী এবং তাদের আত্মীয়দের অবৈধভাবে আটক, দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের জন্য সংস্থাটি দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য আদায়, ভয় দেখানো এবং শাস্তি দেওয়ার জন্য সংস্থাটি নিয়মিত বৈদ্যুতিক শক, প্লাস্টিক ব্যাগে শ্বাসরোধ করা, পিটুনি, খাবার ও পানি বন্ধ রাখা এবং চরম তাপমাত্রা সৃষ্টি করে নির্যাতন চালাত। সূত্র: সিএনএন

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:৩৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬
২

মাদুরো ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে নতুন মামলার প্রস্তুতি

আপডেট: ১০:৩৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভেনেজুয়েলা সরকারের হেফাজতে থাকা মার্কিন নাগরিকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগে সে দেশের সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসের বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ গঠন করতে যাচ্ছেন নিউইয়র্কের কৌঁসুলিরা। তদন্তের বিষয়ে অবগত একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের (৮ অক্টোবর) মধ্যেই এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। তদন্ত সম্পর্কে জানানো ব্যক্তিরা বলেছেন, মাদুরোর দমনপীড়নমূলক শাসনকালে ভেনিজুয়েলার কারাগারে এক ডজনেরও বেশি মার্কিন নাগরিককে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছিল। নতুন এই অভিযোগগুলো মূলত সেই আমেরিকানদের ওপর চালানো নির্যাতনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া মার্কিনিদের নির্যাতনের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আরও বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন তদন্তকারীরা।

উল্লেখ্য, গত জানুয়ারিতে কারাকাসের প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে মার্কিন সামরিক অভিযানের সময় মাদুরো ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তারা নিউইয়র্কে জামিনহীন অবস্থায় বন্দি রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে আনা নার্কো-টেররিজম (মাদক-সন্ত্রাসবাদ) ষড়যন্ত্রসহ অন্যান্য অভিযোগে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।

বৃহস্পতিবার ফ্লোরেসের এক শুনানিতে উপস্থিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে তার আইনজীবী বিচারের আগে তাকে গৃহবন্দি রাখার আবেদন জানাবেন। অন্যদিকে, মাদুরোর আইনজীবী গ্রেপ্তারের আইনি বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন এবং যুক্তি দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত কর্মকাণ্ডের জন্য সাবেক এই প্রেসিডেন্ট আইনি সুরক্ষা বা ‘ইমিউনিটি’ পাওয়ার যোগ্য। তবে কৌঁসুলি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভেনিজুয়েলার বর্তমান সরকার মাদুরোর পক্ষে এই ইমিউনিটি দাবি করছে না।

নির্যাতনের বিবরণ

মাদুরো সরকারের আমলে এক ডজনেরও বেশি আমেরিকান নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের রাজনৈতিক স্বার্থে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।

মুক্ত হওয়া বেশ কয়েকজন আমেরিকান বন্দি অবস্থায় তাদের ওপর চালানো নির্মম নির্যাতনের কথা প্রকাশ করেছেন। ২০২২ সালের অক্টোবরে বন্দি বিনিময়ের মাধ্যমে মুক্তি পাওয়া ম্যাথিউ হিথ এবং ওসমান খান এক মামলায় অভিযোগ করেন, তাদের ওপর ওয়াটারবোর্ডিং (মুখে পানি ঢেলে শ্বাসরোধের চেষ্টা), বৈদ্যুতিক শখ, যৌন নিপীড়নের হুমকি, মনস্তাত্ত্বিক ওষুধ প্রয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদে নির্জন কারাবাসের মতো নির্যাতন চালানো হয়েছিল। মার্কিন মেরিন কোরের সাবেক সদস্য হিথ বন্দি থাকা অবস্থায় আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন।

এছাড়া ২০১৭ সালে কৌশলে ভেনিজুয়েলায় ডেকে নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আটকে রাখা ‘সিটগো ৬’ নামে পরিচিত ছয় মার্কিন তেল কর্মকর্তার মধ্যে টমেউ ভাডেল, আলিরিও হোসে জামব্রানো এবং হোসে লুইস জামব্রানোও কারাবন্দি অবস্থায় বর্বর নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে জানান।

তাদের সবাইকে কুখ্যাত সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘ডিজিসিআইএম’-এর হেফাজতে রাখা হয়েছিল। জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাজনৈতিক বিরোধী এবং তাদের আত্মীয়দের অবৈধভাবে আটক, দুর্ব্যবহার ও নির্যাতনের জন্য সংস্থাটি দায়ী। প্রতিবেদনে বলা হয়, তথ্য আদায়, ভয় দেখানো এবং শাস্তি দেওয়ার জন্য সংস্থাটি নিয়মিত বৈদ্যুতিক শক, প্লাস্টিক ব্যাগে শ্বাসরোধ করা, পিটুনি, খাবার ও পানি বন্ধ রাখা এবং চরম তাপমাত্রা সৃষ্টি করে নির্যাতন চালাত। সূত্র: সিএনএন