ঈদকে কেন্দ্র করে রাজশাহী কারাগারে খাদ্য দুর্নীতির অভিযোগ
তন্ময় দেবনাথ, রাজশাহী থেকে:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের কারাগারগুলোতে বন্দিদের জন্য বিশেষ খাবারের আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে কারা অধিদপ্তর। প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের দিনে উন্নতমানের খাবার পরিবেশনের নির্দেশনা থাকলেও রাজশাহী কারাগারকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঈদের বিশেষ খাবারের জন্য বরাদ্দকৃত পোলাও চালের পরিবর্তে নিম্নমানের ভাতের চাল প্রক্রিয়াজাত করে মজুদ করা হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের এক ঠিকাদার জলিল প্রায় ৩০ বস্তা নিম্নমানের চাল সরবরাহ করেছেন, যা পোলাও রান্নার জন্য অনুপযুক্ত এবং স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
আরও গুরুতর অভিযোগ হলো—রাজশাহী কারাগারের জেল সুপার শাহ আলমের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগসাজশেই এই নিম্নমানের চাল গ্রহণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, চালের মান সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও তা ইচ্ছাকৃতভাবে গ্রহণ করা হয়েছে, যা কমিশনভিত্তিক লেনদেনের ইঙ্গিত দেয়।
সূত্রমতে, জেল সুপার শাহ আলম ইতোমধ্যে বদলির আদেশ পেয়েছেন। আর এই বদলির প্রাক্কালে তিনি ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা আদায়ে মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্বে থাকার শেষ সময়ে অনিয়মের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের চেষ্টা করছেন—এমন ধারণা কারাগারের ভেতরে-বাইরে ছড়িয়ে পড়েছে।
এ ঘটনায় কারাগারের অ্যাকাউন্টেন্ট মাহবুবসহ সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও যোগসাজশের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ আছে, শুধু চাল নয়—রমজানজুড়ে বন্দিদের জন্য সরবরাহ করা খেজুরসহ অন্যান্য খাদ্যসামগ্রীর মান নিয়েও অনিয়ম করা হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, ঈদের দিন বন্দিদের জন্য সকালে পায়েস, সেমাই ও মুড়ি; দুপুরে পোলাও, গরু বা খাসির রেজালা, মুরগির রোস্ট, সেদ্ধ ডিম, মিষ্টি ও সালাদ; এবং রাতে ভাত, রুই মাছ ও আলুর দম পরিবেশনের কথা। কিন্তু বাস্তবে এসব মান বজায় রাখা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদার জলিলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে জেল সুপার শাহ আলম বলেন, “চালটি বাবুর্চির মাধ্যমে পরীক্ষা করে ভালো পাওয়ায় গ্রহণ করা হয়েছে। এখানে কোনো অনিয়ম হয়নি, কেউ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুল তথ্য ছড়াচ্ছে।”
কারা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশের ৭৫টি কারাগারের মধ্যে বর্তমানে ৭৩টিতে বন্দি রয়েছে, যেখানে হাজতি ও কয়েদি মিলিয়ে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৭৮ হাজার ৫০০।
ঈদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বন্দিদের খাদ্য নিয়ে এ ধরনের অভিযোগ ওঠায় সচেতন মহল দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।























