নলসিটিতে জুলহাস কতৃক নিজ স্ত্রী সন্ত্রান কে জখম পতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
নলসিটিতে জুলহাস কতৃক নিজ স্ত্রী সন্ত্রান কে জখম পতিপক্ষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা
ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার মোল্লারহাট ইউনিয়নের কামদেবপুর গ্রামে পারিবারিক সহিংসতাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত আলতাব হাওলাদারের ছেলে জুলহাস তার নিজ স্ত্রী ও সন্তানকে জখম করার ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে আলোচনা শুরু হলেও, পরবর্তীতে তিনি পূর্বশত্রুতার জের দেখিয়ে একই এলাকার আহম্মেদ আলী ফকিরসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে নলছিটি আমলী আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি দায়ের করা হয় গত ৯ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে, যার মামলা নম্বর ৪৬১।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আহম্মেদ আলী ফকির অভিযোগ করে বলেন, “জুলহাস নিজেই তার স্ত্রী ও সন্তানকে জখম করেছে। অথচ ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে আমাদের বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, তার বড় ছেলে রাকিব ফকির এর আগেও জুলহাস ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে নলছিটি থানায় মারধর, জখম, লুটপাট ও শ্লীলতাহানির অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাটি পুলিশ তদন্ত শেষে আমলে নেয়, যার মামলা নম্বর ২১০ জি/আর (নলছিটি)।
ভুক্তভোগীর দাবি, উক্ত মামলায় জামিনে মুক্ত হয়ে জুলহাস ও তার সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে নিজেরাই ঘটনা ঘটিয়ে আবারও মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাদের পরিবারকে নাজেহাল করছে। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানান।
আহম্মেদ আলী ফকির আরও অভিযোগ করেন, “জুলহাস ও তার লোকজন আমাদের মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। এমনকি গুলি করে মাথার খুলি উড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে তার বড় ছেলে নলছিটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন, যার জিডি নম্বর ১১৬২, তারিখ ২৬-১২-২০২৫ ইং। এবিষয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জুলহাস এর আগেও মাদকসহ গ্রেফতার হয়েছেন এবং ডাকাতিসহ একাধিক মামলার আসামি।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে রেখেছেন, যার কারণে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে অভিযুক্ত জুলহাসের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
ভুক্তভোগী পরিবার উক্ত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা থেকে অব্যাহতি এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।



















