০১:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ায় রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি:
শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা প্রতিনিধি:

খুলনার ডুমুরিয়ায় রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

ডুমুরিয়া (খুলনা) দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। পবিত্র এই মাস শুরুর আগের সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কমেছে সবজি ও মাংসের দাম। আর মাছের দাম আগের মতোন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে, রমজান এলে চাহিদা বাড়া শসা ও সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১০ফেব্রুয়ারি) খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং শিম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কুমড়া, মুলা, পেঁপে, শালগম, ব্রকলিসহ বেশকিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ টাকার নিচে।

আলুর দাম আরও কমেছে। প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। টিপনা নতুন রাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী জলিল শেখ বলেন, “নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। গত বছরের মতো এবারও আলু চাষিরা দাম না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে, শসার দাম একটু বাড়তি। রোজার আগে শসার দাম কমার সুযোগ কম।”

দাম কম থাকার কারণ জানিয়ে শিবপ্রসাদ কাঁচাবাজারের সবজি দোকানি সুমন আহমেদ বলেন, খুলনায় এখনও শীত আছে। এ জন্য সবজি টাটকা রাখার মেডিসিন কম লাগে। গরমকালে মাল ঠিক রাখার জন্য ওষুধ দিতে হয়, না হলে নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য এখনও সবজির দাম কম আছে।” এ সময় সেখানে থাকা ক্রেতা আসমা আক্তার বলেন, “দাম কম দোকানিদের কাছে, আমাদের কাছে তো বেশিই লাগে।”

ডুমুরিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, আটাশ চাল ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৮৭ টাকা, নাজিরশাইল ৮৬ টাকা, চিনিগুড়া ১৩৫, আটা ৪৫, ময়দা ৫৫, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৮ টাকা, সরিষার তেল ২২০ টাকা, মসুর ডাল ১৬৫, বুটের ডাল ১১০, ছোলা ৯০ টাকা, বড় রসুন ১৬০, চিনি ১০০, লবণ ৪০, শুকনো মরিচ ২৮০, হলুদ ৩০০ ও আদা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম ২ থেকে ৪ টাকা বাড়তে পারে বলে জানান চুকনণ বাজারের দোকানি  আব্দুল মান্নান।

মসলার দামের মধ্যে জিরা ৬৪০ টাকা, দারচিনি ৫৪০, এলাচ পাঁচ হাজার ২০০ এবং লবঙ্গ এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দাম আগের মতো আছে বলে জানান দোকানি  আব্দুল মান্নান।

তবে, রোজাকে সামনে রেখে সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা করে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজা ও ঈদে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০১:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ায় রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

আপডেট: ০১:৪২:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

খুলনার ডুমুরিয়ায় রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে কিছুটা স্বস্তি

ডুমুরিয়া (খুলনা) দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র মাহে রমজান মাস। পবিত্র এই মাস শুরুর আগের সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় বাজারে কিছুটা স্বস্তি দেখা গেছে। কমেছে সবজি ও মাংসের দাম। আর মাছের দাম আগের মতোন রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে, রমজান এলে চাহিদা বাড়া শসা ও সুগন্ধি চালের দাম বেড়েছে।

মঙ্গলবার (১০ফেব্রুয়ারি) খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এই চিত্র দেখা গেছে।

সবজির বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতি কেজি করলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং শিম প্রকারভেদে প্রতি কেজি ৩০ থেকে ৪০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া কুমড়া, মুলা, পেঁপে, শালগম, ব্রকলিসহ বেশকিছু সবজি বিক্রি হচ্ছে ২৫/৩০ টাকার নিচে।

আলুর দাম আরও কমেছে। প্রতি কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমে আলু বিক্রি হচ্ছে ২০ থেকে ২৫ টাকায়। টিপনা নতুন রাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী জলিল শেখ বলেন, “নতুন আলুর সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দাম কমে গেছে। গত বছরের মতো এবারও আলু চাষিরা দাম না পেয়ে ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে, শসার দাম একটু বাড়তি। রোজার আগে শসার দাম কমার সুযোগ কম।”

দাম কম থাকার কারণ জানিয়ে শিবপ্রসাদ কাঁচাবাজারের সবজি দোকানি সুমন আহমেদ বলেন, খুলনায় এখনও শীত আছে। এ জন্য সবজি টাটকা রাখার মেডিসিন কম লাগে। গরমকালে মাল ঠিক রাখার জন্য ওষুধ দিতে হয়, না হলে নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য এখনও সবজির দাম কম আছে।” এ সময় সেখানে থাকা ক্রেতা আসমা আক্তার বলেন, “দাম কম দোকানিদের কাছে, আমাদের কাছে তো বেশিই লাগে।”

ডুমুরিয়া বাজার ঘুরে দেখা যায়, আটাশ চাল ৬৫ টাকা, মিনিকেট ৮৭ টাকা, নাজিরশাইল ৮৬ টাকা, চিনিগুড়া ১৩৫, আটা ৪৫, ময়দা ৫৫, সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৯৮ টাকা, সরিষার তেল ২২০ টাকা, মসুর ডাল ১৬৫, বুটের ডাল ১১০, ছোলা ৯০ টাকা, বড় রসুন ১৬০, চিনি ১০০, লবণ ৪০, শুকনো মরিচ ২৮০, হলুদ ৩০০ ও আদা ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সয়াবিন তেলের দাম ২ থেকে ৪ টাকা বাড়তে পারে বলে জানান চুকনণ বাজারের দোকানি  আব্দুল মান্নান।

মসলার দামের মধ্যে জিরা ৬৪০ টাকা, দারচিনি ৫৪০, এলাচ পাঁচ হাজার ২০০ এবং লবঙ্গ এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এসব পণ্যের দাম আগের মতো আছে বলে জানান দোকানি  আব্দুল মান্নান।

তবে, রোজাকে সামনে রেখে সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন সরবরাহকারীরা। প্যাকেটজাত সুগন্ধি চাল প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৭৫ টাকা করে, যা গত সপ্তাহে ছিল ১৬০ টাকার মধ্যে। বিক্রেতারা বলছেন, রোজা ও ঈদে বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সুগন্ধি চালের দাম বাড়িয়েছেন।