• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০২:৩৩ পূর্বাহ্ন

অর্ধ শতাব্দী ধরে রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ী খাস জায়গায় বসবাসকারী ভূমিহীনদের উচ্ছেদ সড়যন্ত্রের অভিযোগ

News Desk
আপডেটঃ : শুক্রবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৩

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রাম থেকেঃ

চট্টগ্রাম জেলার রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড়ী টিলার সরকারী খাস জায়গায় বসবাসকারী ভূমিহীন বেশ কয়েকটি পরিবারকে স্থানীয় প্রভাবশালীরা জোর পুর্বক প্রভাব বিস্তার করে উচ্ছেদ করে তাদের বসতভিটার জায়গা দখলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খতিবনগরে এ নিয়ে ১৫/২০ টি পরিবারে চলছে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা।

ঘটনার বিবরনে প্রকাশঃ স্বাধিনতার পরপর বিভিন্ন এলাকার কিছু ভূমিহীন লোকজন রাঙ্গুনিয়া উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের খতীবনগর জনমানবশূন্য পাহাড়ী টিলায় বসতি স্থাপন করে বসবাস শুরু করে। তখন খতীবনগরের ঐ পাহাড়ী টিলাটি ছিল জনমানবশুন্য গহীন জঙ্গল। চলাচলের কোন রাস্তা ছিলনা, খাওয়ার বিশুদ্ধ পানি ছিলনা, ছিলনা কোন দোকানপাট, এমনকি তখন ঐ টিলায় বসবাসকারী পরিবারগুলো ধর্মীয় ফাতেহা বা মিলাদ পড়ানোর জন্য কোন একজন মৌলানাও খুঁজে পায়নি বলে জানান ভুক্তভোগী অভিযোগকারী জামাল, হারুন, আমেনা, নুরনাহার, সোলাইমান সহ আরো অনেকে।

তাদের যখন মাথা গুঁজার কোথাও কোন ঠাঁই ছিলনা কঠিন প্রতিকূল সময়েও অনন্যোপায়ী হয়ে তারা খতীবনগরের সরকারী খাস জায়গার ঐ জঙ্গল পরিস্কার করে বসতি গড়ে তোলে কোনরকমে জিবন যাপন করে আসছিল বলে জানা যায়। খতিবনগর এলাকাটি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত। ৪০/৫০ বছর ধরে খতিবনগরের সরকারী খাস জায়গায় বসবাস করে আসা এসব ভূমিহীন পরিবার ইসলামপুর ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নাগরিক ও ভোটার। তাদের এনআইডি কার্ডও এই খতিবনগরের। এই সরকারী খাস টিলার নিচে ফসলী জমি রয়েছে স্থানীয় জনৈক সালেহ আহামদ, আলী আহামদ ও মাহাবুবুল আলমের।

সালেহ আহামদের নেতৃত্বে আলী আহামদ, মাহবুবুল আলম গং তাদের আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে ঐ টিলার খাস জমি তাদের মাথাখিলা দাবীর অজুহাত তোলে ভূমিহীন পরিবারগুলোকে উচ্ছেদ করে সরকারী খাসজায়াগা নিজেদের দখলে নিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নির্যাতন, হুমকি ধমকি সহ নানা সড়যন্ত্র করে আসছে বলে জানা যায়। ভূমিহীন পরিবারগুলোর লাগানো গাছপালা, বাগানের বিভিন্ন দামি গাছ গাছালী ভাড়াটিয়া লোকজন এনে প্রভাব খাটিয়ে কেটে ফেলেছে বলে জানা যায়। তাদের ঘিরা বেড়া ভেঁঙ্গে দিয়ে জোরপুর্বক প্রভাবশালীরা ভূমিহীনদের দখলিকৃত জায়গায় সিমেন্টের খুঁটি পুতে দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠে। সরে জমিনে গিয়ে দেখা যায়, টিলাটির দুপাশের ঢালু জায়গায় অনেক বড় ছোট গাছ, সারি সারি কঁচি কঁচি বাঁশের কোরল ও কলা গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে অভিযোগ দাখিলের কথাও জানিয়েছে ভূক্তভোগীরা।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সালেহ আহামদের কাঁছে জানতে চাইলে তিনি বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মিয় সংগঠনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন জানিয়ে খতিবনগরের তাদের ধানী জমির তিনপাশে টিলার সকল সরকারী খাসজায়গা জমির মাথাখিলা তাহাদের দাবী করে বলেন, এ টিলায় যারা বসবাস করছে তাদেরকে একসময় তাহারাই স্থান দিয়েছিল বলে জানান। সালেহ আহামদ আরো বলেন, যারা পুর্ব থেকে বসতি করছে তাদের ঘর বাড়ি উচ্ছেদে তার কোন ইচ্ছা নেই, বরংচ তারা তাদের ঘর বাড়ির সীমানার বাইরে অতিরিক্ত জায়গা দখলে রাখতে পারবেনা এবং নতুন কাউকে বেচা কেনা করতে পারবেনা।

ভূমিহীনদের গাছপালা কেটে ও ঘিরা বেড়া ভেঙ্গে ক্ষতি সাধনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তা তিনি অস্বিকার করে ধানী জমির সাথে লাগোয়া জায়গায় ঝোপ ঝাড় পরিস্কার কথা স্বিকার করেন। ধানী জমির বাইরে সরকারী খাসজায়গার মালিকানার কোন কাগজপত্র তাদের কাঁছে আছে কিনা জানতে চাইলে সালেহ আহামদ তা এড়িয়ে যান। অন্যদিকে নিরীহ সহজ সরল ভূমিহীনদের দাবী তারা বিগত ৫০/৬০ বছর ধরে সরকারী খাসজায়গার দখলসত্ত্ব নিয়ে যারযার কাগজপত্র সহ বসবাস করে আসছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে ভূমিহীনরা ন্যায় প্রতিকারের আশায় এবং প্রভাবশালীদের নির্যাতন, অত্যচার ও ক্ষতি থেকে বাঁচার আবেদন জানিয়ে পরিষদে আবেদন জানালে চেয়ারম্যান প্রভাবশালীদের পক্ষপাতিত্ব করে কিছু টাকা নিয়ে অভিযোগকারী একজনকে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানালে অভিযোগকারী ভূমিহীন পরিবার ইউনিয়ন পরিষদের সে সিদ্ধান্ত প্রত্যাখান করে তাদের মৌলিক মানবাধিকার সহ নাগরিক অধিকার রক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের কাঁছে মানবিক আবেদন জানান।

ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলামের কাঁছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, খতিবনগরের ভূমিহীন সকল পরিবার নয়, মুলতঃ একজনকে জায়গা বিক্রি এবং ঘর নির্মানে বাঁধার ব্যাপারে অভিযোগ পাওয়ার পর সিএস জায়গা দখলসত্ব থেকে বাহিরের কাউকে বিক্রি করা যায়না তাই ৮০ হাজার টাকা ক্ষতিপুরন নিয়ে ক্রয়কৃত যে জায়গাটি নিয়ে দ্বন্দ্ধ, সে জায়গার দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য বলেছি, সেই ৮০ হাজার টাকা তিন মাস আগে সালেহ আহামদ গং ইউনিয়ন পরিষদে জমাও দিয়েছে জানিয়ে চেয়ারম্যান আরো বলেন, খতিবনগরের সরকারী খাস এ টিলায় ভূমিহীনদেরকে সালেহ আহামদ, আলী আহামদ গংরাই থাকার জন্য জায়গা দিয়েছিল বলেও জানান তিনি।

কোন ধরনের দখল সত্বের কাগজপত্র ছাড়া নাল জমির মালিকরা সরকারী খাসজায়গা মাথা খিলা দখল বা মালিকানা দাবী করতে পরে কিনা জানতে চাইলে চেয়ারম্যান বলেন, সরকারী এসব সিএস জায়গা নিয়ে তাদের নানান রকম ঝামেলা মোকাবেলা করতে হয়, তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নিয়ে জানানোর কথা বলেন। অন্যদিকে দির্ঘ ৪০/৫০ বছর ধরে বসবাস করে আসা ভূমিহীন প্রায় ২০/৩০ টি পরিবারের দাবী, তাদেরকে কেউ দয়া বা আনুকল্য করে কেউ কখনো এখানে থাকতে দেয়নি, বরংচ তারা নিজেরাই জিবনের তাগিদে মাথা গুঁজার জন্য পরিত্যক্ত এসব সরকারী খাস জায়গা খুঁজে নিয়ে কঠিন প্রতিকূল সময়ে নিজেরাই গহীন জঙ্গল পরিস্কার করে নিজেদের মাথা গুঁজার ঠাঁই করে নিয়েছে একপ্রকার পরিত্যক্ত জঙ্গলে। অভিযোগকারী নুরনাহার, আমেনা, জামাল, হারুন, সোলাইমান আরো বলেন, খতিবনগরের এ এলাকায় নাল জমির মালিকরাও তাদের জমিতে চাষাবাদ করতে আসতনা একসময়।

সময়ের পরিবর্তনে একসময়ের বসবাসের অনুপযোগী সে জায়গা তাদের অনেক ত্যাগের বিনিময়ে বসবাসের উপযোগী হওয়ার পর স্থানীয় প্রভাবশালী সালেহ আহামদ, আলী আহামদ, মাহাবুব গংরা ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে অর্ধ শতাব্দী ধরে বসবাস করে আসা প্রায় ৩০/৪০ টি পরিবারকে উচ্ছেদ করে সরকারী খাসজায়গা অন্যায় ও বেআইনীভাবে তাদের দখলে নেওয়ার জন্য সম্পুর্ন অন্যায় ও অমানবিকভাবে সড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগী অভিযোগকারীদের দাবী, সরকারী খাসজায়গা সরকারের প্রয়োজনে যেকোন মুহুর্তে নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় তারা ছাড়তে প্রস্তুত, এছাড়া প্রাকৃতিক প্রতিকূলতায় তাদের অনেক ত্যাগ সংগ্রামে তিলে তিলে বসবাস উপযোগী করে গড়ে তোলা তাদের বসতির এ জায়গা তারা কোনভাবেই কোন ভুমিদস্যু বা প্রভাবশালীদের দখলে নিতে দেবেনা।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা কোন মানুষকে যেখানে গৃহহীন রাখবেননা ঘোষনা করেছেন, আশ্রয়কেন্দ্র করে দিয়ে মাথা গুঁজার নিরাপদ নিশ্চিত ঠাঁই করে দিচ্ছেন, এমতাবস্থায় আমরা নিরাশ্রয় ভূমিহীনরা যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসা লোকজন গুলোকে প্রভাবশালী সন্ত্রাসীরা জোর জুলুম নির্যাতন করে আমাদের মাথা গুঁজার ঠাঁই কেড়ে নেবে এমন অন্যায় জুলুম ও অত্যচার থেকে বাঁচার জন্য আমর ভোক্তভূগী পরিবারগুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ সহ সংশ্লিষ্ঠ কতৃপক্ষ ও প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ