০৯:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। দিনটি স্মরণে আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

দীর্ঘ একান্ন বছর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়।

এর চার দিন পর ৭ নভেম্বর সাধারণ সেনা সদস্য ও জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে এক পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান এবং তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসেন।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে ৭ নভেম্বরকে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। দলটির বিশ্বাস, সেদিনের সিপাহি-জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিল।

পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার যে ধারা বিকশিত হয়, বিএনপি এই দিনটিকে তারই ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। দলটির নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি কেবল অতীত স্মরণের নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (৭ নভেম্বর) সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া সকাল ৮টায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ কর্মসূচী পালন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়েও অনুরূপ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া আগামীকাল ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে দলটি। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

৭ নভেম্বরের এই দিনটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতির আত্মমর্যাদা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:৩৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
১৪

আজ ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর

আপডেট: ১০:৩৮:৫৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আজ ৭ নভেম্বর, ঐতিহাসিক ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ১৯৭৫ সালের এই দিনে সংঘটিত সিপাহি-জনতার অভ্যুত্থান একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল অধ্যায়ের সূচনা করেছিল। দিনটি স্মরণে আজ দেশজুড়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

দীর্ঘ একান্ন বছর পরও বাংলাদেশের রাজনীতিতে ৭ নভেম্বরের গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। বিশেষ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) দিনটিকে জাতীয় স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও জনগণের ঐক্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করে থাকে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর দেশ যখন চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল, তখন ৩ নভেম্বরের সামরিক অভ্যুত্থানে তৎকালীন সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানকে ঢাকা সেনানিবাসে গৃহবন্দি করা হয়।

এর চার দিন পর ৭ নভেম্বর সাধারণ সেনা সদস্য ও জনতার অভূতপূর্ব ঐক্যের মাধ্যমে এক পাল্টা অভ্যুত্থান ঘটে। এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে বন্দিদশা থেকে মুক্ত হন জিয়াউর রহমান এবং তিনি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ফিরে আসেন।

বিএনপির রাজনৈতিক দর্শনে ৭ নভেম্বরকে আধিপত্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। দলটির বিশ্বাস, সেদিনের সিপাহি-জনতার ঐক্য দেশের স্বাধীনতা ও জাতীয়তাবাদী চেতনাকে নতুনভাবে উজ্জীবিত করেছিল।

পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় রাজনীতি এবং অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতার যে ধারা বিকশিত হয়, বিএনপি এই দিনটিকে তারই ঐতিহাসিক ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করে। দলটির নেতাকর্মীদের কাছে দিনটি কেবল অতীত স্মরণের নয়, বরং গণতান্ত্রিক অধিকার ও জাতীয় ঐক্যের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন।

ঐতিহাসিক এই দিবসটি উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ (৭ নভেম্বর) সকাল ৬টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশের সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এছাড়া সকাল ৮টায় বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও দলীয় নেতাকর্মীরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ কর্মসূচী পালন করা হবে।

দিবসটি উপলক্ষে আজ বিকেল ৩টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হবে। ঢাকা মহানগরীর পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা ও মহানগর পর্যায়েও অনুরূপ শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

এছাড়া আগামীকাল ৮ নভেম্বর থানা ও উপজেলা পর্যায়ে নানা কর্মসূচি পালন করবে দলটি। পাশাপাশি বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন নিজ নিজ উদ্যোগে আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছে।

৭ নভেম্বরের এই দিনটি কেবল একটি রাজনৈতিক ঘটনার স্মৃতি নয়, বরং স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে জাতির আত্মমর্যাদা ও ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।