০৯:৫০ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

বিধ্বংসী অস্ত্রে পশ্চিমাদের ছাড়িয়ে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) হেলিকপ্টার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পও এ ক্ষেত্রে ক্রমেই বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে। ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, কোয়ান্টাম যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডেস্ট্রয়ারের মতো যুদ্ধযান চীনের ক্রমবর্ধমান প্রাধান্যের আড়ালে থাকলেও, বিশেষায়িত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, আধুনিক মাঝারি ওজনের পরিবহন হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী ও উভচর অভিযানের উপযোগী বিশেষায়িত নৌ-হেলিকপ্টার তৈরিতে দেশটির অগ্রগতির সঙ্গে অন্য দেশের অগ্রগতির তুলনা করা কঠিন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সামরিক হেলিকপ্টার বহরের বিকাশকে অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার তুলনায় কম অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে মনে হলেও, এর মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে।

চীনের নিজস্ব আক্রমণকারী হেলিকপ্টার বহরের মূল ভিত্তি জেড-১০। ২০০৩ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর ২০১০ সালে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। দুই আসনবিশিষ্ট এই হেলিকপ্টার থেকে ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ছোড়া যায়। এতে রয়েছে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল লক্ষ্য নির্ধারণ সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষামূলক পাল্টাব্যবস্থা।

পরবর্তী সংস্করণগুলোতে উন্নত আর্মার, সতর্কতামূলক সেন্সর এবং দীর্ঘপাল্লার গাইডেড অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। রপ্তানির জন্য তৈরি জেড-১০এমই সংস্করণে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল রোটরের ওপরে স্থাপিত মিলিমিটার-ওয়েভ রাডারও রয়েছে। জেড-১০-এর পাশাপাশি ছোট আকারের জেড-১৯ হেলিকপ্টারটি অনুসন্ধান ও আক্রমণ- দুই ধরনের কাজই করে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হওয়া বড় আকারের জেড-২১ চীনের প্রথম ভারী অ্যাটাকা হেলিকপ্টার। জেড-১০-এর তুলনায় এতে রয়েছে আরও শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা, বিস্তৃত সেন্সর ব্যবস্থা এবং অধিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা। রাশিয়ার এমআই-২৮ ও কেএ-৫২ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এএইচ-৬৪-এর মতো শীর্ষস্থানীয় বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় হেলিকপ্টারটি উল্লেখযোগ্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম।

চীনের হেলিকপ্টার আধুনিকায়ন কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জেড-২০ সিরিজ। ২০১৩ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর ২০১৯ সালে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দুটি ডব্লিউজেড-১০ টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনচালিত এই হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ সরঞ্জামসহ সর্বোচ্চ ১৩ জন সদস্য পরিবহন করতে পারে। পাশাপাশি এটি বিভিন্ন ধরনের সাধারণ সামরিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম

এর আধুনিক অ্যাভিওনিকস, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষমতা একে এমন সব বিশেষ সংস্করণের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা ক্রমবর্ধমান জটিল সামরিক ও কৌশলগত প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। জেড-২০কে পরিবারের মধ্যে পরিবহন ও আক্রমণ- দুই ধরনের সংস্করণ রয়েছে। অন্যদিকে, জেড-২০টি সশস্ত্র আক্রমণ অভিযানের জন্য তৈরি। এটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং বাহ্যিক জ্বালানি ট্যাংক বহন করতে পারে।

নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য তৈরি জেড-২০এফ সংস্করণটি সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের উপযোগী। এতে রয়েছে পানির নিচে নামানো যায় এমন সোনার, সোনোবুই মোতায়েনের সরঞ্জাম এবং হালকা টর্পেডো বহনের সক্ষমতা। এ ছাড়া জাহাজ থেকে পরিবহন ও আক্রমণ অভিযান পরিচালনার জন্য আলাদা জেড-২০জে সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে চীনের বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও উভচর অভিযানে ব্যবহৃত জাহাজ থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এত ধরনের সংস্করণ তৈরি হওয়ায় জেড-২০-কে বিশ্বের সবচেয়ে বহুমুখী একক হেলিকপ্টার নকশা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনের পুরোনো হেলিকপ্টার সিরিজগুলোতেও ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। জেড-৮ হেলিকপ্টারকে পরিবহন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং আকাশপথে কমান্ড পরিচালনার উপযোগী প্ল্যাটফর্মে রূপ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ায় তৈরি এমআই-১৭ ও এমআই-১৭১ হেলিকপ্টারগুলো এখনো চীনের পরিবহন সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কঠিন পরিবেশে অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত সহায়তা দিতেও ব্যবহার করা হয় এসব হেলিকপ্টার। চীনের নৌবাহিনীতে রাশিয়ার তৈরি কেএ-২৮ সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের হেলিকপ্টার এবং কেএ-৩১ আকাশপথে রাডার পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

জাহাজ থেকে পরিচালনাযোগ্য জেড-২০-এর বিভিন্ন সংস্করণের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে চীনের নৌবাহিনীর সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ ও উভচর আক্রমণ সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো রুশ হেলিকপ্টারগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বেইজিংয়ের। এ ছাড়া আরও বেশি ভার বহনে সক্ষম একটি হেলিকপ্টার তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে চীনের। এটি রাশিয়ার এমআই-২৬-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। বর্তমানে ভার বহনের সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে এমআই-২৬।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৬:৪৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
১

বিধ্বংসী অস্ত্রে পশ্চিমাদের ছাড়িয়ে চীনের একচ্ছত্র আধিপত্য

আপডেট: ০৬:৪৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মির (পিএলএ) হেলিকপ্টার সক্ষমতা দ্রুত বাড়ছে। দেশটির প্রতিরক্ষা শিল্পও এ ক্ষেত্রে ক্রমেই বৈশ্বিক নেতৃত্বের অবস্থান নেয়ার চেষ্টা করছে। ষষ্ঠ প্রজন্মের যুদ্ধবিমান, কোয়ান্টাম যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং ডেস্ট্রয়ারের মতো যুদ্ধযান চীনের ক্রমবর্ধমান প্রাধান্যের আড়ালে থাকলেও, বিশেষায়িত অ্যাটাক হেলিকপ্টার, আধুনিক মাঝারি ওজনের পরিবহন হেলিকপ্টার এবং সাবমেরিন বিধ্বংসী ও উভচর অভিযানের উপযোগী বিশেষায়িত নৌ-হেলিকপ্টার তৈরিতে দেশটির অগ্রগতির সঙ্গে অন্য দেশের অগ্রগতির তুলনা করা কঠিন।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিনের প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনের সামরিক হেলিকপ্টার বহরের বিকাশকে অন্যান্য সামরিক সক্ষমতার তুলনায় কম অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে বলে মনে হলেও, এর মধ্য দিয়ে প্রতিরক্ষা শিল্পে স্বনির্ভরতা অর্জন এবং জটিল সামরিক অভিযান পরিচালনায় বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানোর বৃহত্তর প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটেছে।

চীনের নিজস্ব আক্রমণকারী হেলিকপ্টার বহরের মূল ভিত্তি জেড-১০। ২০০৩ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর ২০১০ সালে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হয়। দুই আসনবিশিষ্ট এই হেলিকপ্টার থেকে ট্যাংকবিধ্বংসী গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র এবং রকেট ছোড়া যায়। এতে রয়েছে ইলেকট্রো-অপটিক্যাল লক্ষ্য নির্ধারণ সরঞ্জাম ও প্রতিরক্ষামূলক পাল্টাব্যবস্থা।

পরবর্তী সংস্করণগুলোতে উন্নত আর্মার, সতর্কতামূলক সেন্সর এবং দীর্ঘপাল্লার গাইডেড অস্ত্র যুক্ত করা হয়েছে। রপ্তানির জন্য তৈরি জেড-১০এমই সংস্করণে আরও কিছু বাড়তি সুবিধা যোগ করা হয়েছে। এর মধ্যে মূল রোটরের ওপরে স্থাপিত মিলিমিটার-ওয়েভ রাডারও রয়েছে। জেড-১০-এর পাশাপাশি ছোট আকারের জেড-১৯ হেলিকপ্টারটি অনুসন্ধান ও আক্রমণ- দুই ধরনের কাজই করে।

অন্যদিকে, ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো দৃশ্যমান হওয়া বড় আকারের জেড-২১ চীনের প্রথম ভারী অ্যাটাকা হেলিকপ্টার। জেড-১০-এর তুলনায় এতে রয়েছে আরও শক্তিশালী সুরক্ষাব্যবস্থা, বিস্তৃত সেন্সর ব্যবস্থা এবং অধিক অস্ত্র বহনের সক্ষমতা। রাশিয়ার এমআই-২৮ ও কেএ-৫২ এবং যুক্তরাষ্ট্রের এএইচ-৬৪-এর মতো শীর্ষস্থানীয় বিদেশি প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় হেলিকপ্টারটি উল্লেখযোগ্য শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে সক্ষম।

চীনের হেলিকপ্টার আধুনিকায়ন কর্মসূচির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ জেড-২০ সিরিজ। ২০১৩ সালে প্রথম উড্ডয়নের পর ২০১৯ সালে এটি সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। দুটি ডব্লিউজেড-১০ টার্বোশ্যাফট ইঞ্জিনচালিত এই হেলিকপ্টার সম্পূর্ণ সরঞ্জামসহ সর্বোচ্চ ১৩ জন সদস্য পরিবহন করতে পারে। পাশাপাশি এটি বিভিন্ন ধরনের সাধারণ সামরিক দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম

এর আধুনিক অ্যাভিওনিকস, প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ও বহুমুখী ব্যবহারের ক্ষমতা একে এমন সব বিশেষ সংস্করণের ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছে, যা ক্রমবর্ধমান জটিল সামরিক ও কৌশলগত প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম। জেড-২০কে পরিবারের মধ্যে পরিবহন ও আক্রমণ- দুই ধরনের সংস্করণ রয়েছে। অন্যদিকে, জেড-২০টি সশস্ত্র আক্রমণ অভিযানের জন্য তৈরি। এটি গাইডেড ক্ষেপণাস্ত্র, রকেট এবং বাহ্যিক জ্বালানি ট্যাংক বহন করতে পারে।

নৌবাহিনীর ব্যবহারের জন্য তৈরি জেড-২০এফ সংস্করণটি সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের উপযোগী। এতে রয়েছে পানির নিচে নামানো যায় এমন সোনার, সোনোবুই মোতায়েনের সরঞ্জাম এবং হালকা টর্পেডো বহনের সক্ষমতা। এ ছাড়া জাহাজ থেকে পরিবহন ও আক্রমণ অভিযান পরিচালনার জন্য আলাদা জেড-২০জে সংস্করণ তৈরি করা হয়েছে। এর ফলে চীনের বিভিন্ন যুদ্ধজাহাজ ও উভচর অভিযানে ব্যবহৃত জাহাজ থেকে আরও বিস্তৃত পরিসরের সামরিক কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

এত ধরনের সংস্করণ তৈরি হওয়ায় জেড-২০-কে বিশ্বের সবচেয়ে বহুমুখী একক হেলিকপ্টার নকশা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চীনের পুরোনো হেলিকপ্টার সিরিজগুলোতেও ব্যাপক উন্নয়ন করা হয়েছে। জেড-৮ হেলিকপ্টারকে পরিবহন, অনুসন্ধান ও উদ্ধার, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ এবং আকাশপথে কমান্ড পরিচালনার উপযোগী প্ল্যাটফর্মে রূপ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, রাশিয়ায় তৈরি এমআই-১৭ ও এমআই-১৭১ হেলিকপ্টারগুলো এখনো চীনের পরিবহন সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কঠিন পরিবেশে অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষায়িত সহায়তা দিতেও ব্যবহার করা হয় এসব হেলিকপ্টার। চীনের নৌবাহিনীতে রাশিয়ার তৈরি কেএ-২৮ সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধের হেলিকপ্টার এবং কেএ-৩১ আকাশপথে রাডার পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহৃত হচ্ছে।

জাহাজ থেকে পরিচালনাযোগ্য জেড-২০-এর বিভিন্ন সংস্করণের উন্নয়ন অব্যাহত থাকলে চীনের নৌবাহিনীর সাবমেরিনবিরোধী যুদ্ধ ও উভচর আক্রমণ সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পুরোনো রুশ হেলিকপ্টারগুলো ধীরে ধীরে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বেইজিংয়ের। এ ছাড়া আরও বেশি ভার বহনে সক্ষম একটি হেলিকপ্টার তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে চীনের। এটি রাশিয়ার এমআই-২৬-এর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে পারে। বর্তমানে ভার বহনের সক্ষমতায় উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে বিশ্বে শীর্ষে রয়েছে এমআই-২৬।