০২:২৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

নেতানিয়াহুকে সরাতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী এবং তাকে একজন ‘বড় চালবাজ’ হিসেবে আখ্যা দেন তারা।

ইসরাইলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এর আগে সে দেশের আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন করে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে এই দলগুলোর সমর্থন পেলে তার পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, ‘মানুষ সত্যিই চায় এই ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি পথ বের হোক। তারা বিশ্বাস করে- গাদি আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরাইলি অন্য নেতাদের উচিত সাধারণ মানুষের এই জোরালো দাবি মেনে নেওয়া।

ওদেহ আরও জানান, এই বিক্ষোভের পাশাপাশি পালটাপালটি কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও। তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, অন্যদিকে আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে এককভাবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয়নি।

তবে এই নির্বাচনে দারুণ সাফল্য পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল। তারা একজোট হয়ে সর্বমোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘রাআম’ এবং আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর বাক্সে পড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এটি প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

আরব দলগুলোর এই জয়ের ফলে আইজেনকোট তাদের সঙ্গে জোট গঠন করলে ৬৭টি আসনের এক সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক ইহুদির কাছে আরবদের সঙ্গে জোট বাধার বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বা হজম করা কঠিন।

এদিকে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা কাতার থেকে অর্থ এনে নির্বাচন ‘চুরি’ করার চেষ্টা করেছে। তবে কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেন, ইসরাইলের চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের এই ঐতিহাসিক ভোট প্রদানকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের সমতুল্য বলে প্রচার করছে। সেদিন হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে আক্রমণ চালিয়ে ১,২০০-র বেশি মানুষকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

নূর ওদেহ যোগ করেন, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর এখন আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছে। কারণ, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কিনা—সেটি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি এখন তাদের হাতেই রয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
৩

নেতানিয়াহুকে সরাতে তেল আবিবে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ

আপডেট: ০৯:৩৭:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

দখলদার ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে প্রধান বিরোধী দলকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতায় আসার আহ্বান জানিয়ে রাজধানী তেল আবিবে রাজপথে নেমেছেন হাজার হাজার মানুষ। শনিবার আয়োজিত এই বিক্ষোভে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীরা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, এটিই হয়তো দেশটিতে ‘প্রকৃত পরিবর্তনের শেষ সুযোগ’। নেতানিয়াহু ইসরাইলের ইতিহাসে দীর্ঘতম মেয়াদে দায়িত্ব পালনকারী প্রধানমন্ত্রী এবং তাকে একজন ‘বড় চালবাজ’ হিসেবে আখ্যা দেন তারা।

ইসরাইলের প্রধান বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এর আগে সে দেশের আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছিলেন। তবে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নতুন করে যে রাজনৈতিক অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তাতে এই দলগুলোর সমর্থন পেলে তার পক্ষে সরকার গঠন করা সম্ভব হতে পারে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিনিধি নূর ওদেহ শনিবার রামাল্লা থেকে জানান, ‘মানুষ সত্যিই চায় এই ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তনের একটি পথ বের হোক। তারা বিশ্বাস করে- গাদি আইজেনকোট ও ইহুদি-ইসরাইলি অন্য নেতাদের উচিত সাধারণ মানুষের এই জোরালো দাবি মেনে নেওয়া।

ওদেহ আরও জানান, এই বিক্ষোভের পাশাপাশি পালটাপালটি কর্মসূচি নিয়ে হাজির হয়েছিলেন নেতানিয়াহুর সমর্থকরাও। তাদের চিৎকার করে বলতে শোনা যায়, ‘তথাকথিত সন্ত্রাসীদের সঙ্গে নিয়ে ইসরাইলে কোনো সরকার গঠন করা যাবে না।’

মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১২০ আসনের ইসরাইলি পার্লামেন্টে (নেসেট) নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেয়েছে, অন্যদিকে আইজেনকোটের জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। ফলে এককভাবে কোনো পক্ষই সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে সক্ষম হয়নি।

তবে এই নির্বাচনে দারুণ সাফল্য পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন তিনটি দল। তারা একজোট হয়ে সর্বমোট ১৯টি আসনে জয়লাভ করেছে।

ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে ‘রাআম’ এবং আরব নেতৃত্বাধীন তিন দলের জোট ‘জয়েন্ট লিস্ট’-এর বাক্সে পড়েছে প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ভোট। ২০২২ সালের শেষ নির্বাচনের তুলনায় এটি প্রায় ৬৪ শতাংশ বেশি।

আরব দলগুলোর এই জয়ের ফলে আইজেনকোট তাদের সঙ্গে জোট গঠন করলে ৬৭টি আসনের এক সুবিধাজনক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবেন। তবে ইসরাইলের রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক ইহুদির কাছে আরবদের সঙ্গে জোট বাধার বিষয়টি এখনো রাজনৈতিকভাবে অগ্রহণযোগ্য বা হজম করা কঠিন।

এদিকে নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি দলগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন যে, তারা কাতার থেকে অর্থ এনে নির্বাচন ‘চুরি’ করার চেষ্টা করেছে। তবে কাতার এই অভিযোগ অস্বীকার করে একে ভুয়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচার বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

সাংবাদিক নূর ওদেহ বলেন, ইসরাইলের চরম ডানপন্থি গোষ্ঠীগুলো ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের এই ঐতিহাসিক ভোট প্রদানকে ‘নির্বাচনি সন্ত্রাসবাদ’ বলে আখ্যা দিচ্ছে। এমনকি তারা একে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামাসের আক্রমণের সমতুল্য বলে প্রচার করছে। সেদিন হামাস যোদ্ধারা দক্ষিণ ইসরাইলে আক্রমণ চালিয়ে ১,২০০-র বেশি মানুষকে হত্যা এবং শতাধিক মানুষকে জিম্মি করে নিয়ে যায়।

নূর ওদেহ যোগ করেন, ফিলিস্তিনি-ইসরাইলিদের ভোট ও কণ্ঠস্বর এখন আক্রমণের নিশানা হয়ে উঠেছে। কারণ, আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন কিনা—সেটি নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ চাবিকাঠি এখন তাদের হাতেই রয়েছে।