০৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

অর্থ পাচার মামলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুইন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কুইন মিশেল’ নামে জনপ্রিয়তা লাভ করা ইকুয়েডরীয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও পপ গায়িকা মিশেল জামিলেথ মাসিয়াস পেনিয়ারেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বিয়া থেকে ফিল্মি স্টাইলে গ্রেপ্তার করা হয় এ তারকাকে। সংবাদমাধ্যমদ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগদ টাকা ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রা প্রদর্শনের মাধ্যমে খ্যাতি পাওয়া ২৩ বছর বয়সী এই তরুণীকে ১৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের অর্থ পাচার তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মা ইন্ডা মারিয়েলা পেনিয়ারেতো তুয়ারেজেকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইকুয়েডরের কুখ্যাত অপরাধী গোষ্ঠী ‘লোস চোনেরোস’র প্রধান এবং ভয়ংকর গ্যাং লিডার হোসে অ্যাডোলফোস মাসিয়াস ভিল্লামারের ( যিনি ফিতো নামে পরিচিত) মেয়ে হিসেবে পরিচিত কুইন মিশেল। স্যান্টান্ডার শহরের সাবানা দে তরেসের একটি খামারবাড়ি থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুইন মিশেলকে তার মায়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোটা অঙ্কের অর্থের স্তূপের সামনে ‘কুইন মিশেল’

এ ঘটনায় ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ ব্লাঙ্কো ফিতো নামের একটি বিস্তৃত অর্থ পাচার তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে তাদের দু’জনকে খোঁজছিল। কর্তৃপক্ষ ফিতোর অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত আনুমানিক ২৫.৮ মিলিয়ন ডলারের (১৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) আর্থিক লেনদেন তদন্ত করে।

এদিকে তার মেয়ে কুইন মিশেল সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্পর্কিত নানা কনটেন্ট পোস্ট করতেন। নাচ, গান ও ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে টিকটকে ৬৫ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী গড়ে তোলেন এই তরুণী। এমনকি একটি সংগীত ক্যারিয়ারও শুরু করেছিলেন। এছাড়া তার অভিযুক্ত বাবার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গানও প্রকাশ করেছিলেন কুইন মিশেল।

এর আগে ২০২৩ সালে এ তরুণী তারকা ‘এল করিদো দেল লিওন’ নামের একটি গানে হাজির হয়েছিলেন। যা তার বাবা ফিতোকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছিল। একই বছর ‘এফ লা লেয়েন্দা’ নাম একটি গান প্রকাশ করেন। এর মিউজিক ভিডিওতে তাকে ঘোড়া ও বিলাসবহুল গাড়িতে ঘেরা একটি খামারবাড়িতে দেখা গিয়েছিল।

অন্যদিকে এ তরুণীকে গ্রেপ্তারের পর একটি পুরোনো ভিডিও পুনরায় সামনে ওঠে এসেছে। যেখানে প্রচুর টাকার নোটের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। আর এই বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সোশ্যাল মিডিয়ার তারকা খ্যাতির আড়ালে ইকুয়েডরের তদন্তকারীদের অভিযোগ―কুইন মিশেল এবং তার মা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাল বিছিয়ে কালো টাকা সাদা করার বা অর্থ পাচারের কাজে জড়িত ছিলেন।

গত মার্চে এই মামলায় একজন বিচারক ১৭ জনকে অভিযুক্ত করেন। তদন্তকারীরা অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করে দেখেছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থকে বৈধতা দেয়ার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। আর তদন্তের মাধ্যমে ফিতো ও তার সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন, সম্পদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, অস্ত্র পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য মিশেল ও তার মা কলম্বিয়ার অপরাধী সংস্থাগুলোর সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করছিলেন। এর আগে বুকারামাঙ্গা এবং মেডেলিনে সময় কাটানোর পর তারা দু’জন প্রায় চার মাস সাবানা দে তরেসের ওই খামারবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে অবশেষে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে কলম্বিয়ান বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এই অভিযানে এফবিআই এবং ইকুয়েডর পুলিশের পাশাপাশি কলম্বিয়ার মিলিটারি, ডিআইজেআইএন অপরাধ তদন্ত অধিদপ্তর এবং প্রসিকিউটররা যুক্ত ছিলেন। এ অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে কুইন মিশেল যখন মাত্র ১৯ বছরের তরুণী, ওই সময় তাকে ইকুয়েডরের মান্টা শহর থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। সে এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য এক তরুণীকে বিউটি পার্লার থেকে বের হওয়ার সময় তুলে নেয়া হয়। পরে চারদিন পর ২১ নভেম্বর তৎকালীন অ্যান্টি-কিডন্যাপিং অ্যান্ড এক্সটরশন ইউনিট তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনার ঠিক পাঁচ বছর পর সেই ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই এখন একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কুইন মিশেল এবং তার মাকে ইকুয়েডরে ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশাল অর্থ পাচার মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত কারাগারে রাখা হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৫:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১১

অর্থ পাচার মামলায় জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুইন গ্রেপ্তার

আপডেট: ০৫:৫৪:২২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘কুইন মিশেল’ নামে জনপ্রিয়তা লাভ করা ইকুয়েডরীয় টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার, কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও পপ গায়িকা মিশেল জামিলেথ মাসিয়াস পেনিয়ারেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর কলম্বিয়া থেকে ফিল্মি স্টাইলে গ্রেপ্তার করা হয় এ তারকাকে। সংবাদমাধ্যমদ্য সানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নগদ টাকা ও বিলাসবহুল জীবনযাত্রা প্রদর্শনের মাধ্যমে খ্যাতি পাওয়া ২৩ বছর বয়সী এই তরুণীকে ১৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের অর্থ পাচার তদন্তের অংশ হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার মা ইন্ডা মারিয়েলা পেনিয়ারেতো তুয়ারেজেকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইকুয়েডরের কুখ্যাত অপরাধী গোষ্ঠী ‘লোস চোনেরোস’র প্রধান এবং ভয়ংকর গ্যাং লিডার হোসে অ্যাডোলফোস মাসিয়াস ভিল্লামারের ( যিনি ফিতো নামে পরিচিত) মেয়ে হিসেবে পরিচিত কুইন মিশেল। স্যান্টান্ডার শহরের সাবানা দে তরেসের একটি খামারবাড়ি থেকে কনটেন্ট ক্রিয়েটর কুইন মিশেলকে তার মায়ের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।

মোটা অঙ্কের অর্থের স্তূপের সামনে ‘কুইন মিশেল’

এ ঘটনায় ইকুয়েডর কর্তৃপক্ষ ব্লাঙ্কো ফিতো নামের একটি বিস্তৃত অর্থ পাচার তদন্তের অংশ হিসেবে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের মাধ্যমে তাদের দু’জনকে খোঁজছিল। কর্তৃপক্ষ ফিতোর অপরাধ জগতের সঙ্গে সম্পর্কিত আনুমানিক ২৫.৮ মিলিয়ন ডলারের (১৯.৫ মিলিয়ন পাউন্ড) আর্থিক লেনদেন তদন্ত করে।

এদিকে তার মেয়ে কুইন মিশেল সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন সম্পর্কিত নানা কনটেন্ট পোস্ট করতেন। নাচ, গান ও ভাইরাল ভিডিওর মাধ্যমে টিকটকে ৬৫ মিলিয়নেরও বেশি অনুসারী গড়ে তোলেন এই তরুণী। এমনকি একটি সংগীত ক্যারিয়ারও শুরু করেছিলেন। এছাড়া তার অভিযুক্ত বাবার সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন গানও প্রকাশ করেছিলেন কুইন মিশেল।

এর আগে ২০২৩ সালে এ তরুণী তারকা ‘এল করিদো দেল লিওন’ নামের একটি গানে হাজির হয়েছিলেন। যা তার বাবা ফিতোকে উৎসর্গ করে তৈরি করা হয়েছিল। একই বছর ‘এফ লা লেয়েন্দা’ নাম একটি গান প্রকাশ করেন। এর মিউজিক ভিডিওতে তাকে ঘোড়া ও বিলাসবহুল গাড়িতে ঘেরা একটি খামারবাড়িতে দেখা গিয়েছিল।

অন্যদিকে এ তরুণীকে গ্রেপ্তারের পর একটি পুরোনো ভিডিও পুনরায় সামনে ওঠে এসেছে। যেখানে প্রচুর টাকার নোটের স্তূপ দেখা যাচ্ছে। আর এই বিলাসবহুল জীবনযাপন ও সোশ্যাল মিডিয়ার তারকা খ্যাতির আড়ালে ইকুয়েডরের তদন্তকারীদের অভিযোগ―কুইন মিশেল এবং তার মা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জাল বিছিয়ে কালো টাকা সাদা করার বা অর্থ পাচারের কাজে জড়িত ছিলেন।

গত মার্চে এই মামলায় একজন বিচারক ১৭ জনকে অভিযুক্ত করেন। তদন্তকারীরা অন্তত চারটি প্রতিষ্ঠান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তদন্ত করে দেখেছেন, সেসব প্রতিষ্ঠান অবৈধ অর্থকে বৈধতা দেয়ার কাজে ব্যবহার হয়ে আসছিল। আর তদন্তের মাধ্যমে ফিতো ও তার সহযোগীদের সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক লেনদেন, সম্পদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কর্তৃপক্ষ আরও অভিযোগ করেছে, অস্ত্র পাচার, মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য মিশেল ও তার মা কলম্বিয়ার অপরাধী সংস্থাগুলোর সঙ্গে জোট করার চেষ্টা করছিলেন। এর আগে বুকারামাঙ্গা এবং মেডেলিনে সময় কাটানোর পর তারা দু’জন প্রায় চার মাস সাবানা দে তরেসের ওই খামারবাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। তবে অবশেষে একটি বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে কলম্বিয়ান বাহিনী তাদের অবস্থান শনাক্ত করে। এই অভিযানে এফবিআই এবং ইকুয়েডর পুলিশের পাশাপাশি কলম্বিয়ার মিলিটারি, ডিআইজেআইএন অপরাধ তদন্ত অধিদপ্তর এবং প্রসিকিউটররা যুক্ত ছিলেন। এ অভিযানে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হওয়ায় স্বাগত জানিয়েছে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া।

উল্লেখ্য, এর আগে ২০২১ সালের নভেম্বরে কুইন মিশেল যখন মাত্র ১৯ বছরের তরুণী, ওই সময় তাকে ইকুয়েডরের মান্টা শহর থেকে অপহরণ করা হয়েছিল। সে এবং তার সঙ্গে থাকা অন্য এক তরুণীকে বিউটি পার্লার থেকে বের হওয়ার সময় তুলে নেয়া হয়। পরে চারদিন পর ২১ নভেম্বর তৎকালীন অ্যান্টি-কিডন্যাপিং অ্যান্ড এক্সটরশন ইউনিট তাকে উদ্ধার করে।

এ ঘটনার ঠিক পাঁচ বছর পর সেই ইনফ্লুয়েন্সার নিজেই এখন একটি বৃহৎ আন্তর্জাতিক অপরাধ তদন্তের কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। কুইন মিশেল এবং তার মাকে ইকুয়েডরে ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বিশাল অর্থ পাচার মামলার প্রক্রিয়া চলাকালীন তাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তাযুক্ত কারাগারে রাখা হবে।