তারেক রহমান নভেম্বরে ভারত যাচ্ছেন, দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন
ঢাকা ও নয়াদিল্লির কূটনৈতিক সম্পর্কে সাম্প্রতিক অস্বস্তি কাটিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর ঘিরে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী নভেম্বরেই এই দ্বিপক্ষীয় সফরটি অনুষ্ঠিত হতে পারে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকে কেন্দ্র করে দুই দেশের সরকারের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে অফিশিয়াল বৈঠক পুনরায় শুরু হয়েছে। বর্তমানে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে মূলত দুই রাষ্ট্রপ্রধানের আলোচনার এজেন্ডা বা মূল বিষয়বস্তু চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
নভেম্বরের সফর সামনে রেখে ঢাকা ও নয়াদিল্লির আলোচনার টেবিলে বেশ কিছু স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থান পাচ্ছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো আগামী ডিসেম্বরে শেষ হতে যাওয়া ঐতিহাসিক গঙ্গা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি। ১৯৯৬ সালে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় এটি নবায়ন বা নতুন শর্ত নির্ধারণ এখন দুই দেশের জন্যই সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও প্রয়োজনীয় বিষয়।
এর পাশাপাশি বৈঠকে অগ্রাধিকার পাচ্ছে বাণিজ্য স্বাভাবিকীকরণ। বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে রাজনৈতিক ও নানা ধরনের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুই দেশের সীমান্ত-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হয়। তা আবার আগের মতো স্বাভাবিক করতে কাজ করছেন কর্মকর্তারা।
এর আগে বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ঘিরে দুই দেশের সম্পর্কে কিছুটা টানাপোড়েন তৈরি হয়েছিল। হাসিনা ভারতে অবস্থানকালে গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লিতে একটি ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ঢাকা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছে, এই ঘটনা দুই দেশের উচ্চপর্যায়ের সফরের পরিবেশ নষ্ট করেছে। ভারত বিষয়টিকে একটি বেসরকারি আয়োজন হিসেবে ব্যাখ্যা দিলেও উত্তেজনা কমেনি।
এই টানাপোড়েনের ধারাবাহিকতায় দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন থেকে নিজেকে বিরত রাখেন তারেক রহমান। আঞ্চলিক জোট ‘বিমসটেক’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে তাকে ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু ঢাকা সাফ জানিয়ে দেয়, কোনো বহুপক্ষীয় শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে নয়, তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরটি হতে হবে একটি পৃথক এবং পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফর।
ভারত সরকারের সঙ্গে বিএনপির বর্তমান মোটামুটি সুসম্পর্ক ও যোগাযোগের ইতিহাস অবশ্য হঠাৎ করে তৈরি হয়নি। দ্য হিন্দু উল্লেখ করে, ২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের আগেই তারেক রহমানের পাঠানো বিশেষ প্রতিনিধিদলের মাধ্যমে দিল্লির সঙ্গে নতুন করে সংযোগ স্থাপন করা হয়। পরেও বিএনপির পক্ষ থেকে দলের শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সময়ে নয়াদিল্লি সফর করে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া সচল রাখেন।
২০২৪ সালের জানুয়ারির নির্বাচনের দুই মাস আগে বাংলাদেশের বর্তমান জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু নয়াদিল্লি সফর করেন। তিনি প্রকাশ্যে ভারতকে বাংলাদেশিদের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে সমর্থন করার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।
এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনের আগেও বিএনপি একই ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তখন দলের শীর্ষ নেতা আব্দুল আওয়াল মিন্টু, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও হুমায়ুন কবির ভারতীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য নয়াদিল্লি সফর করেছিলেন।
আগের সেই যোগাযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে বরফ গলার ওপর ভিত্তি করেই উভয় দেশ তারেক রহমানের সফরের ব্যাপারে এখন একটি উপযুক্ত তারিখ ও এজেন্ডা চূড়ান্তের জন্য দৌড়ঝাঁপ করছে। চূড়ান্ত তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো হলেও স্থগিত থাকা আলোচনা শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নতুন দিল্লি সফরের সার্বিক প্রস্তুতি আবার পুরোদমে সচল হলো।





















