১১:৫৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ, ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক

ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মারিবের রাজধানী মারিব সিটির কাছে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র সংঘাত হয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর। এই সংঘাতে কমপক্ষে ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন এই ৮০ জনের অধিক হুথি যোদ্ধা।

ইয়াহিয়া আল হাতেমি বলেন, মারিবে সেনাবাহিনী হুথি যোদ্ধাদের প্রতিহত করেছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভয়াবহ সংঘাতের পর ৮০ জনের অধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছে, বাকিরা পালিয়ে গেছে। তাদের ৯টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিব প্রদেশের বিভিন্ন সম্মুখসারিতে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, সামরিক রসদ ও শক্তিবর্ধক এবং সুরক্ষিত অবস্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মারিব শহরে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ বসবাস করে। গত এক দশকে লড়াই ও হুথিদের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। শহরটিতে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে।

মারিব দখলের লক্ষ্যে হুথিদের ধারাবাহিক অভিযানে হাজারো বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযানের কোনোটি সফল হয়ে শহরটি দখল করতে পারেনি।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিরা তাদের বড় ধরনের অভিযান বন্ধ করে দেয়।

আল-হাতেমি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ব্যাপক হামলার মুখে মারিবের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে শনিবার সানা, আমরান, হোদেইদা এবং হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৫০ যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন।

আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে সংখ্যক নিহতের কথা স্বীকার করেছে, তা প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতের ১০ শতাংশেরও কম। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতে হুথিরা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হুথিদের সঙ্গে আশপাশের পার্বত্য এলাকায় সংঘর্ষের পর শহরটির পশ্চিমে অবস্থিত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। সূত্র: আরাব নিউজ

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনে তীব্র সংঘর্ষ, ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত

আপডেট: ১০:৪৪:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইয়েমেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ মারিবের রাজধানী মারিব সিটির কাছে ইরানের মদতপুষ্ট হুথি গোষ্ঠীর সঙ্গে তীব্র সংঘাত হয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর। এই সংঘাতে কমপক্ষে ৮০ হুথি যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে ইয়েমেনি সেনাবাহিনীর মিডিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া আল-হাতেমি সৌদি আরবভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আরব নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, গত শনিবার রাত থেকে রোববার রাত পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় নিহত হয়েছেন এই ৮০ জনের অধিক হুথি যোদ্ধা।

ইয়াহিয়া আল হাতেমি বলেন, মারিবে সেনাবাহিনী হুথি যোদ্ধাদের প্রতিহত করেছে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা ভয়াবহ সংঘাতের পর ৮০ জনের অধিক যোদ্ধা নিহত হয়েছে, বাকিরা পালিয়ে গেছে। তাদের ৯টি সামরিক যান ধ্বংস করা হয়েছে।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, মারিব প্রদেশের বিভিন্ন সম্মুখসারিতে হুথিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলায় যোদ্ধাদের সমাবেশস্থল, সামরিক রসদ ও শক্তিবর্ধক এবং সুরক্ষিত অবস্থানগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

মারিব শহরে ইয়েমেনে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সবচেয়ে বড় অংশ বসবাস করে। গত এক দশকে লড়াই ও হুথিদের দমন-পীড়ন থেকে পালিয়ে ২০ লাখের বেশি মানুষ সেখানে আশ্রয় নিয়েছেন। শহরটিতে তেল ও গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎকেন্দ্রও রয়েছে।

মারিব দখলের লক্ষ্যে হুথিদের ধারাবাহিক অভিযানে হাজারো বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছেন। তবে এসব অভিযানের কোনোটি সফল হয়ে শহরটি দখল করতে পারেনি।

২০২২ সালের এপ্রিলে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর হুথিরা তাদের বড় ধরনের অভিযান বন্ধ করে দেয়।

আল-হাতেমি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর ব্যাপক হামলার মুখে মারিবের বাইরের বিভিন্ন অবস্থান থেকে হুথি যোদ্ধারা পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।

এদিকে শনিবার সানা, আমরান, হোদেইদা এবং হুথিদের নিয়ন্ত্রণাধীন অন্যান্য এলাকায় অন্তত ৫০ যোদ্ধার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাও ছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব যোদ্ধা যুদ্ধক্ষেত্রে নিহত হয়েছেন।

আল-হাতেমির দাবি, হুথিরা প্রকাশ্যে যে সংখ্যক নিহতের কথা স্বীকার করেছে, তা প্রকৃত যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতের ১০ শতাংশেরও কম। তার হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন ৩০০ থেকে ৫০০ জন হুথি যোদ্ধা নিহত হচ্ছেন। মনোবল ভেঙে পড়া ঠেকাতে হুথিরা প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা গোপন করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

ইয়েমেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হুথিদের সঙ্গে আশপাশের পার্বত্য এলাকায় সংঘর্ষের পর শহরটির পশ্চিমে অবস্থিত নোমান পাহাড়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। সূত্র: আরাব নিউজ