০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন মানুষ জামায়াতকে বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

স্টাফ রিপোর্টার:

নির্বাচনে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার হাইপ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মানুষ বিএনপিকেই বেছে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, মানুষ ভুল করেনি। নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবী ও পত্রিকাগুলোর একটি অংশ এমন একটি হাইপ তৈরি করেছিল যে জামায়াত ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে এবং তারাই সব চেয়ে বেশি ভোট পাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর পিআইবি অডিটোরিয়ামে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআইবি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের প্রয়োজনে যাকে কেউ চিনত না, যাকে অখ্যাত মেজর বলে আওয়ামী লীগের লোকজন বিদ্রুপ করতেন, সেই মেজর জিয়াউর রহমানই এমন এক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন যখন গোটা দেশের মানুষ যুদ্ধের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল।

ফখরুল আরও বলেন, দেশের মানুষ তখন একমত হয়ে গিয়েছিল যে পাকিস্তানের সঙ্গে আর থাকা যাবে না এবং যুদ্ধ করতেই হবে। সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ যে ভোট দিয়েছিল, তা কেবল একটি দলের জন্য নয় বরং পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। ‘বিএনপি ইজ এ পার্টি অফ লিবারেল ডেমোক্রেসি’— উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না; বরং যে আদর্শে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই আদর্শকেই আরও শক্তিশালী করতে চাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘সবার আগেই বাংলাদেশ’ স্লোগানের মধ্যেই সেই দর্শন নিহিত রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি এমন এক সময়ে রাজনীতির নেতৃত্বে এসেছিলেন, যখন দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। সে সময় বিভাজনের রাজনীতি না করে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতকে একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে ফ্রন্ট, পরে জাগদল এবং পরবর্তীতে বিএনপি গঠনের মাধ্যমে জাতীয় পুনর্মিলনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারও শত্রু বানাতে চাননি; বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল বাংলাদেশের মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখানো। মানুষ কোনো আধিপত্যের অধীনে নয় বরং স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-ভারতের খেলার সময়ও মানুষ বাংলাদেশের পক্ষেই সমর্থন দেয়। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষ অন্য কারও ছায়ায় নয়, নিজেদের স্বকীয় অবস্থানেই দাঁড়াতে চায়।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০২:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন মানুষ জামায়াতকে বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে

আপডেট: ০২:২২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬

স্টাফ রিপোর্টার:

নির্বাচনে জামায়াতের ক্ষমতায় যাওয়ার হাইপ তৈরি হয়েছিল, কিন্তু মানুষ বিএনপিকেই বেছে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, মানুষ ভুল করেনি। নির্বাচনের আগে বুদ্ধিজীবী ও পত্রিকাগুলোর একটি অংশ এমন একটি হাইপ তৈরি করেছিল যে জামায়াত ক্ষমতায় চলে যাচ্ছে এবং তারাই সব চেয়ে বেশি ভোট পাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মানুষ তাদের বাদ দিয়ে বিএনপিকেই বেছে নিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাজধানীর পিআইবি অডিটোরিয়ামে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্তমান প্রেক্ষাপটে জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কূটনীতি’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সংবাদপত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পিআইবি আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের প্রয়োজনে যাকে কেউ চিনত না, যাকে অখ্যাত মেজর বলে আওয়ামী লীগের লোকজন বিদ্রুপ করতেন, সেই মেজর জিয়াউর রহমানই এমন এক সময়ে চট্টগ্রাম থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছিলেন যখন গোটা দেশের মানুষ যুদ্ধের ঘোষণার অপেক্ষায় ছিল।

ফখরুল আরও বলেন, দেশের মানুষ তখন একমত হয়ে গিয়েছিল যে পাকিস্তানের সঙ্গে আর থাকা যাবে না এবং যুদ্ধ করতেই হবে। সেই যুদ্ধ শুরু করেছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান।

তিনি বলেন, ১৯৭০ সালের নির্বাচনে মানুষ যে ভোট দিয়েছিল, তা কেবল একটি দলের জন্য নয় বরং পাকিস্তান থেকে বেরিয়ে আসার আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি একটি উদার গণতান্ত্রিক দল। ‘বিএনপি ইজ এ পার্টি অফ লিবারেল ডেমোক্রেসি’— উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিএনপি উদার গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়। কোনো বিভাজন সৃষ্টি করতে চাই না; বরং যে আদর্শে বাংলাদেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেই আদর্শকেই আরও শক্তিশালী করতে চাই।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘সবার আগেই বাংলাদেশ’ স্লোগানের মধ্যেই সেই দর্শন নিহিত রয়েছে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তিনি এমন এক সময়ে রাজনীতির নেতৃত্বে এসেছিলেন, যখন দেশ অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে ধ্বংসপ্রাপ্ত ছিল। সে সময় বিভাজনের রাজনীতি না করে তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতকে একত্রিত করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। প্রথমে ফ্রন্ট, পরে জাগদল এবং পরবর্তীতে বিএনপি গঠনের মাধ্যমে জাতীয় পুনর্মিলনের রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশকে কারও শত্রু বানাতে চাননি; বরং সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছিলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের জনপ্রিয়তার মূল কারণ ছিল বাংলাদেশের মানুষকে নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখানো। মানুষ কোনো আধিপত্যের অধীনে নয় বরং স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-পাকিস্তান কিংবা বাংলাদেশ-ভারতের খেলার সময়ও মানুষ বাংলাদেশের পক্ষেই সমর্থন দেয়। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যায়, বাংলাদেশের মানুষ অন্য কারও ছায়ায় নয়, নিজেদের স্বকীয় অবস্থানেই দাঁড়াতে চায়।

পিআইবির মহাপরিচালক ফারুক ওয়াসিফের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. মুশতাক খান, এএনএম মুনিরুজ্জামান, সিনিয়র সাংবাদিক আবু রূশদ।