বাঁশখালির খাটখালী জেটিঘাটে ড্রেজিং বন্ধ চেয়ে হাইকোর্টে রিট
এনামুল হক রাশেদী, বাঁশখালী চট্টগ্রাম থেকে:
চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলার গন্ডামারা ইউনিয়নের বড়ঘোনা খাটখালীতে এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃক ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ ও ব্রেকওয়াটার (পাথর ফেলে সাগরে জেটি নির্মাণ) সরানোর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে একটি রিট দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়লাবাহী লাইটার জাহাজ ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত জেলেদের জীবিকার ক্ষতিপূরণ এবং ইকোনোমিক জোন-১ ও ২ বন্ধেরও নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
৯ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার গন্ডামারা বড়ঘোনা বহুমুখী সমবায় সমিতির সহকারী সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন এ রিট দায়ের করেন। এ রিটে বিবাদী করা হয়েছে—পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম, এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বাঁশখালি উপজেলা সহকারী ভূমি অফিসারসহ মোট ১১ জনকে। বিষয়টি হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে বলে জানিয়েছেন রিটকারীর আইনজীবী এডভোকেট মোহাম্মদ ফারুক হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জেটিঘাটটি দীর্ঘদিন ধরে জেলেদের কর্মব্যস্ততার প্রাণকেন্দ্র। এখান থেকে প্রতিদিন তিন হাজারেরও বেশি জেলে নৌকা ও সাম্পান নিয়ে গভীর সাগরে মাছ শিকার করেন। কিন্তু সম্প্রতি কয়লাবাহী জাহাজ ভিড়ানো শুরু হওয়ায় জেলেদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়েছে। জাহাজের ধাক্কায় জাল ছিঁড়ে যাওয়া, সাম্পানের সাথে সংঘর্ষ, এমনকি নৌকা ডুবিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ তাদের।
গত ১ সেপ্টেম্বর ক্ষতিগ্রস্ত জেলেরা গন্ডামারা পশ্চিম বড়ঘোনা জেটিঘাট এলাকায় বিক্ষোভ করেন। জেলেরা অভিযোগ করেন, মাছ ধরতে তাদের এখন ২০-৩০ কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। ফেরার পথে প্রকল্পের লোকজন মাছ দাবি করে; না দিলে নৌকা ভিড়তে দেওয়া হয় না। এতে তাদের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। বিশেষ করে ইলিশ মৌসুমে এই জেটিঘাটই ছিল স্থানীয় অর্থনীতির মূল ভরসা। কিন্তু নানা বাধার কারণে পুরো অঞ্চল এখন অর্থনৈতিক সংকটে।
জেলেরা দাবি করেন, প্রকল্পের কারণে তাদের ঐতিহ্যবাহী জীবিকা ধ্বংস হচ্ছে। তাই নিরাপদে নৌকা ভিড়ার নিশ্চয়তা এবং স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
অন্যদিকে এস এস পাওয়ার প্ল্যান্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি দেশের বৃহত্তম একটি প্রকল্প এবং জেটিঘাটটি কেবল প্রকল্পের স্বার্থেই নির্মিত। জেলেদের নৌকা ও জাল বসানোয় লাইটার জাহাজ ভিড়তে সমস্যা হচ্ছে। একইসাথে চুরি-ডাকাতির ঘটনাও ঘটছে। নিরাপত্তার স্বার্থে সেখানে নৌকা ভিড়ানো বা জাল বসানো বন্ধ রাখতে মাইকিং করা হচ্ছে।
প্রকল্পের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা বলেন, “জেটিঘাট এলাকাটি প্রকল্পের নিজস্ব জায়গা। বর্তমানে ড্রেজিংয়ের কাজ চলমান রয়েছে। নৌকা ভিড়তে দিলে কয়লাবাহী লাইটার জাহাজে বিঘ্ন ঘটে। নিরাপত্তা ও প্রকল্পের স্বার্থেই সেখানে জাল বসানো বা নৌকা ভিড়তে দেওয়া যাবে না।















