জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এআই, অঙ্গীকারে কতটা ভরসা?
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিকে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নিয়েছে কপ৩১ সম্মেলনের আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এ লক্ষ্যে সম্মেলনের আগে ‘আনতালিয়া আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (এআই) প্লেজ’ নামে একটি নতুন অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়েছে। এতে পরিবেশবান্ধব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং দায়িত্বশীলভাবে এআই প্রযুক্তি উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে। তবে এআইয়ের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার ভারসাম্য রক্ষায় এই অঙ্গীকার কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন শিল্প খাতের বিশেষজ্ঞরা।
আগামী মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কপ৩১ সম্মেলনের আগে এই অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়। এর লক্ষ্য এআইকে জলবায়ু সংকট মোকাবিলার একটি সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে তুলে ধরা। একই সঙ্গে এআই প্রযুক্তির উন্নয়ন ও ব্যবহার যেন পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি না করে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অঙ্গীকারে টেকসই এআই অবকাঠামো এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি উন্নয়নের জন্য উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তবে এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হলো, অঙ্গীকারটি স্বেচ্ছামূলক। অর্থাৎ এতে অংশ নেওয়া প্রতিষ্ঠান বা সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর জন্য লক্ষ্য পূরণে বাধ্যতামূলক শর্ত নেই। ফলে ঘোষিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। জলবায়ু সুরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শুধু অঙ্গীকার যথেষ্ট কি না, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি করছে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআইয়ের ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং অবকাঠামোর চাহিদাও বাড়ছে। এসব অবকাঠামো পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। ফলে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং পরিবেশ সুরক্ষার জরুরি প্রয়োজনের মধ্যে একটি মৌলিক দ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হলেও এর পরিবেশগত প্রভাব উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হলে সেই প্রযুক্তির নিজস্ব পরিবেশগত প্রভাবও বিবেচনায় নিতে হবে। এআইয়ের মাধ্যমে পরিবেশগত সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রযুক্তিটি পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো যদি পরিবেশের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করে, তাহলে সেই উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এ কারণে নতুন অঙ্গীকারের লক্ষ্য এবং বাস্তবায়নের মধ্যে ব্যবধান কতটা কমানো সম্ভব হবে, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পরিবেশবান্ধব এআই অবকাঠামো গড়ে তোলার ঘোষণা বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তরিত হবে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন। একই সঙ্গে দায়িত্বশীল এআই উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি বাস্তবে কীভাবে অনুসরণ করা হবে, তা নিয়েও স্পষ্টতা প্রয়োজন।
পরিবেশ ও টেকসই ব্যবসাবিষয়ক সংবাদমাধ্যম এডির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন অঙ্গীকার এআইকে জলবায়ু সমাধানের অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে এআইয়ের বিপুল জ্বালানি চাহিদা এবং পরিবেশ সুরক্ষার প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। অঙ্গীকারটি স্বেচ্ছামূলক হওয়ায় এর বাস্তব প্রভাব নিয়ে বিশেষজ্ঞদের সংশয়ও কাটেনি।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় এআইয়ের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হলে প্রযুক্তির উন্নয়নের পাশাপাশি এর পরিবেশগত প্রভাব নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্ব দিতে হবে। কপ৩১-এর আগে প্রকাশিত এই অঙ্গীকার সেই আলোচনাকে সামনে এনেছে। তবে ঘোষিত লক্ষ্যগুলো বাস্তবে কতটা পরিবর্তন আনতে পারবে, তা নির্ভর করবে অঙ্গীকারের বাইরে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপের ওপর। সূত্র-=ঢাকা পোস্ট
























