১১:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬

ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে সার্বিয়ার পুলিশ প্রধান গ্রেপ্তার

ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে সার্বিয়ার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির প্রসিকিউটরের কার্যালয় তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশটির পুলিশ প্রধান।

নির্বাচনে পরাজিত দেশটির নেতা আলেকজান্ডার ভুচিচের অনুগত হিসেবে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী পুলিশ প্রধান মার্কো ক্রিকাক। ভুচিচের ক্ষমতাসীন ডানপন্থী দলের পতন ঘটাতে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ দমনে ‘পুলিশি বর্বরতার’ মূল হোতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সার্বিয়ার ছাত্র সংগঠনগুলো।

ছাত্র নেতারা গত সপ্তাহে দেশের সার্বিক সংস্কারের অংশ হিসেবে মার্কোর পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রধানকে চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি তোলে। প্রায় দুই বছরের টানা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গত ২৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের সমর্থিত জোট ভুচিচের ডাকা আগাম নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পায়।

তবে রোববার বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে মার্কোর গ্রেপ্তারের যোগসূত্র থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই।

দেশটির এই প্রসিকিউটর বলেন, মার্কোর পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কমান্ডার বোসকো সেকুলোভিচকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্তেফানোভিচ বলেন, তাদের দুজনের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার মাধ্যমে বেলগ্রেডের সাবেক পুলিশ প্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকারের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ও তার ওপর আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে।

গত মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় অপরাধজগতের এক শীর্ষ ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পর এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা যে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধের তথ্য গোপন ও অপরাধীকে সহায়তা করার অভিযোগে ঘটনার তিন দিন পরই মিলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। টানা দুই মাস হেফাজতে থাকার পর মিলিচ নিজেই মার্কো ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, প্রসিকিউটরদের কাছে তারা অসম্পূর্ণ ও ভুয়া প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। সূত্র: এএফপি

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:০১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬
০

ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে সার্বিয়ার পুলিশ প্রধান গ্রেপ্তার

আপডেট: ১০:০১:৩৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে সার্বিয়ার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের প্রধানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার দেশটির প্রসিকিউটরের কার্যালয় তাকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। যদিও এক সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক নির্বাচনের সঙ্গে কোনো ধরনের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দেশটির পুলিশ প্রধান।

নির্বাচনে পরাজিত দেশটির নেতা আলেকজান্ডার ভুচিচের অনুগত হিসেবে পরিচিত ৪২ বছর বয়সী পুলিশ প্রধান মার্কো ক্রিকাক। ভুচিচের ক্ষমতাসীন ডানপন্থী দলের পতন ঘটাতে দেশজুড়ে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ দমনে ‘পুলিশি বর্বরতার’ মূল হোতা হিসেবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে সার্বিয়ার ছাত্র সংগঠনগুলো।

ছাত্র নেতারা গত সপ্তাহে দেশের সার্বিক সংস্কারের অংশ হিসেবে মার্কোর পাশাপাশি কয়েকজন শীর্ষ পুলিশ ও গোয়েন্দা প্রধানকে চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি তোলে। প্রায় দুই বছরের টানা সরকারবিরোধী আন্দোলনের পর গত ২৫ অক্টোবর শিক্ষার্থীদের সমর্থিত জোট ভুচিচের ডাকা আগাম নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয় পায়।

তবে রোববার বেলগ্রেডের প্রধান প্রসিকিউটর নেনাদ স্তেফানোভিচ শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে মার্কোর গ্রেপ্তারের যোগসূত্র থাকার বিষয়টি নাকচ করে দিয়েছেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, এই গ্রেপ্তারের সঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের কোনো সম্পর্ক নেই।

দেশটির এই প্রসিকিউটর বলেন, মার্কোর পাশাপাশি সংঘবদ্ধ অপরাধ দমন বিভাগের দায়িত্বে থাকা পুলিশ কমান্ডার বোসকো সেকুলোভিচকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

স্তেফানোভিচ বলেন, তাদের দুজনের বিরুদ্ধে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার মাধ্যমে বেলগ্রেডের সাবেক পুলিশ প্রধান ভেসেলিন মিলিচের অধিকারের গুরুতর ক্ষয়ক্ষতি ও তার ওপর আঘাত হানার অভিযোগ রয়েছে।

গত মে মাসে বেলগ্রেডের একটি রেস্তোরাঁয় অপরাধজগতের এক শীর্ষ ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের পর এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা যে তদন্ত পরিচালনা করেছিলেন, সেখানে ক্ষমতার অপব্যবহারের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

ওই হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধের তথ্য গোপন ও অপরাধীকে সহায়তা করার অভিযোগে ঘটনার তিন দিন পরই মিলিচকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। টানা দুই মাস হেফাজতে থাকার পর মিলিচ নিজেই মার্কো ও সেকুলোভিচের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে তিনি বলেন, প্রসিকিউটরদের কাছে তারা অসম্পূর্ণ ও ভুয়া প্রমাণ জমা দিয়েছিলেন। সূত্র: এএফপি