শ্রমিক বিক্ষোভ: আজও ২ শতাধিক কারখানা ছুটি ঘোষণা
বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে ১০ প্লাটুন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ সুপার জানান, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।
সংঘর্ষ ও উত্তেজনার জেরে শিল্পাঞ্চলের অর্ধশতাধিক পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। তবে এই সংখ্যা কত, তা নির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি আশুলিয়া শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া। শ্রমিক ও কারখানা মালিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুপুর ১২টা পর্যন্ত অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
পুলিশ সুপার মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘শিল্পাঞ্চলের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে পুলিশ কাজ করছে। গতকাল রবিবার গাজীপুর, আশুলিয়া ও সাভারে তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ ছিল।
এ ছাড়া রাজধানীর মিরপুর-১০ থেকে মিরপুর-১২ নম্বর পর্যন্ত প্রধান সড়কে পোশাক শ্রমিকরা রয়েছেন। গতকাল সংঘর্ষের পর আজ সড়ক অবরোধ করেননি তারা। ফলে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। উপস্থিত রয়েছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। মিরপুর-১০ থেকে একজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ছাড়া কাফরুল থানা পুলিশ আরো পাঁচজনকে আটক করেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এদিকে সকালে মিরপুর-১১ নাম্বারে কয়েক দফায় পুলিশের সঙ্গে পোশাক শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়।
‘সীমান্তের ওপারের ইশারায় অস্থিতিশীল’
আজ সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে গার্মেন্টস মালিকদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তার দাবি, শ্রমিক আন্দোলনের নামে সীমান্তের ওপারের ইশারায় দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাচ্ছেন।
শ্রমিক আন্দোলনের নামে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ হয়। তাদের জীবন মানের উন্নতি হয় এবং তাদের সব বিষয় বিবেচনা রেখে অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে সে বিষয়টি (ন্যূনতম মজুরি) নির্ধারিত হয়। এটা উভয় পক্ষের আলোচনার মাধ্যমে বাস্তবতার নিরিখে নির্ধারিত হবে।
পতিত স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের কিছু পক্ষ নিরীহ শ্রমিক ভাইবোনদের ব্যবহার করে অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বিকেলে শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৈঠকে মন্ত্রী চলমান আন্দোলন ও তাদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের বিষয়ে কথা আলোচনা হবে।
পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখবেন মালিকরা
পোশাকশিল্প এলাকায় শ্রমিক অসন্তোষ ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন মালিকরা। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।
শিল্পাঞ্চলে অসন্তোষের উদ্ভূত পরিস্থিতিতে, পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর উত্তরা অফিসে গতকাল রবিবার সভা হয়। সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠন হওয়ার পরও যদি শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেন, তাহলে শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখা হবে।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু জানান, মজুরি বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিকরা কাজ না করেন, তাহলে রোজ রোজ কারখানা চালু রাখা কঠিন হবে। সে ক্ষেত্রে শ্রম আইনের ১৩/১ ধারা অনুযায়ী কারখানা বন্ধ রাখতে পারবে মালিকরা। শ্রমিকরা কাজে যোগ না দেওয়ায় গতকাল রবিবার ৫২৯টি কারখানা তাদের উৎপাদন কাজ চালাতে পারেনি বলেও জানান তিনি।
সূত্র-কালেরকণ্ঠ























