০১:৫৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

পেশাগত জীবনে বৈষম্য চর্চা করবেন না: নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ব্যক্তি জীবনে বৈষম্যের শিকার হলেও পেশাগত জীবনে বৈষম্য চর্চা না করতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে যারা এই মহান পেশায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন, ব্যক্তি জীবনে আপনারা যে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, পেশাগত জীবনে যেন সেই বৈষম্যের চর্চা না করেন- সেই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব কেবল চাকরির পরিচয় নয় বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার। পুলিশের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হতে হবে। ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোপরি মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে সত্যিকার অর্থে জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।’

বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ও মানব পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় প্রয়োজন। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সদস্যদের পেশাদার আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও পেশিশক্তির ব্যবহার পরিহার করে দক্ষতা ও মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে। আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে জনগণকে সেবা দেয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ২০০৬ সালে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ৮৪ জন পুরুষ সার্জেন্ট ও ১৬২ জন ক্যাডেট এসআইয়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে সার্জেন্টদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ৩০ এপ্রিল এবং ক্যাডেট এসআইদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০ এপ্রিল।

রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশিক্ষণের আগে বাদ পড়া এসব পুলিশ কর্মকর্তাকে বর্তমান সরকার পুনরায় নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। এর আগে চলতি বছরের ২ আগস্ট সরকার মোট ৫৮ জন বিসিএস পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে ২৭তম বিসিএসের ৫৭ জন এবং ২৮তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাদের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
০

পেশাগত জীবনে বৈষম্য চর্চা করবেন না: নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট: ১২:৫৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

ব্যক্তি জীবনে বৈষম্যের শিকার হলেও পেশাগত জীবনে বৈষম্য চর্চা না করতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাকাডেমিতে ২৭তম শিক্ষানবিশ সার্জেন্ট ও ৪৩তম ক্যাডেট সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তিনি এ আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া ও নানা প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে যারা এই মহান পেশায় অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছেন, ব্যক্তি জীবনে আপনারা যে বৈষম্যের শিকার হয়েছেন, পেশাগত জীবনে যেন সেই বৈষম্যের চর্চা না করেন- সেই প্রত্যাশা আমাদের সকলের। প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, পুলিশের দায়িত্ব কেবল চাকরির পরিচয় নয় বরং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ন্যায়বিচারের পথ সুগম করা এবং রাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলা রক্ষার অঙ্গীকার। পুলিশের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক। তাই সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সেবা দেয়ার ক্ষেত্রে আরও আন্তরিক হতে হবে। ভয়ভীতি ও পক্ষপাতিত্ব উপেক্ষা করে জনগণকে আইনি সেবা ও সুরক্ষা দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘সর্বোপরি মানুষের পাশে থেকে, মানুষকে সেবা দিয়ে জনগণের আস্থা অর্জন করে সত্যিকার অর্থে জনগণের পুলিশ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে হবে। মানুষের জন্য কাজ করে মানুষের হৃদয় জয় করতে হবে।’

বর্তমান সময়ে অপরাধের ধরন পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সাইবার অপরাধ, অনলাইন প্রতারণা, জালিয়াতি, মাদকসংক্রান্ত অপরাধ ও মানব পাচারের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, তথ্য বিশ্লেষণ, বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় প্রয়োজন। সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় স্বতন্ত্র সাইবার ইউনিট চালু রয়েছে বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সদস্যদের পেশাদার আচরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, দুর্ব্যবহার, পক্ষপাতদুষ্ট আচরণ ও পেশিশক্তির ব্যবহার পরিহার করে দক্ষতা ও মানবিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় দিতে হবে। আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে জনগণকে সেবা দেয়ার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। অনুষ্ঠানে ২০০৬ সালে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় বাদ পড়া ৮৪ জন পুরুষ সার্জেন্ট ও ১৬২ জন ক্যাডেট এসআইয়ের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। তাদের মধ্যে সার্জেন্টদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ৩০ এপ্রিল এবং ক্যাডেট এসআইদের প্রশিক্ষণ শুরু হয় ২০ এপ্রিল।

রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রশিক্ষণের আগে বাদ পড়া এসব পুলিশ কর্মকর্তাকে বর্তমান সরকার পুনরায় নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। এর আগে চলতি বছরের ২ আগস্ট সরকার মোট ৫৮ জন বিসিএস পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়। তাদের মধ্যে ২৭তম বিসিএসের ৫৭ জন এবং ২৮তম বিসিএসের একজন কর্মকর্তা ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে তাদের প্রথম মৌখিক পরীক্ষার ফল বাতিল করে।