০৫:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুকুদা মারা গেছেন

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াশুও ফুকুদা ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্যবসায়িক দৈনিক নিক্কেইয়ের প্রতিবেদনে মৃত্যুর বিষয় জানানো হয়েছে। সংক্ষিপ্ত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ করে চীনসহ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।

জাপানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রীপুত্র হিসেবে নিজে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসা এই রাজনীতিবিদ গত বৃহস্পতিবার হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বলে নিক্কেই জানায়। ২০০৭ সালে শিনজো আবের আকস্মিক পদত্যাগের পর ফুকুদা প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তার মেয়াদ এক বছরেরও কম সময় স্থায়ী ছিল যা তার বাবা তাকেও ফুকুদার দুই বছরের মেয়াদের চেয়েও সংক্ষিপ্ত।

টোকিওর ঐতিহ্যবাহী ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ফুকুদা একটি তেল কোম্পানিতে প্রায় দুই দশক কাজ করেন। পরে ১৯৭৬ সালে তার বাবা প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি চাকরি ছেড়ে বাবার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে যোগ দেন।

১৯৯০ সালে জাপানের শক্তিশালী নিম্নকক্ষে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফুকুদা। পরবর্তীতে ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পেনশন তহবিলে নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পদত্যাগ করা একাধিক মন্ত্রীর মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন।

একটু চটজলদি বা রুক্ষ মেজাজের জন্য পরিচিত চশমা পরিহিত ফুকুদা ২০০৩ সালে এক অপ্রকাশযোগ্য মন্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, যেখানে তিনি উসকানিমূলক পোশাক পরা নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার জন্য দায়ী করেছিলেন। আবের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ফুকুদা ঠাট্টা করে বলেছিলেন যে, বিভক্ত পার্লামেন্ট এবং বিরোধীদের আইন পাসে বাধা দেওয়ার ক্ষমতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়াটা তার জন্য কঠিন একটি লটারি পাওয়ার মতো।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থায় হতাশ হয়ে ফুকুদা ২০০৮ সালে পদত্যাগ করেন। মাত্র এক বছরের মাথায় পদত্যাগ করা পরপর ছয়জন জাপানি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

কূটনৈতিক নীতিতে নরমপন্থি বা কূটনৈতিক কবুতর হিসেবে পরিচিত ফুকুদা দায়িত্ব ছাড়ার পরও বেশ কয়েকবার চীন সফর করেন, যাতে দুদেশের মধ্যকার প্রায়শই তৈরি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক উন্নত করা যায়।

ফুকুদা তার ছেলে তাতসুও-কে রেখে গেছেন, যিনি নিজেও একজন আইনপ্রণেতা এবং ভবিষ্যতে জাপানের সম্ভাবনাময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত। সূত্র: রয়টার্স

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০২:৫২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ফুকুদা মারা গেছেন

আপডেট: ০২:৫২:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইয়াশুও ফুকুদা ৯০ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) ব্যবসায়িক দৈনিক নিক্কেইয়ের প্রতিবেদনে মৃত্যুর বিষয় জানানো হয়েছে। সংক্ষিপ্ত মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় তিনি বিশেষ করে চীনসহ এশীয় প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করেছিলেন।

জাপানের ইতিহাসে প্রথম প্রধানমন্ত্রীপুত্র হিসেবে নিজে প্রধানমন্ত্রীর পদে বসা এই রাজনীতিবিদ গত বৃহস্পতিবার হৃৎযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান বলে নিক্কেই জানায়। ২০০৭ সালে শিনজো আবের আকস্মিক পদত্যাগের পর ফুকুদা প্রধানমন্ত্রী হন। তবে তার মেয়াদ এক বছরেরও কম সময় স্থায়ী ছিল যা তার বাবা তাকেও ফুকুদার দুই বছরের মেয়াদের চেয়েও সংক্ষিপ্ত।

টোকিওর ঐতিহ্যবাহী ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর ফুকুদা একটি তেল কোম্পানিতে প্রায় দুই দশক কাজ করেন। পরে ১৯৭৬ সালে তার বাবা প্রধানমন্ত্রী হলে তিনি চাকরি ছেড়ে বাবার রাজনৈতিক সচিব হিসেবে যোগ দেন।

১৯৯০ সালে জাপানের শক্তিশালী নিম্নকক্ষে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ফুকুদা। পরবর্তীতে ২০০০ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি চিফ ক্যাবিনেট সেক্রেটারি বা মুখ্য মন্ত্রিসভা সচিবের দায়িত্ব পালন করেন। পেনশন তহবিলে নিয়মিত চাঁদা না দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে পদত্যাগ করা একাধিক মন্ত্রীর মধ্যে তিনিও একজন ছিলেন।

একটু চটজলদি বা রুক্ষ মেজাজের জন্য পরিচিত চশমা পরিহিত ফুকুদা ২০০৩ সালে এক অপ্রকাশযোগ্য মন্তব্যের কারণে সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন, যেখানে তিনি উসকানিমূলক পোশাক পরা নারীদের ধর্ষণের শিকার হওয়ার জন্য দায়ী করেছিলেন। আবের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার পর ফুকুদা ঠাট্টা করে বলেছিলেন যে, বিভক্ত পার্লামেন্ট এবং বিরোধীদের আইন পাসে বাধা দেওয়ার ক্ষমতার কারণে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়াটা তার জন্য কঠিন একটি লটারি পাওয়ার মতো।

আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অচলাবস্থায় হতাশ হয়ে ফুকুদা ২০০৮ সালে পদত্যাগ করেন। মাত্র এক বছরের মাথায় পদত্যাগ করা পরপর ছয়জন জাপানি প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়।

কূটনৈতিক নীতিতে নরমপন্থি বা কূটনৈতিক কবুতর হিসেবে পরিচিত ফুকুদা দায়িত্ব ছাড়ার পরও বেশ কয়েকবার চীন সফর করেন, যাতে দুদেশের মধ্যকার প্রায়শই তৈরি হওয়া উত্তেজনাপূর্ণ সম্পর্ক উন্নত করা যায়।

ফুকুদা তার ছেলে তাতসুও-কে রেখে গেছেন, যিনি নিজেও একজন আইনপ্রণেতা এবং ভবিষ্যতে জাপানের সম্ভাবনাময় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত। সূত্র: রয়টার্স