১২:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বদিউল আলম চৌধুরীর মত গুণীজনদের স্মরণে রাখা আমাদের দায়িত্ব: ডা. শাহদাত

ভাষাসৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ভাষাসৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ১০ অক্টোবর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক কাজী শাহাদাত হোসাইন এর সভাপতিত্বে সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক লাইব্রেরী কনফারেন্স হলে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন। তিনি বলেন, গুণীজনদের আমাদের বছরে একবার হলেও স্মরণ করতে হবে, গুণীজনদের স্মরণ রাখা আমাদের দায়িত্ব। বদিউল আলম চৌধুরী একজন উঁচু দরের মানুষ ছিলেন। ওনারা সংগ্রাম না করলে আমরা বাংলা ভাষায় কথায় বলতে পারতাম না। এমন সফল একজন মানুষ ছিলেন বদিউল আলম চৌধুরী। বদিউল আলম চৌধুরী সৎ, সাহসী ও অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বদিউল আলম চৌধুরী একজন ভাষাসৈনিক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক, চট্টগ্রামের যে ক’জন ব্যক্তিত্ব ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অন্যতম বদিউল আলম চৌধুরী। তিনি ছিলেন অনেকেরই বিপদের বন্ধু। সবার একান্ত আপনজন। তার আন্তরিকতা, দয়া ও মমতার পরশ ছিল সবার জন্য। নীরবে তিনি কাজ করে গেছেন মানবতার কল্যাণে। বদিউল আলম চৌধুরী নিঃস্বার্থভাবে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ অতিথি জনাব আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ এম.পি বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী একজন গুণীজন ছিলেন। চট্টগ্রামের একজন বীর ছিলেন। স্মরণসভা আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানাই। বদিউল আলম চৌধুরী তমুদ্দিন মজলিসের নেতা হিসেবে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। বদিউল আলম চৌধুরীকে মরণোত্তর ২১শে পদক দেওয়া উচিত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য আবু সুফিয়ান এম.পি বলেন, গুণীজনদের স্মৃতিচারণ মূলক অনুষ্ঠানে থাকতে পারা নিজেদের জন্য উপকার হয়। ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী শুধু একজন ভাষা সৈনিক নন, তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কর্মবীর ছিলেন। শহীদ জিয়ার মাধ্যমে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রতিষ্ঠা ভূমিকা রেখেছেন। পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন, আজীবন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন।
ড. নাজনীন কাউসার বলেন , আমার আব্বা সকল ভাইবোনকে একই দৃষ্টিতে দেখেতেন। আমাদেরকে ছেলে মেয়ে না বলে ছয় সন্তান বলতেন। আমার আব্বা ৪৮ থেকে ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৫২ থেকে ৫৪ যুক্তফ্রন্টের ভূমিধস জয়ে আমার বাবা অবদান অপরসীম। জনাব জাহেদুল করিম কচি বলেন, স্বাধীনতার পর বদিউল আলম চৌধুরীর সাথে আমার জননেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সভাপতি বক্তব্য অধ্যাপক কাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী আমাদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানাই একজন ভাষা সৈনিক এর স্মরণ সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। উক্ত স্মরণ সভা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ নিযামউদ্দিন ও প্রশান্তকুমার পান্ডে। উক্ত স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ এম. এ. সবুর, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, এস.কে. খোদা তোতন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. মঈনুদ্দিন, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নেছার আহমদ বুলু, কাট্টলী নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাবা তাহেরা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু অসীত কুমার দাশ, হযরত মঈনুদ্দীন শাহ, দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আলী নেওয়াজ, রাজনীতিবিদ একরামুল হক, কলিম উদ্দিন বি.এস.সি প্রমুখ। স্মরণ সভাশেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মুজিব উদ্দিন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
২

বদিউল আলম চৌধুরীর মত গুণীজনদের স্মরণে রাখা আমাদের দায়িত্ব: ডা. শাহদাত

আপডেট: ১০:০১:২৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
ভাষাসৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে ভাষাসৈনিক বদিউল আলম চৌধুরীর ১৯তম মৃত্যুবার্ষিকীতে ১০ অক্টোবর মৃত্যুবার্ষিকী উদযাপন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক কাজী শাহাদাত হোসাইন এর সভাপতিত্বে সিটি কর্পোরেশনের পাবলিক লাইব্রেরী কনফারেন্স হলে স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। স্মরণ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম সিটিকর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহদাত হোসেন। তিনি বলেন, গুণীজনদের আমাদের বছরে একবার হলেও স্মরণ করতে হবে, গুণীজনদের স্মরণ রাখা আমাদের দায়িত্ব। বদিউল আলম চৌধুরী একজন উঁচু দরের মানুষ ছিলেন। ওনারা সংগ্রাম না করলে আমরা বাংলা ভাষায় কথায় বলতে পারতাম না। এমন সফল একজন মানুষ ছিলেন বদিউল আলম চৌধুরী। বদিউল আলম চৌধুরী সৎ, সাহসী ও অসাধারণ জ্ঞানের অধিকারী ছিলেন। বদিউল আলম চৌধুরী একজন ভাষাসৈনিক, শিক্ষানুরাগী ও সমাজ সেবক, চট্টগ্রামের যে ক’জন ব্যক্তিত্ব ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অন্যতম বদিউল আলম চৌধুরী। তিনি ছিলেন অনেকেরই বিপদের বন্ধু। সবার একান্ত আপনজন। তার আন্তরিকতা, দয়া ও মমতার পরশ ছিল সবার জন্য। নীরবে তিনি কাজ করে গেছেন মানবতার কল্যাণে। বদিউল আলম চৌধুরী নিঃস্বার্থভাবে সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে অগ্রনী ভূমিকা রাখেন।
বিশেষ অতিথি জনাব আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ এম.পি বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী একজন গুণীজন ছিলেন। চট্টগ্রামের একজন বীর ছিলেন। স্মরণসভা আয়োজনকারীদের ধন্যবাদ জানাই। বদিউল আলম চৌধুরী তমুদ্দিন মজলিসের নেতা হিসেবে ভাষা আন্দোলনে ভূমিকা রেখেছেন। বদিউল আলম চৌধুরীকে মরণোত্তর ২১শে পদক দেওয়া উচিত।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য আবু সুফিয়ান এম.পি বলেন, গুণীজনদের স্মৃতিচারণ মূলক অনুষ্ঠানে থাকতে পারা নিজেদের জন্য উপকার হয়। ভাষা সৈনিক বদিউল আলম চৌধুরী শুধু একজন ভাষা সৈনিক নন, তিনি বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী কর্মবীর ছিলেন। শহীদ জিয়ার মাধ্যমে জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রতিষ্ঠা ভূমিকা রেখেছেন। পরিচালনা কমিটির দায়িত্ব পালন করেছেন, আজীবন জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ উন্নয়নের জন্য কাজ করেছেন।
ড. নাজনীন কাউসার বলেন , আমার আব্বা সকল ভাইবোনকে একই দৃষ্টিতে দেখেতেন। আমাদেরকে ছেলে মেয়ে না বলে ছয় সন্তান বলতেন। আমার আব্বা ৪৮ থেকে ৫২ ভাষা আন্দোলন, ৫২ থেকে ৫৪ যুক্তফ্রন্টের ভূমিধস জয়ে আমার বাবা অবদান অপরসীম। জনাব জাহেদুল করিম কচি বলেন, স্বাধীনতার পর বদিউল আলম চৌধুরীর সাথে আমার জননেতা আব্দুল্লাহ আল নোমানের মাধ্যমে পরিচয় হয়। সভাপতি বক্তব্য অধ্যাপক কাজী শাহাদাত হোসেন বলেন, বদিউল আলম চৌধুরী আমাদের মাঝে শিক্ষা বিস্তারে ভূমিকা রেখেছে। রাজনৈতিক নেতা হিসেবে দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে অসাধারণ ব্যক্তিত্ব ছিলেন। উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জানাই একজন ভাষা সৈনিক এর স্মরণ সভায় উপস্থিত হওয়ার জন্য। উক্ত স্মরণ সভা যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন মুহাম্মদ নিযামউদ্দিন ও প্রশান্তকুমার পান্ডে। উক্ত স্মরণ সভায় আরো বক্তব্য রাখেন রাজনীতিবিদ এম. এ. সবুর, হারুন জামান, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, এস.কে. খোদা তোতন, চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক এড. মঈনুদ্দিন, মুসলিম এডুকেশন সোসাইটির সহ-সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ নেছার আহমদ বুলু, কাট্টলী নুরুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জনাবা তাহেরা বেগম, সহকারী প্রধান শিক্ষক বাবু অসীত কুমার দাশ, হযরত মঈনুদ্দীন শাহ, দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আলী নেওয়াজ, রাজনীতিবিদ একরামুল হক, কলিম উদ্দিন বি.এস.সি প্রমুখ। স্মরণ সভাশেষে মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মুজিব উদ্দিন।