০৬:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন আসাদ আলম

ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দেওয়া পেশাদার কূটনীতিক সিয়াম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে সিয়ামের নিয়োগের জন্য ভারতের কাছে চাওয়া আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র বা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ায় ভারতীয় পক্ষের কারণে অ্যাগ্রিমেন্টটি আটকে রাখা হয়েছিল, এমন জল্পনারও অবসান ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচনে চৌধুরীর ভূমিকার পুরস্কার হিসেবে এই পদ দেওয়া হচ্ছে বলে কিছু মহলে আলোচনা রয়েছে।

সিয়াম বাংলাদেশ ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি এক বছরেরও কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৩-২০২৪ সালে তিনি অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিদেশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চিফ অব প্রোটোকল, ইউরোপ ও ইইউ উইংয়ের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র সচিবের কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর ঢাকাও তাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সরকারের সময় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টার তত্ত্বাবধান করতে হবে সিয়ামকে।

চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই পক্ষই সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেছে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ঢাকার জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার দায়িত্বও সিয়ামের ওপর থাকবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৫:২৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারতে বাংলাদেশের নতুন হাইকমিশনার হচ্ছেন আসাদ আলম

আপডেট: ০৫:২৭:৫২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

১৯৯৫ সালে বাংলাদেশ পররাষ্ট্রসেবায় যোগ দেওয়া পেশাদার কূটনীতিক সিয়াম আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে নয়াদিল্লিতে রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। হামিদুল্লাহকে জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্র জানিয়েছে সিয়ামের নিয়োগের জন্য ভারতের কাছে চাওয়া আনুষ্ঠানিক সম্মতিপত্র বা ‘অ্যাগ্রিমেন্ট’ মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হওয়ায় ভারতীয় পক্ষের কারণে অ্যাগ্রিমেন্টটি আটকে রাখা হয়েছিল, এমন জল্পনারও অবসান ঘটেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিউইয়র্কে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক প্রতিনিধি সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী পরবর্তী পররাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের নির্বাচনে চৌধুরীর ভূমিকার পুরস্কার হিসেবে এই পদ দেওয়া হচ্ছে বলে কিছু মহলে আলোচনা রয়েছে।

সিয়াম বাংলাদেশ ও বিদেশে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৫ সালের জুন মাসে পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে তিনি এক বছরেরও কম সময় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০২৩-২০২৪ সালে তিনি অস্ট্রিয়ায় রাষ্ট্রদূত এবং ২০১৭-২০২১ সাল পর্যন্ত ফিলিপাইনে বিশেষ দূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ইতালির মিলানে বাংলাদেশের প্রথম কনসাল জেনারেল, যুক্তরাজ্যের ম্যানচেস্টারে সহকারী হাইকমিশনার এবং ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডে জুনিয়র কূটনীতিক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

বিদেশে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি চিফ অব প্রোটোকল, ইউরোপ ও ইইউ উইংয়ের মহাপরিচালক এবং পররাষ্ট্র সচিবের কার্যালয়ের পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ভারত রাজনৈতিকভাবে নিযুক্ত সাবেক মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার পর ঢাকাও তাদের সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কূটনীতিককে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এলে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটে। সেই সরকারের সময় সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের প্রচেষ্টার তত্ত্বাবধান করতে হবে সিয়ামকে।

চলতি বছরের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সরকার ক্ষমতায় আসার পর দুই পক্ষই সম্পর্ক মেরামতের চেষ্টা করেছে। তবে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান ঢাকার জন্য একটি বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের ক্ষেত্র প্রস্তুত করার দায়িত্বও সিয়ামের ওপর থাকবে। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস