বগুড়ার সোনাতলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
বগুড়ার সোনাতলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ
বগুড়ার সোনাতলা উপজেলায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে হিন্দু সম্প্রদায়ের এক গৃহবধূর বাড়িতে হামলা,ভাঙচুর,লুটপাট ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লক্ষীনারায়ণপাড়া গ্রামের বাসিন্দা শ্রীমতি নিপা রানী (২৫) তার স্বামী জুয়েল কুমার রায়ের অনুপস্থিতিতে গত ২৫ মার্চ বুধবার রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিপক্ষের লোকজন হামলা চালায়।এ সংক্রান্ত ২৮শে মার্চ শনিবার রাতে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন,জাফিরুল ইসলাম, মোন্তেজার রহমান,মুক্তি মিয়া,জাহিদুল,শাহিনুর,মুকুল মিয়া ও রিফাতসহ আরও ২০-৩০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তি।
ভুক্তভোগীর অভিযোগপূর্ব শত্রুতার জেরে অভিযুক্তরা লাঠিসোঁটা ও ইট-পাটকেল নিয়ে তার বসতবাড়িতে হামলা চালিয়ে টিনের বেড়া ও ঘরের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়।
একই সঙ্গে ঘরে থাকা নগদ ২৫ হাজার টাকা,প্রায় ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র এবং ১২ আনি ওজনের স্বর্ণালংকার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যমান) লুট করে নিয়ে যায় হামলাকারীরা।এ সময় বাধা দিতে গেলে নিপা রানীকে মারধর করা হয় এবং তার শ্লীলতাহানির অভিযোগও উঠে।একই ঘটনায় তার জা শ্রীমতি কনিকা রানীর ঘরেও হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং সেখান থেকে ১ ভরি স্বর্ণালংকার (প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যমান) নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া,অভিযুক্তরা কনিকা রানীর গোয়ালঘর থেকে গরু নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয়দের বাধার মুখে তা ব্যর্থ হয়।ঘটনার সময় প্রতিবেশী নুরু ইসলাম বাধা দিতে এগিয়ে এলে তাকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করা হয় এবং তার অটোভ্যান ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে ১১হাজার টাকা নেওয়ার পর ভ্যানটি ফেরত দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীরা আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার সময় তাদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় এবং ভবিষ্যতেও বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।এ ঘটনায় নিপা রানী ও কনিকা রানী সোনাতলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
সোনাতলা থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি কবির হোসেন অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, গতকাল রাতে অভিযোগ পেয়েছি।বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে বাংলাদেশ পুজা উদযাপন পরিষদ সোনাতলা উপজেলার শাখার পক্ষ থেকে এধরনের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সভাপতি বিকাশ স্বর্ণকার ও সম্পাদক মনোরঞ্জন চন্দ্র সাহা পুলিশ প্রসাশনকে অনুরোধ জানিয়ে ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।






















