০৬:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য: স্পিকার

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদ।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে এই প্রদর্শনী।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের ওপর জোর দিয়ে বক্তব্য দেন স্পিকার।

গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ ছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “গত তিন দশক ধরে আমাদের দুই দেশের মধ্যে এক শক্তিশালী ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।“

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১২.৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে স্পিকার বলেন, “আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়তে চাই যা নিছক ভোগের ওপর নয়, বরং টেকসই বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়াবে।”

বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, বৈধভাবে পরিচালিত বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের মুনাফা নিজ দেশে স্থানান্তর করতে পারবে।”

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, “আইসিটি এবং ই-কমার্স হাব নির্মাণে মার্কিন প্রযুক্তি ও মূলধন বাংলাদেশের প্রয়োজন।” বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে ঘিরে লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রেও তিনি যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা সব সময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন খোঁজেন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দরজা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য সব সময় খোলা থাকবে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে স্পিকার নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার বিপুল গ্যাস মজুতের কথা তুলে ধরেন।

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল-গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশও একদিন তেল-গ্যাসে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে এবং আমাদের বর্তমান সংকটগুলোর অবসান ঘটবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০২:০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
৮

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়াই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য: স্পিকার

আপডেট: ০২:০৪:১১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়াই বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার বীর বিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমদ।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের ক্রিস্টাল বলরুমে তিন দিনব্যাপী ৩০তম ইউএস ট্রেড শোর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পারস্পরিক অর্থনৈতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচ্যাম) এবং ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের যৌথ আয়োজনে শুরু হয়েছে এই প্রদর্শনী।

সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে এই প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিনিয়োগ, স্বচ্ছতা ও আইনের শাসনের ওপর জোর দিয়ে বক্তব্য দেন স্পিকার।

গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। এ ছাড়া গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

যুক্তরাষ্ট্রকে বাংলাদেশের একক বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য এবং কৌশলগত অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “গত তিন দশক ধরে আমাদের দুই দেশের মধ্যে এক শক্তিশালী ও টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।“

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ তথ্য উদ্ধৃত করে তিনি জানান, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যের পরিমাণ ১২.৬৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যবসায়িক অংশীদার।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে স্পিকার বলেন, “আমরা এমন একটি অর্থনীতি গড়তে চাই যা নিছক ভোগের ওপর নয়, বরং টেকসই বিনিয়োগের ওপর ভিত্তি করে দাঁড়াবে।”

বিদেশি বিনিয়োগের সুরক্ষায় বর্তমান সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, বৈধভাবে পরিচালিত বিদেশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো এখন থেকে মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে তাদের মুনাফা নিজ দেশে স্থানান্তর করতে পারবে।”

অর্থনৈতিক কূটনীতিতে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির কথা উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, “আইসিটি এবং ই-কমার্স হাব নির্মাণে মার্কিন প্রযুক্তি ও মূলধন বাংলাদেশের প্রয়োজন।” বিশেষ করে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দরকে ঘিরে লজিস্টিকস হাব গড়ে তোলার ওপর তিনি জোর দেন। পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ও জলবায়ু সহনশীলতার ক্ষেত্রেও তিনি যৌথ অংশীদারিত্বের আহ্বান জানান।

বিনিয়োগের ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের ভূমিকা সম্পর্কে তিনি বলেন, “বিনিয়োগকারীরা সব সময় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও আইনের শাসন খোঁজেন। আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের দরজা ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের জন্য সব সময় খোলা থাকবে।”

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে স্পিকার নিজের নির্বাচনী এলাকা ভোলার বিপুল গ্যাস মজুতের কথা তুলে ধরেন।

বঙ্গোপসাগর ও উপকূলীয় অঞ্চলে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে নতুন আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “আমাদের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমার উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল-গ্যাসের সন্ধান পেয়েছে। আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশও একদিন তেল-গ্যাসে সমৃদ্ধ দেশে পরিণত হবে এবং আমাদের বর্তমান সংকটগুলোর অবসান ঘটবে।”