আমি প্রার্থী হলে ভূমিধস জয় পেতাম: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাট দল জয়ী হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তিনি নিজে নির্বাচনে প্রার্থী হলে তার দল রিপাবলিকান পার্টি ‘ভূমিধস’ জয় পেত। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি ব্যালটে ছিলাম না। আর যদি থাকতাম, তাহলে আমরা ভূমিধস জয় পেতাম! বিষয়টির প্রতি আপনার মনোযোগের জন্য ধন্যবাদ।’
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। জর্জিয়ার গভর্নর নির্বাচনে জয় পেয়েছে দলটি। পাশাপাশি রিপাবলিকানদের কাছ থেকে সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ আসন ছিনিয়ে নিয়েছে তারা। এতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বড় ধরনের রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছেন।
নির্বাচনকে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের অস্থির শাসনামল নিয়ে দেশজুড়ে এক ধরনের মূল্যায়ন হিসেবে দেখা হচ্ছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, শুল্কনীতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ—যার প্রভাবে জ্বালানির দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে—এসব বিষয় রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করেছে। একই সময়ে ট্রাম্পের জনসমর্থনও রেকর্ড পরিমাণ নিম্নমুখী অবস্থানের কাছাকাছি রয়েছে।
নির্বাচনের অন্যতম বড় চমক এসেছে দক্ষিণ ক্যারোলাইনায়। সংবাদমাধ্যমের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেখানে রিপাবলিকান প্রার্থী ডারলিন গ্রাহামকে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও শিশু চিকিৎসক অ্যানি অ্যান্ড্রুজ। ট্রাম্পের সমর্থন পাওয়া ডারলিনকে তার ভাই ও দীর্ঘদিনের রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যুর পর ওই আসনে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। গত জুলাইয়ে লিন্ডসে গ্রাহামের মৃত্যু হয়। গভীরভাবে রক্ষণশীল এই অঙ্গরাজ্যে ১৯৯৮ সালের পর কোনো সিনেট নির্বাচনে জয় পায়নি ডেমোক্র্যাটরা।
এর আগে নর্থ ক্যারোলাইনাতেও সিনেট আসন হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। সেখানে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থীকে পরাজিত করেছেন জনপ্রিয় সাবেক গভর্নর রয় কুপার।
ওহাইওর গভর্নর নির্বাচনেও পরাজিত হয়েছেন ট্রাম্পের পছন্দের প্রার্থী ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামাস্বামী। রিপাবলিকান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নিজ অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটনের কাছে হেরেছেন তিনি। তিক্ত প্রচারণার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচন রিপাবলিকান পার্টির অভ্যন্তরীণ বিভক্তিও স্পষ্ট করেছে।
এদিকে জর্জিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সিনেট আসন ধরে রেখেছেন ডেমোক্র্যাটদের উদীয়মান নেতা জন অসফ। নিউ হ্যাম্পশায়ারেও জয় পেয়েছেন ক্রিস পাপাস। তিনি সিনেটে নির্বাচিত প্রথম প্রকাশ্যে সমকামী পুরুষ।




















