১২:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর…।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। তাঁদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।

ইশরাকের ফেসবুক পেজে ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ভিডিওতে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। এ সময় এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ জবাবে ইশরাক বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’

ঘটনাস্থলে ইশরাকের ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষীর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতেও দেখা যায়।

ইশরাকের ভাষ্য, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এসব আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর মাদকসেবী ও কারবারিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়িঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। ভিডিওতে ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখতে এবং তাঁদের দুজনকে মারধর করতে দেখা যায়।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।

তদন্ত করবে পুলিশ

এদিকে, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:৫৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
০

মন্ত্রিসভা থেকে ইশরাককে পদত্যাগের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট: ১০:৫৫:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে নেমে বিতর্কের জন্ম দেওয়া মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনকে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রবিবার বিকেলে সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে ইশরাককে ডেকে পাঠান প্রধানমন্ত্রী। সেখানেই তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকার-সংশ্লিষ্ট উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে জানা গেছে। তবে রাতে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত এ বিষয়ে সরকারের দায়িত্বশীল কারও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে, গতকাল শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশন-সংলগ্ন দয়াগঞ্জ ঘুণ্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান চালান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। তাঁর ফেসবুক পেজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে তিনি চিৎকার করে বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর…।’ তাঁর পাশ থেকে একজনকে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’ এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যান। তাঁদের একজনকে এক তরুণকে লাথি মারতেও দেখা যায়।

ভিডিওর কিছু অংশে ইশরাকের হাতে থাকা পিস্তল অস্পষ্ট করা হলেও অন্য অংশে অস্ত্রটি স্পষ্ট দেখা যায়। তাঁর সঙ্গে থাকা আরও দুই ব্যক্তির হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র দেখা যায়। আরেকটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে তুলে দিতে দেখা যায়।

ইশরাকের ফেসবুক পেজে ভিডিওটির শিরোনাম দেওয়া হয়, ‘ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ’। ভিডিওতে দেখা যায়, রেললাইনের পাশে অবস্থান করা কয়েকজনকে ধরতে এগিয়ে যাচ্ছেন তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তিরা। এ সময় এক যুবককে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’ জবাবে ইশরাক বলেন, ‘পুলিশ আসবে তারপর কথা হবে।’

ঘটনাস্থলে ইশরাকের ব্যক্তিগতভাবে নিয়োগ দেওয়া দুই দেহরক্ষীর পাশাপাশি একজন সরকারি দেহরক্ষীও ছিলেন। ব্যক্তিগত দেহরক্ষীদের কাছেও অস্ত্র ছিল। সরকারি দেহরক্ষীকে অস্ত্র তাক করতেও দেখা যায়।

ইশরাকের ভাষ্য, ওই এলাকায় গুলির ঘটনা ঘটায় নিরাপত্তার স্বার্থে তিনি আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁর দাবি, রেললাইনের পাশের খালি জায়গায় অস্থায়ী ঘর তৈরি করে মাদক কেনাবেচা করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে এসব আস্তানা সম্পর্কে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের পর মাদকসেবী ও কারবারিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে অভিযান চালানো হয়।

অভিযানের সময় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবীরা অস্থায়ী ঝুপড়িঘরগুলো ভেঙে দেন। সেখান থেকে মাদক কারবারে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক ও মাদকদ্রব্য উদ্ধারের কথা জানানো হয়। এ সময় বস্তির বাসিন্দারা সেখানে জড়ো হন। ভিডিওতে ছয়জনকে মাটিতে বসিয়ে রাখতে এবং তাঁদের দুজনকে মারধর করতে দেখা যায়।

অভিযানকালে এলাকাবাসীর উদ্দেশে ইশরাক বলেন, ‘এলাকায় যারা মাদক বিক্রি করে, তাদের স্থান আমার এই ঢাকা-৬ আসনে নাই। স্বৈরাচার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে সরকার পতন করেছি। আর এই মাদক কারবারিদের কোনো টাইম আছে? এই এলাকায় যত বড় মাদক কারবারি হোক না কেন, তারা যে দলেরই হোক না কেন, যদি আমার দলের হয়, তাহলে তাদের শাস্তি আরও বড় হবে।

তদন্ত করবে পুলিশ

এদিকে, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) প্রধান শফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ রোববার দুপুরে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।