০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

হিলারির বিরুদ্ধে মামলা পুনর্বহালে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে করা মামলা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার দাখিল করা আবেদনে তিনি মামলাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত মামলাটি খারিজ করে ট্রাম্প ও তার এক আইনজীবীর ওপর প্রায় ১০ লাখ ডলার জরিমানা আরোপ করেন। পরে আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

২০২২ সালে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় ক্লিনটন, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিল, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তাকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি মিথ্যা বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। মামলায় সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ক্ষতিকর মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কারণে প্রথম মেয়াদে মামলা দায়ের করা স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প। তাই মামলা করার সময়সীমা বাড়ানো উচিত ছিল। তাদের যুক্তি, প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং আইনি মতপার্থক্যের কারণে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর আইনজীবীদের শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ফেডারেল বিচারক ডোনাল্ড মিডলব্রুকস মামলাটি খারিজ করে বলেছিলেন, অভিযোগে নানা ত্রুটি ছিল এবং কিছু অভিযোগ আনতে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হয়েছিল। তিনি মামলাটিকে ‘দুইশ পৃষ্ঠার একটি রাজনৈতিক ইশতেহার’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে ট্রাম্পের বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। বিচারকের মতে, রাজনৈতিক বয়ান এগিয়ে নিতে অসৎ উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছিল। এ কারণে ট্রাম্প ও তাঁর প্রধান আইনজীবী আলিনা হাব্বাকে প্রায় ১০ লাখ ডলার আইনি ফি ও খরচ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২৫ সালে আটলান্টাভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিল নিম্ন আদালতের রায় ও জরিমানা বহাল রাখেন। আপিল আদালতও ট্রাম্প ও হাব্বার বেশ কয়েকটি আইনি যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক তদন্ত হয়েছে। বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, রাশিয়া ওই নির্বাচনে ব্যাপক ও সুপরিকল্পিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সদস্যরা রাশিয়ার হস্তক্ষেপে ষড়যন্ত্র বা সমন্বয়ের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের সঙ্গে রুশ প্রতিনিধিদের বিভিন্ন যোগাযোগের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। মুলার উল্লেখ করেন, নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পক্ষে রাশিয়ার প্রচেষ্টায় তাঁর প্রচারশিবির লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করেছিল।

এদিকে, এফবিআইয়ের তদন্তপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ২০১৯ সালে জন ডারহামকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে ডারহাম বলেন, ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে তদন্ত শুরুর মতো বাস্তব প্রমাণ এফবিআইয়ের কাছে ছিল না। তদন্তের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দেওয়া তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিল ।

গত বছর ট্রাম্পের বিচার বিভাগ কোমির বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া ও কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করে। সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের অনুমোদন নিয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগও আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। পরে একজন ফেডারেল বিচারক অভিযোগপত্র খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, কোমির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের বেছে নেওয়া সরকারি কৌঁসুলির নিয়োগ বেআইনি ছিল।

ক্লিনটন প্রচারশিবির ও ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির হয়ে একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে কাজ করার সময় স্টিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার যোগসূত্র নিয়ে একটি নথি তৈরি করেছিলেন। এতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল, যেগুলো ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৩

হিলারির বিরুদ্ধে মামলা পুনর্বহালে সুপ্রিম কোর্টে ট্রাম্প

আপডেট: ০১:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে হিলারি ক্লিনটনের বিরুদ্ধে করা মামলা পুনর্বহালের আবেদন জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার দাখিল করা আবেদনে তিনি মামলাটি পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর আগে একটি ফেডারেল আদালত মামলাটি খারিজ করে ট্রাম্প ও তার এক আইনজীবীর ওপর প্রায় ১০ লাখ ডলার জরিমানা আরোপ করেন। পরে আপিল আদালতও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন।

২০২২ সালে ফ্লোরিডার একটি ফেডারেল আদালতে দায়ের করা ওই মামলায় ক্লিনটন, এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমি, ব্রিটিশ গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা ক্রিস্টোফার স্টিল, ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটি (ডিএনসি) এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি ছিল, ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তাকে রাশিয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ত করে একটি মিথ্যা বয়ান তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল তার নির্বাচনী প্রচারণাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা। মামলায় সংগঠিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ক্ষতিকর মিথ্যাচারের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও আনা হয়।

সুপ্রিম কোর্টে দাখিল করা আবেদনে ট্রাম্পের আইনজীবীরা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট হিসেবে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের কারণে প্রথম মেয়াদে মামলা দায়ের করা স্থগিত রেখেছিলেন ট্রাম্প। তাই মামলা করার সময়সীমা বাড়ানো উচিত ছিল। তাদের যুক্তি, প্রেসিডেন্টের পদমর্যাদা ও সুরক্ষা বজায় রাখতে এবং আইনি মতপার্থক্যের কারণে প্রেসিডেন্ট ও তাঁর আইনজীবীদের শাস্তি দেওয়ার প্রবণতা ঠেকাতে সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

ফেডারেল বিচারক ডোনাল্ড মিডলব্রুকস মামলাটি খারিজ করে বলেছিলেন, অভিযোগে নানা ত্রুটি ছিল এবং কিছু অভিযোগ আনতে অযৌক্তিক বিলম্ব করা হয়েছিল। তিনি মামলাটিকে ‘দুইশ পৃষ্ঠার একটি রাজনৈতিক ইশতেহার’ হিসেবে বর্ণনা করেন, যেখানে ট্রাম্পের বিরোধীদের বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ ও অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল। বিচারকের মতে, রাজনৈতিক বয়ান এগিয়ে নিতে অসৎ উদ্দেশ্যে মামলাটি করা হয়েছিল। এ কারণে ট্রাম্প ও তাঁর প্রধান আইনজীবী আলিনা হাব্বাকে প্রায় ১০ লাখ ডলার আইনি ফি ও খরচ দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

২০২৫ সালে আটলান্টাভিত্তিক যুক্তরাষ্ট্রের ১১তম সার্কিট কোর্ট অব আপিল নিম্ন আদালতের রায় ও জরিমানা বহাল রাখেন। আপিল আদালতও ট্রাম্প ও হাব্বার বেশ কয়েকটি আইনি যুক্তিকে ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেন।

২০১৬ সালের নির্বাচনে রাশিয়ার হস্তক্ষেপের অভিযোগ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক তদন্ত হয়েছে। বিশেষ কৌঁসুলি রবার্ট মুলার ২০১৯ সালে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, রাশিয়া ওই নির্বাচনে ব্যাপক ও সুপরিকল্পিতভাবে হস্তক্ষেপ করেছিল। তবে ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সদস্যরা রাশিয়ার হস্তক্ষেপে ষড়যন্ত্র বা সমন্বয়ের মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদনে ট্রাম্পের প্রচারশিবিরের সঙ্গে রুশ প্রতিনিধিদের বিভিন্ন যোগাযোগের বিষয়ও তুলে ধরা হয়। মুলার উল্লেখ করেন, নির্বাচনে ট্রাম্পের জয়ের পক্ষে রাশিয়ার প্রচেষ্টায় তাঁর প্রচারশিবির লাভবান হওয়ার প্রত্যাশা করেছিল।

এদিকে, এফবিআইয়ের তদন্তপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখতে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার ২০১৯ সালে জন ডারহামকে বিশেষ কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেন। ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে ডারহাম বলেন, ট্রাম্পের ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে তদন্ত শুরুর মতো বাস্তব প্রমাণ এফবিআইয়ের কাছে ছিল না। তদন্তের ক্ষেত্রে সংস্থাটি ট্রাম্পের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের দেওয়া তথ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেছিল ।

গত বছর ট্রাম্পের বিচার বিভাগ কোমির বিরুদ্ধে মিথ্যা বিবৃতি দেওয়া ও কংগ্রেসের কাজে বাধা সৃষ্টির অভিযোগে মামলা করে। সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের অনুমোদন নিয়ে মিথ্যা বলার অভিযোগও আনা হয়েছিল তার বিরুদ্ধে। পরে একজন ফেডারেল বিচারক অভিযোগপত্র খারিজ করে দেন। বিচারকের মতে, কোমির বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ট্রাম্পের বেছে নেওয়া সরকারি কৌঁসুলির নিয়োগ বেআইনি ছিল।

ক্লিনটন প্রচারশিবির ও ডেমোক্রেটিক ন্যাশনাল কমিটির হয়ে একটি আইনি প্রতিষ্ঠানের নিয়োগে কাজ করার সময় স্টিল ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারণার সঙ্গে রাশিয়ার যোগসূত্র নিয়ে একটি নথি তৈরি করেছিলেন। এতে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছিল, যেগুলো ট্রাম্প অস্বীকার করেছেন।