হরমুজে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ
বৈশ্বিক জ্বালানি পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালিতে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবর জানিয়েছে ইরানের সংবাদমাধ্যম। অনুমোদনহীন পথে চলাচল করা তেলবাহী ট্যাংকারগুলো ওই এলাকায় পেতে রাখা সমুদ্রের মাইনে আঘাত করে থাকতে পারে এবং এরই জেরে বিস্ফোরণ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের কারণ, হতাহত কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি। প্রণালিটিতে জাহাজ চলাচলে ইরানের সতর্কতার মধ্যেই বিস্ফোরণের এই ঘটনা ঘটল।
তবে বিস্ফোরণের সংখ্যা, কোন কোন ট্যাংকার এতে জড়িত, হতাহতের সম্ভাব্য সংখ্যা কিংবা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। আল জাজিরা বলছে, হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যে এই বিস্ফোরণের খবর সামনে এসেছে। ইরান এরই মধ্যে তেহরানের অনুমোদন ছাড়া নির্ধারিত পথের বাইরে দিয়ে জাহাজ চলাচল না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, আগামী নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো হামলা চালাবে না যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে দুই দেশ ‘ফলপ্রসূ’ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘ফলপ্রসূ আলোচনা’ চলছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ইরানে কোনো সময়ই হামলা চালানো হবে না বলেও তিনি ঘোষণা দেন।
আট মাস ধরে চলা এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর থেকে দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়েছে। যুদ্ধের কারণে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমেছে এবং নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্যও পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে।
কংগ্রেসে নিজেদের অল্প ব্যবধানে থাকা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখাই এখন দলটির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
সাম্প্রতিক রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৬০ শতাংশ মার্কিন নাগরিক ইরান পরিস্থিতি মোকাবিলায় ট্রাম্পের ভূমিকার প্রতি অসন্তুষ্ট। এমনকি রিপাবলিকানদের মধ্যেও প্রায় চারজনের একজন ট্রাম্পের পদক্ষেপে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এ সময়ে জীবনযাত্রার ব্যয়ই মার্কিন ভোটারদের প্রধান উদ্বেগ হিসেবে উঠে এসেছে।





















