০১:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

উত্তাল দিল্লি, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভারতের পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল বের করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

পুলিশের বাধার মুখে ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। এ সময় তার হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতাকেও ব্যারিকেডের ওপর উঠতে দেখা যায়।

পরে সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। তাদের হাতে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার। মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। তাদের একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়। পরে তারা মুক্ত হয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের পাশে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন।

এদিন বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দেয় বিরোধী জোট। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে অনুপযুক্ত ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকা হালনাগাদ করতেই এসআইআর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছেন।

তবে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি আদালত। আদালত জানিয়েছে, শুধু সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। পার্লামেন্ট ভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
৮

উত্তাল দিল্লি, আটক রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

আপডেট: ০৯:১১:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর অভিমুখে বিরোধী জোট ইন্ডিয়ার মিছিল আটকে দিয়েছে পুলিশ। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করা হয়।

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) ভারতের পার্লামেন্ট ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের উদ্দেশে মিছিল বের করেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা। মিছিলটি পার্লামেন্ট স্ট্রিটে নীতি আয়োগের কার্যালয়ের কাছে পৌঁছালে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।

পুলিশের বাধার মুখে ব্যারিকেডের ওপর উঠে পড়েন রাহুল গান্ধী। এ সময় তার হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়সহ আরও কয়েকজন বিরোধী নেতাকেও ব্যারিকেডের ওপর উঠতে দেখা যায়।

পরে সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন বিরোধী সংসদ সদস্যরা। তাদের হাতে ছিল ‘সেভ ডেমোক্রেসি’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ব্যানার। মিছিল এগোতে না দেওয়ার পর রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ কয়েকজন বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ। তাদের একটি পুলিশ বাসে তোলা হয়। পরে তারা মুক্ত হয়ে নির্বাচন কমিশন সদর দপ্তরের পাশে আকাশবাণী ভবনে প্রবেশ করেন।

এদিন বিক্ষোভকারীরা প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাহুল গান্ধী লেখেন, ‘জ্ঞানেশ, এবার পদ ছাড়ুন।

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বিক্ষোভের ডাক দেয় বিরোধী জোট। বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

নির্বাচন কমিশনের দাবি, ভোটার তালিকা থেকে অনুপযুক্ত ও ভুয়া নাম বাদ দেওয়া এবং তালিকা হালনাগাদ করতেই এসআইআর প্রক্রিয়া নেওয়া হয়েছে। এদিকে, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে ভারতের সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ সোমবার নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় সরকার, জ্ঞানেশ কুমার এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারকে নোটিশ দিয়েছেন।

তবে আপাতত জ্ঞানেশ কুমারকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখার কোনো অন্তর্বর্তী আদেশ দেয়নি আদালত। আদালত জানিয়েছে, শুধু সংবাদ প্রতিবেদন বা অনুমানের ভিত্তিতে এমন আদেশ দেওয়া যায় না; আগে অভিযোগের তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এদিকে বিক্ষোভ ঘিরে দিল্লির কেন্দ্রীয় এলাকায় জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা। পার্লামেন্ট ভবন ও নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আশপাশে মোতায়েন রয়েছে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য।