০৩:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৭ অক্টোবর ২০২৬

এই প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে পেন্টাগন

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো সেনাকর্মকর্তার ফায়ারিং স্কোয়াডের (গুলি করে হত্যা) মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সৈন্যকে গুলি করে হত্যা ও আরও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মার্কিন মেজর ও চিকিৎসক নিডাল মালিক হাসানের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, দেশটির যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অনুমোদন করেছেন।

১৩ জন সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি প্যানেল নিডাল হাসানকে ১৩টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা এবং ৩২টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বসম্মতিক্রমে মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ করে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, সেনাবাহিনীর সচিব এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পার্নেল লেখেন, ‘অবশেষে নিডাল হাসানের চূড়ান্ত বিচারের দিন উপস্থিত হয়েছে।’

পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ভার্জিনিয়ার অধিবাসী নিডাল হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি জনবহুল মেডিকেল ভবনে এ হামলা চালান, যেখানে মোতায়েনের অপেক্ষায় থাকা সেনাসদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এটি ছিল কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অ-যুদ্ধকালীন হামলা।

সামরিক আইন অনুযায়ী, কোনো সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন বন্দীর মধ্যে নিডাল হাসান অন্যতম।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড রাজ্য পর্যায়ে কার্যকর হলেও বর্তমানে ২৭টি রাজ্য, সামরিক বাহিনী এবং ফেডারেল সরকারের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রয়েছে। তবে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনরুজ্জীবিত করেন, যা তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের সময়ে স্থগিত ছিল। সূত্র: বিবিসি

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১১:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
১২

এই প্রথম ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে পেন্টাগন

আপডেট: ১১:১৭:০৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম কোনো সেনাকর্মকর্তার ফায়ারিং স্কোয়াডের (গুলি করে হত্যা) মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। ২০০৯ সালে টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে ১৩ জন নিরস্ত্র মার্কিন সৈন্যকে গুলি করে হত্যা ও আরও ৩২ জনকে আহত করার দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক মার্কিন মেজর ও চিকিৎসক নিডাল মালিক হাসানের এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পার্নেল জানান, দেশটির যুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী (প্রতিরক্ষামন্ত্রী) পিট হেগসেথ নিডাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তা অনুমোদন করেছেন।

১৩ জন সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত একটি জুরি প্যানেল নিডাল হাসানকে ১৩টি পূর্বপরিকল্পিত হত্যা এবং ৩২টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে সর্বসম্মতিক্রমে মৃত্যুদণ্ডের সুপারিশ করে। পেন্টাগনের মুখপাত্র জানান, সেনাবাহিনীর সচিব এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ও স্থান নির্ধারণ করবেন। এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে পার্নেল লেখেন, ‘অবশেষে নিডাল হাসানের চূড়ান্ত বিচারের দিন উপস্থিত হয়েছে।’

পেশায় মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও ভার্জিনিয়ার অধিবাসী নিডাল হাসান ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর ফোর্ট হুড ঘাঁটির একটি জনবহুল মেডিকেল ভবনে এ হামলা চালান, যেখানে মোতায়েনের অপেক্ষায় থাকা সেনাসদস্যরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও টিকার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এটি ছিল কোনো মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অ-যুদ্ধকালীন হামলা।

সামরিক আইন অনুযায়ী, কোনো সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরে মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনুমোদনের প্রয়োজন হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন বন্দীর মধ্যে নিডাল হাসান অন্যতম।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে বেশিরভাগ মৃত্যুদণ্ড রাজ্য পর্যায়ে কার্যকর হলেও বর্তমানে ২৭টি রাজ্য, সামরিক বাহিনী এবং ফেডারেল সরকারের অধীনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল রয়েছে। তবে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত বিরল। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব গ্রহণের পর এক নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে ফেডারেল মৃত্যুদণ্ডের বিধান পুনরুজ্জীবিত করেন, যা তৎকালীন জো বাইডেন প্রশাসনের সময়ে স্থগিত ছিল। সূত্র: বিবিসি