১১:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল ফ্রান্স সরকার

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

ফ্রান্সে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে অবশেষে দুই বছর মেয়াদী বিটিএস কোর্স এবং প্রেপা কোর্সের বাৎসরিক ফি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে এই দুই কোর্স সম্পূর্ণ ফ্রি। বাৎসরিক কোনও ফি দিতে হবেনা। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে এই ঘোষণা দেন। এর আগে বিএসি পাশের পর এই দুটি কোর্স করতে বাৎসরিক প্রায় ২৭০ ইউরো ফি ধরা হয়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে প্রতি চারটির মধ্যে প্রায় একটি করে মোট এক হাজারের বেশি বিদ্যালয় এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ক্ষোভ ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। কোনও কোনও স্থানে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যকার সংঘর্ষ সহিংস রূপ নিয়েছে।প্যারিসের শহরতলি ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে ১০ দিন আগে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এক নজিরবিহীন আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি পুরোপুরি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বরও এই সংখ্যা ছিল ১৮০টি। অর্থাৎ, দেশটির প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে এখন প্রতিবাদ চলছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলো দিনে দিনে আরও সহিংস হয়ে উঠছে। দেশের কয়েকটি প্রধান শহরে জ্বলন্ত ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বিদ্যালয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

মন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনটি এখন ‘নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে মোড় নিয়েছে।’ কেবল বৃহস্পতিবারই প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুল স্টাফ এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘এই আন্দোলন চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।’

অন্যদিকে, স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির সাথে একমত, কিন্তু কিছু তরুণ শুধু জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেই এখানে এসেছে, যা মেনে নেয়া যায় না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলনটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১০:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
০

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল ফ্রান্স সরকার

আপডেট: ১০:০১:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভের মুখে অবশেষে দুই বছর মেয়াদী বিটিএস কোর্স এবং প্রেপা কোর্সের বাৎসরিক ফি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। এখন থেকে এই দুই কোর্স সম্পূর্ণ ফ্রি। বাৎসরিক কোনও ফি দিতে হবেনা। গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে এই ঘোষণা দেন। এর আগে বিএসি পাশের পর এই দুটি কোর্স করতে বাৎসরিক প্রায় ২৭০ ইউরো ফি ধরা হয়েছিল।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্সজুড়ে প্রতি চারটির মধ্যে প্রায় একটি করে মোট এক হাজারের বেশি বিদ্যালয় এই আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি ক্ষোভ ও উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। কোনও কোনও স্থানে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যকার সংঘর্ষ সহিংস রূপ নিয়েছে।প্যারিসের শহরতলি ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে ১০ দিন আগে শুরু হওয়া এই প্রতিবাদ এখন পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে এক নজিরবিহীন আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল ধর্মঘটে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি পুরোপুরি অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বরও এই সংখ্যা ছিল ১৮০টি। অর্থাৎ, দেশটির প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে এখন প্রতিবাদ চলছে।

প্রতিবাদ কর্মসূচিগুলো দিনে দিনে আরও সহিংস হয়ে উঠছে। দেশের কয়েকটি প্রধান শহরে জ্বলন্ত ডাস্টবিন থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উড়তে দেখা গেছে, যা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু বিদ্যালয় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে।

মন্ত্রীদের এক জরুরি বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্দোলনটি এখন ‘নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে মোড় নিয়েছে।’ কেবল বৃহস্পতিবারই প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুল স্টাফ এবং ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তার ভাষায়, ‘এই আন্দোলন চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।’

অন্যদিকে, স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের কিছু দাবির সাথে একমত, কিন্তু কিছু তরুণ শুধু জিনিসপত্র ভাঙচুর করতেই এখানে এসেছে, যা মেনে নেয়া যায় না। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে আন্দোলনটি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে।’