১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

মদিনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে হুতিদের ছোড়া ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইয়েমেন থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার কথা জানান।

তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কিংবা সেটি ধ্বংস করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি জোট। এ বিষয়ে হুতিরাও কোনো মন্তব্য করেনি। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই ঘোষণা সামনে এলো।

অবশ্য সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সময় হুতিরা বারবারই বলেছে যে তাদের বাহিনী মক্কা বা মদিনার মতো পবিত্র শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে এ অভিযানে গোষ্ঠীটি বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়ানবু বন্দরেও বারবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার অনলাইনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে ইয়ানবু গভর্নরেটে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু হলো সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহে ইয়ানবু বন্দর এবং এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মাধ্যমে রিয়াদ বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি পাঠাতে পারছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের অন্যান্য এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত হুতিরা। এর পর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০৯:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
০

মদিনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা হুতিদের, ধ্বংসের দাবি সৌদি জোটের

আপডেট: ০৯:৫২:০৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

সৌদি আরবের পশ্চিমাঞ্চলীয় মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। তবে হুতিদের ছোড়া ওই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মাঝআকাশে ধ্বংস করে দেয়ার দাবি করেছে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু বলছে, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ইয়েমেন থেকে ওই ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয় বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া এক বিবৃতিতে জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি ক্ষেপণাস্ত্রটি ভূপাতিত করার কথা জানান।

তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু কী ছিল, কিংবা সেটি ধ্বংস করার ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি জোট। এ বিষয়ে হুতিরাও কোনো মন্তব্য করেনি। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দেয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট ও হুতিদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার এই ঘোষণা সামনে এলো।

অবশ্য সৌদি আরবের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের সময় হুতিরা বারবারই বলেছে যে তাদের বাহিনী মক্কা বা মদিনার মতো পবিত্র শহরগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করবে না। তবে এ অভিযানে গোষ্ঠীটি বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়ানবু বন্দরেও বারবার হামলা চালিয়েছে হুতিরা। সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা সংস্থার অনলাইনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে সতর্ক করতে ইয়ানবু গভর্নরেটে জাতীয় আগাম সতর্কতা প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একটি সতর্কবার্তা জারি করা হয়েছে।

লোহিত সাগরের তীরে অবস্থিত ইয়ানবু হলো সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনের শেষ প্রান্ত। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি তেল বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে পরিবহন করা যায়।

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি সরবরাহে ইয়ানবু বন্দর এবং এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মাধ্যমে রিয়াদ বিশ্ববাজারে তেল ও জ্বালানি পাঠাতে পারছে।

প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালে ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং দেশের অন্যান্য এলাকা দখল করে নেয় ইরান সমর্থিত হুতিরা। এর পর ২০১৫ সালের মার্চ থেকে গোষ্ঠীটির বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট।