• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২৮ পূর্বাহ্ন

সোনাতলায় মাটির পাটে ভাগ্য ফিরেছে পালদের,মৌসুমে ষাট লাখ টাকা বিক্রির সম্ভাবনা

News Desk
আপডেটঃ : সোমবার, ১ এপ্রিল, ২০২৪

বিকাশ স্বর্নকার, বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়া সোনাতলা উপজেলার বামুনিয়া গ্ৰামের (মৃত শিল্পী)পাল সম্প্রদায়ের লোকজনদের মাটির তৈরি পাট বিক্রিতে ভাগ্য বদলিয়েছে। যদিও এককালে গ্ৰামের বাড়িতে মাটির পাট দিয়ে কুয়া বা ইন্দারা তৈরি হতো তবে সেটি কালের আবর্তে হাড়িয়ে গেছে। কিন্তু বাসাবাড়িতে টয়লেটের কুয়াতে সিমেন্টের পাটের বদলে বসানো হচ্ছে মাটির তৈরি পাট। সে কারণে মাটির পাটের কদরো বেড়েছে বহুগুণে। তবে বামুনিয়া পালপাড়া গ্ৰামে ৩০/৩৫টি পরিবার পৌষ থেকে আষাঢ় মাস এই মৌসুমে মাটির পাট তৈরিতে একেবারেই ব্যস্ত।

তাদের মাটির পাট গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ,ফুলছড়ি,সাঘাটা, বগুড়ার গাবতলী,সারিয়াকান্দি,শিবগঞ্জ হয়ে বিভিন্ন এলাকায় পাইকাররা বেচাকেনা করে।

এদিকে পাইকাররা তাদের চাহিদা অনুযায়ী পাট সংগ্রহে পালদের সাথে আগেভাগেই বন্দোবস্ত করা নিয়ে বেশ ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে। পাইকারদের বেচাকেনার অভিনব কৌশল হিসেবে রঙিন ক্যালেন্ডার ছাপিয়ে হোটেল,চা-দোকান সহ জনবহুল এলাকায় চালাচ্ছেন প্রচার প্রচারণা।

মৃতশিল্পী(পাল)রা জানান,প্রতিদিন একজন কারিগর ২০/৩০টি পাট তৈরি করতে পারে। পালপাড়ায় প্রতিদিন ৪০০/৫০০পাট তৈরি হয়।এদিকে পরিবারের মেয়েরা বসে না থেকে তারাও মাটি দিয়ে দই এর গ্লাস ও পুতুল বানিয়ে বিক্রি করে।পাল পাড়ার বৈদ্যনাথ পাল জানান,আমাদের পুর্ব পুরুষেরা সে সময়ে মাটি দিয়ে রান্নার পাতিল সহ সংসারের ব্যবহারিক নানা ধরনের পণ্য তৈরি করে স্থানীয় হাট বাজারে বিক্রি করতো।

এখন সেগুলো আর চলে না তাই আমরা মাটির পাট বানাচ্ছি। তবে চাহিদা রয়েছে ব্যপক সে অনুযায়ী মাল সরবরাহ করতেই পারছিনা। বর্তমানে মাটির দেখা দিয়েছে চরম সংকট দশ পনের কিলোমিটার দুর থেকে আনতে হয় মাটি।বিভিন্ন এলাকার বেপারী এসে আগেই মালামাল ক্রয়ের জন্য টাকা দিয়ে থাকে। তবে পাটগুলো গন্ডা(৪টা)হিসেবে বিক্রি হয় এবং গন্ডা প্রতি দেড়শ থেকে দু’শ টাকা কিন্তু বর্ষা মৌসুমে আরো বাড়তি দামে বেচাকেনা হয়।

তবে পাইকাররা পাটগুলো গ্ৰামে নিয়ে গন্ডা হিসেবে ৩০০/৪০০ টাকায় বিক্রি করে।তিনি আরো বলেন আবহাওয়া ভালো থাকলে এমৌসুমে পুরা গ্ৰামমিলে ৫০/৬০লাখ টাকার পাট বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে। একই গ্ৰামের গগন চন্দ্র পাল জানান,আগে পা দিয়ে মাটি রিফাইন করা লাগতো বর্তমানে মাটি মেশিনে রিফাইন করে ডাইসে পাট বানিয়ে রৌদ্রে শুকাতে হয়।

শুকানো ১০০টি পাট পুনে সাজিয়ে আগুনে পুরতে হয়। সপ্তাহে আড়াই থেকে তিন হাজার পাট বিক্রি হয়।সরকারি ভাবে সহযোগিতা পেলে এ শিল্পের আরো প্রসার ঘটবে বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ