• বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৩:২৫ পূর্বাহ্ন

পাইকগাছায় ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে

News Desk
আপডেটঃ : মঙ্গলবার, ২১ নভেম্বর, ২০২৩

এ কে আজাদ, পাইকগাছা উপজেলা প্রতিনিধি-(খুলনা):

ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে খুলনার পাইকগাছার বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামারে ক্ষেতের আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টি ও ঝড়ের তাণ্ডবে ধান মাটিতে পড়ে পানিতে ডুবে থাকায় পাকা ও ধানের কুশি ভরা ফুল ঝরে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বীজ উৎপাদনে লক্ষ্য মাত্রা পুরণ না হওয়ার আশংকা করছে খামার কর্তৃপক্ষ।

শুক্রবার ঘুর্ণিঝড় মিধিলির প্রভাবে ঝড়ো বাতাসে খামারের ৫০ একর জমির ধান ক্ষেত লন্ড ভন্ড হয়ে গেছে। ঝড়ের তাণ্ডবে পাকা ধানের ও ধানের কুশি ভরা ফুল ঝরে পড়ে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মাটিতে নুয়ে পড়া ধান পানিতে ডুবে থাকায় পরাগায়ন না হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। এতেকরে ধান চিটা ও ধানের কালো কালো দাগ পড়ার সম্ভাবনা খুব বেশি রয়েছে। তাছাড়া কুশি ভরা ধানের ফুল ঝড়ো বাতাসে পড়ে যাওয়ায় পরাগায়ন না হলে চিটা হয়ে যেতে পারে আশংকা কর্তৃপক্ষের। খামারে আমন ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছিল। উপকূলে অবস্থিত এ খামারটিকে লবন পানিসহ বারেবারে প্রাকৃতিক দূর্যোগ মোকাবেলা করে ফসল ফলাতে হয়।

খামার সূত্রে জানাগেছে, ২০২৩-২০২৪ মৌসুমে খামারে ৬০ একর জমিতে আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। ব্রিধান ৩০ জাতের ৩৪ একর, ব্রিধান ৭৩ জাতের ৪ একর, ব্রিধান ৭৮ জাতের ৪ একর ও বি আর ২৩ জাতের ১৮ একর জমিতে আবাদ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত খামারের ১০ একর জমির ধান কাটা হয়েছে। বাকী ৫০ একর জমির ধান বাতাসে ছড়িয়ে ছিটিয়ে, পানিতে পড়ে ও কুশি ঝরে ব্যপক ক্ষতির মুখে রয়েছে। এমবস্থায় ঝড়ো হাওয়ায় ধানের পরাগায়ন না হলে ধান চিটা হয়ে যেতে পারে।

এ বিষয়ে খামারের সিনিয়র সহকারী পরিচালক কৃষিবিদ নাহিদুল ইসলাম জানান, ঘূর্ণিঝড় মিধিলির তাণ্ডবে চলতি মৌসুমে আমন ক্ষেতের ব্যপক ক্ষতি হয়েছে। খামারে ব্রিধান ৭৩ জাতের ৪ একর পাকা ধান পানিতে পড়ে ও বিআর ৩০ জাতের ৩৪ একর জমির ধান পরিপক্ক, আধাপরিপক্ক ও সবে মাত্র ফুল ফুটতে শুরু করেছে।

এ অবস্থায় ঝড়ো হাওয়ায় ফুল ঝরে যাওয়ায় পরাগায়ন না হলে ধান চিটা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা বেশি রয়েছে। তাছাড়া পুষ্ট না হলে ধান চিটা হবে। ধানের গুনগত মান নষ্ট হবে এতে আশানুরুপ বীজ উৎপাদন হবে না বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তিনি আরও বলেন, ২০২৩-২৪ আমন মৌসুমে ৬০ একর জমিতে ৯২টন বীজ ধানের লক্ষমাত্র হলেও বীজ পাওয়া যেতে পারে ৬৫-৭০ টন। তবে ধান কেটে ঝাড়াই করার পর পরীক্ষা করলে সেটা জানতে পারবেন বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো নিউজ