০১:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

ওয়াশিংটনে এসএএফএনের সিনিয়র ফেলো হলেন রাষ্ট্রদূত আনসারী

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। কূটনীতি, সাংবাদিকতা, জনসেবা ও মানবাধিকার কাজে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, প্রতিষ্ঠানটি এক ঘোষণায় নিয়োগের কথা জানায়।

এসএএফএন চলে দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে। তারা দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিনির্ধারণের নানা বিষয়েও তাদের কাজ আছে। এসব নিয়ে নীতিবিষয়ক আলোচনার আয়োজনও করে তারা। নতুন দায়িত্বে আনসারী এই গবেষণা ও আলোচনায় ভূমিকা রাখবেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আনসারীর অভিজ্ঞতা তাদের কাজ বড় করতে সাহায্য করবে। তিনি জনসেবা, গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে কাজ করেছেন। এতে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সহজ হবে। বাংলাদেশের গবেষক ও পাঠকদের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্লেষণ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

নতুন দায়িত্বে আনসারী দুটি কাজ করবেন। ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়াবেন। বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা, সংলাপ ও অন্যান্য উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবেন।

আনসারীর অভিজ্ঞতা দুই দশকের বেশি। কাজ করেছেন জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সাংবাদিকতায়। এখন তিনি রাষ্ট্রদূত। সিনিয়র সচিবের মর্যাদায় তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন। আগে তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। একই সময়ে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসেও তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলেছেন।

কূটনীতিতে আসার আগে তিনি ওয়াশিংটনে একটি মানবাধিকার সংগঠন গড়েছিলেন। সংগঠনের নাম রাইট টু ফ্রিডম। তিনি এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘে তিনি স্থায়ী সংবাদদাতা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ নিয়েও সাংবাদিকতা করেছেন।

এসএএফএনের সিনিয়র ফেলোদের তালিকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক নাম আছে। তাদের একজন এরিক সোলহেইম। তিনি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী। আছেন থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক। শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান গগন বুলাথসিংহলাও আছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, কৌশলগত অধ্যয়ন, জলবায়ু ও সীমান্তবর্তী নদী নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই নেটওয়ার্কে আছেন।

এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ১২:২০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
০

ওয়াশিংটনে এসএএফএনের সিনিয়র ফেলো হলেন রাষ্ট্রদূত আনসারী

আপডেট: ১২:২০:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্ক বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারীকে সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে। কূটনীতি, সাংবাদিকতা, জনসেবা ও মানবাধিকার কাজে তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতার স্বীকৃতি হিসেবে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, প্রতিষ্ঠানটি এক ঘোষণায় নিয়োগের কথা জানায়।

এসএএফএন চলে দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে। তারা দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ নিয়ে গবেষণা করে। ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নীতিনির্ধারণের নানা বিষয়েও তাদের কাজ আছে। এসব নিয়ে নীতিবিষয়ক আলোচনার আয়োজনও করে তারা। নতুন দায়িত্বে আনসারী এই গবেষণা ও আলোচনায় ভূমিকা রাখবেন।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, আনসারীর অভিজ্ঞতা তাদের কাজ বড় করতে সাহায্য করবে। তিনি জনসেবা, গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে কাজ করেছেন। এতে ওয়াশিংটনের নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়ানো সহজ হবে। বাংলাদেশের গবেষক ও পাঠকদের কাছে দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্লেষণ পৌঁছে দেওয়ার সুযোগও তৈরি হবে।

নতুন দায়িত্বে আনসারী দুটি কাজ করবেন। ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ বাড়াবেন। বাংলাদেশেও প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা, সংলাপ ও অন্যান্য উদ্যোগ এগিয়ে নিতে সহায়তা করবেন।

আনসারীর অভিজ্ঞতা দুই দশকের বেশি। কাজ করেছেন জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সাংবাদিকতায়। এখন তিনি রাষ্ট্রদূত। সিনিয়র সচিবের মর্যাদায় তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত আছেন। আগে তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ছিলেন। একই সময়ে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসেও তিনি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব সামলেছেন।

কূটনীতিতে আসার আগে তিনি ওয়াশিংটনে একটি মানবাধিকার সংগঠন গড়েছিলেন। সংগঠনের নাম রাইট টু ফ্রিডম। তিনি এর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন। হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘে তিনি স্থায়ী সংবাদদাতা ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ নিয়েও সাংবাদিকতা করেছেন।

এসএএফএনের সিনিয়র ফেলোদের তালিকায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অনেক নাম আছে। তাদের একজন এরিক সোলহেইম। তিনি জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক এবং নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী। আছেন থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক। শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান গগন বুলাথসিংহলাও আছেন। এ ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা, কৌশলগত অধ্যয়ন, জলবায়ু ও সীমান্তবর্তী নদী নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞরাও এই নেটওয়ার্কে আছেন।

এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান। তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট।