০৫:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

বুলিংয়ের শিকার প্রতি ১০০ কিশোরীর ৩১ জনই বিষণ্নতায় ভুগছে

নিজস্ব প্রতিবেদক
সাইবার বুলিংয়ের শিকার প্রতি ১০০ কিশোরীর ৩১ জনের মধ্যে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (এমডিডি) বা গুরুতর বিষণ্নতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি কিশোরীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ মাসে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়নি এমন কিশোরীদের তুলনায় এর শিকার কিশোরীদের গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় চার গুণ বেশি। অনলাইনে হয়রানির মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়ে।‘বাংলাদেশি কিশোরীদের মধ্যে সাইবার বুলিংয়ের সঙ্গে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের সম্পর্ক’ শীর্ষক গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট স্প্রিংগার নেচার লিংকে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা জরিপ ২০১৯-২০-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের গবেষকরা।

গবেষণায় ৪ হাজার ৯৮৪ কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাদের ১২ শতাংশের মধ্যে এমডিডির লক্ষণ রয়েছে। আর সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোরীদের মধ্যে এ হার ৩১ শতাংশ।অঞ্চলভেদে সাইবার বুলিংয়ের হারেও পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বরিশালে ১৩ শতাংশ কিশোরী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। এরপর রংপুরে ১১, ময়মনসিংহে ১০, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে ৮ এবং ঢাকায় ৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম হার সিলেটে, ৪ শতাংশ।

বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয় শ্রেণির কিশোরীদের সাইবার বুলিংয়ের প্রধান উৎস অপরিচিত ব্যক্তি। তবে অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বন্ধু বা সহপাঠীদের সম্পৃক্ততাও দেখা গেছে। বিবাহিত বা আগে বিবাহিত কিশোরীদের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনলাইনে হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হলে তা গোপন না রেখে দ্রুত সহায়তা নিতে হবে। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা বা ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটের সহায়তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।তিনি বলেন, সাইবার সহিংসতার কারণে মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। মৃদু সমস্যায় কাউন্সেলিংয়ে উন্নতি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ওষুধ ও কাউন্সেলিং দুই ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা ২০১৮-১৯ অনুযায়ী, দেশের ১৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছে। ডা. হেলাল উদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৯২ শতাংশ চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত।

সাইবার বুলিং প্রতিরোধে গবেষকরা সহজে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং দ্রুত কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ তৈরির সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি কিশোরীদের নিরাপদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন করা, অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০১:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
৮

বুলিংয়ের শিকার প্রতি ১০০ কিশোরীর ৩১ জনই বিষণ্নতায় ভুগছে

আপডেট: ০১:২৩:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সাইবার বুলিংয়ের শিকার প্রতি ১০০ কিশোরীর ৩১ জনের মধ্যে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডার (এমডিডি) বা গুরুতর বিষণ্নতার লক্ষণ পাওয়া গেছে। বাংলাদেশি কিশোরীদের ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ১২ মাসে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়নি এমন কিশোরীদের তুলনায় এর শিকার কিশোরীদের গুরুতর বিষণ্নতায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রায় চার গুণ বেশি। অনলাইনে হয়রানির মাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়ে।‘বাংলাদেশি কিশোরীদের মধ্যে সাইবার বুলিংয়ের সঙ্গে মেজর ডিপ্রেসিভ ডিসঅর্ডারের সম্পর্ক’ শীর্ষক গবেষণাটি ২০২৫ সালের ১২ আগস্ট স্প্রিংগার নেচার লিংকে প্রকাশিত হয়। বাংলাদেশ কিশোর-কিশোরীদের স্বাস্থ্য ও সুস্থতা জরিপ ২০১৯-২০-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষণাটি পরিচালনা করেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য বিভাগ এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের গবেষকরা।

গবেষণায় ৪ হাজার ৯৮৪ কিশোরীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, তাদের ১২ শতাংশের মধ্যে এমডিডির লক্ষণ রয়েছে। আর সাইবার বুলিংয়ের শিকার কিশোরীদের মধ্যে এ হার ৩১ শতাংশ।অঞ্চলভেদে সাইবার বুলিংয়ের হারেও পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বরিশালে ১৩ শতাংশ কিশোরী সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে। এরপর রংপুরে ১১, ময়মনসিংহে ১০, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে ৮ এবং ঢাকায় ৬ শতাংশ। সবচেয়ে কম হার সিলেটে, ৪ শতাংশ।

বিবাহিত ও অবিবাহিত উভয় শ্রেণির কিশোরীদের সাইবার বুলিংয়ের প্রধান উৎস অপরিচিত ব্যক্তি। তবে অবিবাহিতদের ক্ষেত্রে বন্ধু বা সহপাঠীদের সম্পৃক্ততাও দেখা গেছে। বিবাহিত বা আগে বিবাহিত কিশোরীদের ৬ দশমিক ৬ শতাংশ জানিয়েছে, তারা স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছ থেকেও সাইবার বুলিংয়ের শিকার হয়েছে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, অনলাইনে হয়রানি বা সহিংসতার শিকার হলে তা গোপন না রেখে দ্রুত সহায়তা নিতে হবে। ভুক্তভোগীকে দোষারোপ করা বা ‘ভিকটিম ব্লেমিং’ থেকে বিরত থাকতে হবে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ইউনিটের সহায়তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে।তিনি বলেন, সাইবার সহিংসতার কারণে মানসিক সমস্যার সৃষ্টি হলে যথাযথ চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। মৃদু সমস্যায় কাউন্সেলিংয়ে উন্নতি হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে ওষুধ ও কাউন্সেলিং দুই ধরনের চিকিৎসা প্রয়োজন হতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য সমীক্ষা ২০১৮-১৯ অনুযায়ী, দেশের ১৩ শতাংশ কিশোর-কিশোরী বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছে। ডা. হেলাল উদ্দিনের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মানসিক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৯২ শতাংশ চিকিৎসাসেবার বাইরে রয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার সুযোগও সীমিত।

সাইবার বুলিং প্রতিরোধে গবেষকরা সহজে অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং দ্রুত কাউন্সেলিংয়ের সুযোগ তৈরির সুপারিশ করেছেন। পাশাপাশি কিশোরীদের নিরাপদে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সচেতন করা, অভিভাবকদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য সহজলভ্য মানসিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।