০২:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু হতাহত

ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ

সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি তাইওয়ানে আঘাত হেনে দেশটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এতে একজন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাতিল হয়েছে শত শত ফ্লাইট। তবে ঝড়টি ক্রমেই দুর্বল হয়ে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরে এগিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সেখানে ঝড়টির আঘাত হানার সম্ভাবনা কম।

চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি ছিল চাম্পি। একপর্যায়ে এটি সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। তবে এখন দুর্বল হয়ে পড়লেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) রয়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)।

সিডব্লিউএ জানায়, শনিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার (১০৬ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। এদিন ভোরে ঝড়টি ইলানকাউন্টির উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করে। শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে ঝড়টির কেন্দ্র দক্ষিণ দিকে ঘুরে ইলানের উপকূল বরাবর এগিয়ে যায়। পরে সমুদ্রের ওপর বিরল একটি বৃত্তাকার পথ ঘুরে আবার উত্তরের দিকে সরে যায়। উপকূলের কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার (১৪১ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং বহু ঘরের ছাদ উড়ে যায়।

ইলানে নিজের বাগানে উপড়ে পড়া কলাগাছ দেখতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লিন বলেন, ‘মধ্যরাতের দিকে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল। রাতভর ঘুমাতে পারিনি। বহু বছর ধরে এমন কিছু দেখিনি।’ ঝড়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের উপকূল বরাবর উত্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর এটি শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে।

তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ে নিহতের সংখ্যা একজনই রয়েছে। লিউকিউ দ্বীপে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে ওই ব্যক্তি মারা যান। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে আহত হয়েছেন ৫২৭ জন। তাইওয়ান পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, ২ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে অধিকাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে নতুন করে ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আর শুক্রবার বাতিল হয়েছিল প্রায় এক হাজার ফ্লাইট। রাজধানী তাইপেতে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং থেমে থেমে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়েছে। তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকার সরকার শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রীষ্মকালে টাইফুন বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও এ ধরনের ঝড় আঘাত হানতে পারে। চাম্পি চীনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি দল পাঠিয়েছে। রোববার পর্যন্ত প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ৪০০ উদ্ধারকর্মী ও ৬০০টি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি দায়িত্বে রয়েছেন ৪১ হাজারের বেশি দমকলকর্মী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি মাছ ধরার নৌকা বন্দরে ফিরে এসেছে। সমুদ্রের মাছের খামারে কাজ করা কর্মীদের তীরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং দ্বীপগুলোতে থাকা ২ হাজার ৮৪ জন পর্যটককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের ওপর চলমান ২৫টি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করেছে এবং স্থগিত করেছে ১৮টি যাত্রীবাহী ফেরি রুটের চলাচল।

Please Share This Post in Your Social Media

আপডেট: ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
১

আঘাত হানল শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি, ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বহু হতাহত

আপডেট: ০১:৩০:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সাম্প্রতিক সময়ে বহুল আলোচিত শক্তিশালী টাইফুন চাম্পি তাইওয়ানে আঘাত হেনে দেশটির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে। এতে একজন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ঝড়ে গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং বাতিল হয়েছে শত শত ফ্লাইট। তবে ঝড়টি ক্রমেই দুর্বল হয়ে চীনের উপকূলের দিকে উত্তরে এগিয়ে যাচ্ছে। অবশ্য সেখানে ঝড়টির আঘাত হানার সম্ভাবনা কম।

চলতি বছর প্রশান্ত মহাসাগরে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড়গুলোর একটি ছিল চাম্পি। একপর্যায়ে এটি সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। তবে এখন দুর্বল হয়ে পড়লেও ঝড়টির কেন্দ্রে বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় প্রায় ১২৬ কিলোমিটার (৭৮ মাইল) রয়েছে বলে জানিয়েছে তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ)।

সিডব্লিউএ জানায়, শনিবার ঝড়টির কেন্দ্র তাইওয়ান থেকে প্রায় ১৭০ কিলোমিটার (১০৬ মাইল) উত্তর-পূর্বে অবস্থান করছিল। এদিন ভোরে ঝড়টি ইলানকাউন্টির উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করে। শুক্রবার মধ্যরাতের দিকে ঝড়টির কেন্দ্র দক্ষিণ দিকে ঘুরে ইলানের উপকূল বরাবর এগিয়ে যায়। পরে সমুদ্রের ওপর বিরল একটি বৃত্তাকার পথ ঘুরে আবার উত্তরের দিকে সরে যায়। উপকূলের কিছু এলাকায় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটার (১৪১ মাইল) পর্যন্ত পৌঁছায়। এতে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে যায় এবং বহু ঘরের ছাদ উড়ে যায়।

ইলানে নিজের বাগানে উপড়ে পড়া কলাগাছ দেখতে গিয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক লিন বলেন, ‘মধ্যরাতের দিকে সবচেয়ে ভয়ংকর ছিল। রাতভর ঘুমাতে পারিনি। বহু বছর ধরে এমন কিছু দেখিনি।’ ঝড়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, চীনের উপকূল বরাবর উত্তরের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পর এটি শেষ পর্যন্ত দক্ষিণ জাপানের দিকে যেতে পারে।

তাইওয়ানের দমকল বিভাগ জানিয়েছে, ঝড়ে নিহতের সংখ্যা একজনই রয়েছে। লিউকিউ দ্বীপে ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে গিয়ে ওই ব্যক্তি মারা যান। প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টিতে আহত হয়েছেন ৫২৭ জন। তাইওয়ান পাওয়ার কোম্পানি জানিয়েছে, ২ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি বাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তবে অধিকাংশ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

পরিবহন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ের কারণে নতুন করে ২৫৯টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আর শুক্রবার বাতিল হয়েছিল প্রায় এক হাজার ফ্লাইট। রাজধানী তাইপেতে গাছ উপড়ে পড়েছে এবং থেমে থেমে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়েছে। তাইপেসহ উত্তর ও মধ্য তাইওয়ানের বিস্তীর্ণ এলাকার সরকার শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনের মতো অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

গ্রীষ্মকালে টাইফুন বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও এ ধরনের ঝড় আঘাত হানতে পারে। চাম্পি চীনের দিকে এগিয়ে যাওয়ায় দেশটির জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় পূর্বাঞ্চলীয় ঝেজিয়াং প্রদেশে একটি দল পাঠিয়েছে। রোববার পর্যন্ত প্রবল বাতাস ও ভারী বৃষ্টির বিষয়ে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে ৪০০ উদ্ধারকর্মী ও ৬০০টি সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। জরুরি দায়িত্বে রয়েছেন ৪১ হাজারের বেশি দমকলকর্মী।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ঝেজিয়াংয়ের উপকূলীয় শহর তাইঝৌতে ৩ হাজার ৮০০টির বেশি মাছ ধরার নৌকা বন্দরে ফিরে এসেছে। সমুদ্রের মাছের খামারে কাজ করা কর্মীদের তীরে নিয়ে আসা হয়েছে এবং দ্বীপগুলোতে থাকা ২ হাজার ৮৪ জন পর্যটককে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া কর্তৃপক্ষ সমুদ্রের ওপর চলমান ২৫টি নির্মাণ প্রকল্পের কাজ বন্ধ করেছে এবং স্থগিত করেছে ১৮টি যাত্রীবাহী ফেরি রুটের চলাচল।